Sunday, April 26, 2015

শিক্ষকের অহমবোধ


আমার স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন এক জাদরেল অহম সম্পন্ন মানুষ। কাউকে পাত্তা দিতেন না। রাস্তা দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় কখনও মুখ তুলে তাকাতে দেখিনি। জীবনে কোন দিন চায়ের ষ্টলে আড্ডা দেওয়া দুরে থাক কখনও বসতে পর্যন্ত দেখিনি। জীবনে কখনো বাজার করতে দেখিনি। একজন পরিপূর্ণ ব্যেক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হিসাবে দেখেছি উনাকে। কোন mp, চেয়ারম্যান বা প্রভাবশালী কারো সাথে কোন ধরনের মাখামাখি করতে কেউ কখনও দেখেনি। তেমনি ছিলেন আরো কয়েকজন শিক্ষক। বেতিক্রম যে ছিলনা তা নয়। দুএকজন ছিলেন যারা রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত। এরা ঠিকমত ক্লাসে আসতেন না এবং আরো নানা রকম কুকীর্তি।

কলেজেও ছিলেন কিছু শিক্ষক যারা ছিলেন প্রচন্ড অহমবোধ সম্পন্ন। উন্দাদেরকেও কখনও অযথা রাস্তাঘাটে, হাটে বাজারে ঘুরতে দেখিনি। তারা খুব স্বল্পভাষী ছিলেন। বেতন নিশ্চই এখনকার মত কমই ছিল কিন্তু চলাফেরায় তা বোঝার উপায় ছিল না। পেছন ফিরে তাকিয়ে এখন মনে হয় তাদেরকেতো সব সময় একটা কি বড়জোর দুটো শার্টই পড়তে দেখেছি। কিন্তু সব সময় টিপটপ থাকতেন। এটা সম্ভব হয় তখনি যখন মানুষের প্রচন্ড অহমবোধ থাকে।


কিন্তু এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে কি দেখি? অহমবোধ সম্পন্ন মানুষ কোথায়? প্রমোসনের জন্য রাজনীতি, প্রভাবশালী শিক্ষকদের পিছনে লেজুরবৃত্তি, রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তি, দুর্নীতিপরায়ণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি অসহায় আনুগত্য। এসবই হয় বা করে একটু favour পাওয়ার জন্য, একটু আনুকল্য পাওয়ার জন্য। এটা ঠিক যে এখন ভোগবাদের দিন। এখন আর আগের মত ঘরে অভাব অনটন রেখে বাহিরে প্রাচুর্য্য অথবা শুধু ভালো আছি দেখানো সম্ভব নয়। আর আমাদের রাষ্ট্রও চায়না শিক্ষকরা অহমবোধ নিয়ে, সম্মান নিয়ে বাঁচুক। তাইতো তাদের বেতন থেকে শুরু করে কোন রকম আবাসিক পর্যন্ত দিতে এত কার্পন্য। তারপরও বলব আমাদের অহমবোধ থাকতে হবে। আমরা কারো লেজুরবৃত্তি করতে পারি না। কোন দুর্নীতি পরায়নের মুক্তির দাবিতে রাস্তায় নামতে পারি না। শিক্ষকতা অন্য আট দশটা পেশার মত না। দেশের সকল শিক্ষকের মাঝে প্রচন্ড অহমবোধ জাগ্রত হোক। বুক উচিয়ে, শির উচিয়ে চলতে জানুক।

কামরুল হাসান
অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Saturday, April 18, 2015

শিক্ষকতা ও নষ্ট রাজনীতি

Kamrul Hassan

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের VC-কে তার নিজ অফিসে এসে so-called জনগনের ভোটে নির্বাচিত একজন MP তার দলবল নিয়ে শাসিয়ে যান। পৃথিবীর কোথাও, I repeat পৃথিবীর কোথাও এরকম ঘটনা ঘটেছে কিনা আমার জানা নেই। তবে আমার বিশ্বাস বাংলাদেশ ব্যতীত কোথাও এরকম ঘটতে পারে না কারণ বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীতে খুব কম দেশেই MP এত ক্ষমতাবান (warrant অফ precedence-ই তার প্রমান)। MP-দের কাজ হওয়া উচিত শুধু আইন প্রনয়ন করা। আর আমাদের MP-রা ওই কাজে মনোনিবেশ সবচেয়ে কম। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে তাদের কাজ প্রশাসনের কাজে বাঁধা দান, টেন্ডারবাজিতে সহায়তাদান, স্কুল কলেজে নিয়োগ বানিজ্যে এবং দলীয় কেডার নিয়োগে সহায়তা করা, সাধারণ মানুষের এবং সরকারী খাঁস জমি দখল ইত্যাদি করা। তারা ধরা কে সরা জ্ঞান করে।
আর আমরা শিক্ষকরাও এখন তাদেরই আজ্ঞাবহ হয়ে গিয়েছি। শিক্ষাদান অন্য যে কোন পেশা থেকে ভিন্ন। এখানে জ্ঞানের flow-এর ব্যাপার জড়িত। আমরা জানি flow, হউক সেটা fluid বা চার্জ, হতে হলে প্রেসার বা ভোল্টেজ ডিফারেন্স প্রয়োজন। তেমনি জ্ঞানের flow-এর জন্যও একটা সম্মানের ডিফারেন্স প্রয়োজন। ছাত্রদের কাছে শিক্ষক সম্মানের দিক থেকে যত উঁচুতে থাকবে জ্ঞান তত ভালো ভাবে শিক্ষক থেকে ছাত্রের দিকে flow হবে। একজন শিক্ষক যখন ভর দুপুরে বা জনসমক্ষে নির্যাতনের স্বীকার হন তখন সামগ্রিকভাবে শিক্ষকদের উঁচু স্থানটি আরো উঁচুতে না গিয়ে নিম্নে নেমে আসে। আর উঁচু স্থানকে আরো উঁচুতে নেওয়ার দায়িত্ব প্রাথমিকভাবে শিক্ষক শ্রেণী নিজেদের। তার সাথে রাষ্ট্রকেও এই কাজে সাহায্য করতে হবে। শিক্ষকদের বেতন খুবই কম। সত্যি বলতে বাংলাদেশে শিক্ষকদের বেতন পৃতিবীতে সবচেয়ে কম। আর এটাকে কাজে লাগিয়ে যদি শিক্ষকদের কলা মূল ঝুলিয়ে, প্রলোভন দেখিয়ে সরকার নিজেই তাদের লোভাতুর করে তুলে তবে সেই দেশে শিক্ষকদের স্থান আর উঁচুতে কিভাবে থাকে? শিক্ষকরা এখন রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পদ পদবি পাওয়ার জন্য যে কোন নির্লজ্জ কাজ করতেও আপত্তি নেই। মনে আছে আমাদের কোন এক প্রাক্তন VC/প্রো VC কোন এক MP-র নির্বাচনের পর তার বাসায় (কিংবা অফিসে গিয়ে) গিয়ে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে আসে। আবার এখন দেখতে পাচ্ছি আমাদের কিছু শিক্ষক বর্তমান মেয়র নির্বাচনে তাদের নিজ নিজ দলের candidate-এর জন্য জোর ক্যাম্পেইন করছেন। এক সময় সচিবরা ঢাকা বিশ্বদ্যালয়ের VC ফোন করে সচিবালয়ে এসে মিটিং করতে বলার সাহস পেত না। VC-র সাথে মিটিং করতে হলে VC-র কার্যালয়ে এসে মিটিং করতে হত। এটা ওয়ারেন্ট অফ precedence-এর বিষয় না personality ও সম্মানের বিষয়। আর এখনকার VC রা নিয়োগ পাওয়ার আগে lobbing করেন, পাওয়ার পর আবার তাকে ধরে রাখার জন্য lobbing করেন। তাকে সরকারের activist হিসাবে কাজ করতে হয়। বিভিন্ন নিয়োগ বা অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকারের ইচ্ছে অনিচ্ছার দিকে নজর দিতে হয়। তাহলে শিক্ষকরা আর তার সম্মানের আসনে কিভাবে থাকবেন? আমাদের এমন নির্মোহ হতে হবে যে কাউকে VC বানাতে চাইলে উনি না করবেন এবং সরকার অতি অনুনয় অনুরোধ করলে হয়ত পাঁচ জনের মধ্যে একজন রাজি হবেন। তবেই কেউ কোনদিন একজন VC অসম্মানিত করতে সাহস পাবে না। আমরা এখন পর্যন্ত শুনিনি সরকার ওই MP-র বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নিয়েছেন। আর নিবেন বলে মনেও হচ্ছে না।

কামরুল হাসান
অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Tuesday, March 17, 2015

জামাল নজরুল ইসলামঃ বাংলাদেশে সত্যিকারের আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞানী


বাংলাদেশে সত্যিকারের আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞানী ওই একজনই ছিলেন। আর তিনি হলেন জামাল নজরুল ইসলাম। আমরা অনেককেই প্রতিথজশা বিশিষ্ঠ বিজ্ঞানী বলি কিসের ভিত্তিতে আমার ক্ষুদ্র মস্তিস্কে সত্যি ঢুকে না। আমাদের দেশে যার যতটুকু সম্মান পাওয়ার কথা ছিল তা কখনো দেওয়া হয়নি। এই মানুষটিকে যতটুকু সম্মান দেওয়ার কথা ছিল দিয়েছি কি? এই মানুষটির কাছ থেকে যতটুকু নেওয়ার কথা ছিল নিয়েছি কি? মানুষটি এই দেশটিকে প্রচন্ড ভালবাসতেন আর তাইত বিদেশে আরাম আয়েশে থাকতে পারার সমস্ত সুযোগ সুবিধা থাকা সত্যেও দেশে ফিরে এসেছেন। গতকাল 16 March ছিল উনার মৃত্যু দিবস। কোথাও কোন স্মরণ সভা এমন কি রেডিও TV-তে এই বিশেষ দিনের আলোকে কোন অনুষ্ঠান কি হয়েছে? আমার জানা নেই। গুনি মানুষের কদর এই দেশে কখনো হয়নি। কদর করতে না পারার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান সম্ভবত পৃথিবীর সমস্ত রাষ্ট্রের মধ্যে শীর্ষে। তারা সম্মান দেখাতে পারেনি প্রফেসর আব্দুস সালামের মত বিজ্ঞানীকেও। আমরা তাদের থেকে খুব একটা পিছিয়ে নেই। এজন্যই গুনি বিজ্ঞানীর সংখ্যা এদেশে এত কম। প্রায় বন্ধা বলা যায়।

কামরুল হাসান
অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Saturday, March 14, 2015

বিশ্ববিদ্যালয়ে পদোন্নতি ও জার্নালের গুনগত মান

Kamrul Hassan

ধরা যাক বাংলাদেশের কোন এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের প্রমোশন আসন্ন। প্রমোশনের কিছু নিয়ম কানুন আছে। শিক্ষক প্রমোশনের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য কমিটি থাকে সেখানে বিষয় সংশ্লিষ্ট এক্সপার্টও থাকেন। এক সময় এই নিয়ম কানুনগুলো খুব শক্ত ছিল। শুনেছি একসময় এই এক্সপার্টরা ছিলেন বিদেশী কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য শিক্ষক। এই এক্সপার্টরা তাদের মতাতত পাঠাতেন কমিটির কাছে এমনকি তাদেরকে কমিটিতেও রাখা হত। তারা গবেষণা পত্রের আন্তর্জাতিক মান ও অন্যান্য যোগ্যতা impartially যাচাই করতেন। স্বাধীনতার পর থেকে ধীরে ধীরে আমরা এগুলো সব কিছু পরিবর্তন করে ফেলেছি। নিয়োগ কমিটিতে এখন শুধুই দেশী এক্সপার্ট থাকেন। আবার এই দেশী এক্সপার্টদের অধিকাংশ ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনায় অন্তুর্ভুক্ত করা হয়। এই তথাকথিত এক্সপার্টরা কতটুকু এক্সপার্ট সে বিষয়ে মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন থেকেই যায়। এখন গবেষণা পত্র আর আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে হতে হয় না। অবস্থা এখন এমন যে Nature বা Science জার্নালে প্রকাশিত করলে যে ফায়দা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জার্নালে প্রকাশিত করলে ঐ একই ফায়দা। তো এদেশের শিক্ষকরা ভালো কাজ করতে উত্সাহিত হবে কেন? এবং হচ্ছেও না।

যে কথা বলছিলাম। কোন একজন শিক্ষকের যদি প্রমোশন আসন্ন হয় সে তখন কি করে এই বাংলাদেশে? প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়েই তাদের নিজস্ব জার্নাল আছে এমন কি আমাদের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েও। এই জার্নালগুলোর এ জন্যই তৈরী করা হয় যেন আমাদের শিক্ষকরা তাদের প্রমোশনের প্রয়োজনীয় গবেষণা পত্র অতি সহজে প্রকাশিত করে অতি দ্রুত প্রমোশন পেয়ে অধ্যাপক হতে পারেন। ওই জার্নালগুলোর এডিটর সাধারণত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন একজন শিক্ষক। প্রমোশন প্রার্থীর যদি প্রয়োজনীয় সংখ্যক গবেষণা পত্র না থাকে কোন সমস্যা নেই। যতগুলোর ঘাটতি আছে ততগুলো গবেষণা পত্র লিখে এডিটরের কাছে ব্যাক্তিগত ভাবে গিয়ে রিকোয়েস্ট করতে পারলেই এক ইসুতে দুই বা ততোধিক গবেষণা পত্র পাবলিশ করা বা acceptance লেটার নেওয়া সম্ভব। এই acceptance লেটার দিয়েই প্রমোশন হয়েছে এরকম শিক্ষক এই খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক পাওয়া যাবে। এমনটা পৃথিবীতে বিরল। আমরা এমনই। আমরা এরকম বিরল আরো অনেক ক্ষেত্রে।

একটা গল্প বলে বাকি লেখাটা শেষ করতে চাই। ঢাকার কোন এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন এক বিভাগের বেশ কিছু শিক্ষকের প্রমোশন হচ্ছে না প্রয়োজনীয় গবেষণা পত্র নেই বলে। তো তারা সকলে একত্রিত হয়ে তারা তারা মিলে একটা জার্নাল প্রকাশের ডিসিশন নেন। যেই কথা সেই কাজ। প্রথম দুয়েক ইসুতেই তাদের, শুধু মাত্র তাদের, গবেষণা পত্র দিয়ে তাদের যা প্রয়োজন ছিল মিটিয়ে ফেলেন এবং প্রমোশন পেয়ে যান। তারপর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। এটা আবার চালু হয় যখনই কিছু জনের খুব প্রয়োজন হয়। শিক্ষক যদি এমন ছলচাতুরী করে তো এরা আমাদের ভবিষ্যত প্রন্মকে কি শেখাবে?

নিজেদের জার্নাল, নিজেরদের লোক এডিটর এবং রেফারি এগুলো শুধু বাংলাদেশেই সম্ভব। এগুলো করে রিসার্চ-এর মান কখনো ভালো হবে না এবং হচ্ছেও না। কারণ কোন কিছু না করে শুধু কিছু গোজামিল দিয়ে যদি রিসার্চ পেপার হয়ে যায় আর সেইগুলো দিয়েই যদি সব কাজ চলে তো ভালো এবং কষ্টকর কাজ কোন বলদ করবে?

কামরুল হাসান
অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Friday, March 13, 2015

এক বাংলাদেশির অসাধারণ কীর্তি

মোহাম্মদ কায়কোবাদ


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগ কম্পিউটারের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রথম বিভাগ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলকভাবে নবীন। ১৯৮২ সালে যাত্রা শুরু করে এই বিভাগ। মেধাবী ছাত্ররা এই বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুবাদে শুরু থেকেই শিক্ষায় উৎকর্ষ বজায় রেখে চলেছে। ইকরাম হোসাইন আমাদের বিভাগের তৃতীয় ব্যাচের ছাত্র হলেও অনেক কিছুতেই প্রথম। যেমন আমাদের বিভাগ থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং করা স্নাতকদের মধ্যে সে প্রথম পূর্ণ অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে কানাডার ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আমাদের স্নাতকদের মধ্যে সে-ই প্রথম আইইইইর (ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার্স) একাধিক জার্নালের সম্পাদক হয়েছে। পরিশেষে সে-ই প্রথম স্নাতক, যে আইইইইর অত্যন্ত সম্মানজনক ফেলো নির্বাচিত হয়েছে।

আমাদের বিভাগে মাস্টার্স কোর্স করার সময় ইকরামের অধ্যবসায়, একাগ্রতা ও শিক্ষাগবেষণার প্রতি নিবেদন চোখে পড়ে। দিনের যেকোনো সময়ে তাকে ল্যাবরেটরিতে পাওয়া যেত এবং গভীর রাত পর্যন্ত সে কাজ করত।

১৯৯৭ সালে সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি করার পর পারফেক্ট গ্রেড নিয়ে ২০০১ সালে কানাডার ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করে ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করে। স্বীয় কর্মদক্ষতা ও গবেষণা উৎকর্ষ দ্বারা সে সময়ের আগেই সহযোগী অধ্যাপক পদে উন্নীত হয়। ২০১০ সালে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পায়, যখন তার বয়স ৩৭ বা ৩৮-এর বেশি হবে না। কগনিটিভ ও সেলুলার রেডিও নেটওয়ার্কে স্পেকট্রাম ও রিসোর্স ম্যানেজমেন্টে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তাকে আইইইইর ফেলো নির্বাচিত করা হয়।

একজন মানুষ কতটা নিবেদিতপ্রাণ হতে পারে, তা ইকরামের কর্মযজ্ঞ পর্যালোচনা করলেই বোঝা যায়। অধ্যাপক হোসাইন IEEE Communications Surveys and Tutorials-এর মুখ্য সম্পাদক, তা ছাড়া IEEE Journal on Selected Areas in Communications - Cognitive Radio Series and IEEE Wireless Communications-এর একজন সম্পাদক। এ ছাড়া সে IEEE Press ও IEEE Transactions on Wireless Communications-এর সম্পাদনা পরিষদের একজন সদস্য।

কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ে এ পর্যন্ত সে দশটি বই লিখেছে। তার লেখা অনেক গবেষণাপত্রই বিজ্ঞানী সমাজের নজর কেড়েছে এবং অনেকবার উদ্ধৃত হয়েছে। সে আইইইই কমিউনিকেশনস সোসাইটির ডিস্টিঙ্গুইস্ট লেকচারার। ছাত্রজীবন থেকেই উন্নত মানের গবেষণার জন্য নানা পুরস্কারে ভূষিত, যার বিশদ বৃত্তান্ত http://home.cc.umanitoba.ca/~hossaina/ekram_vita.pdf -এ রয়েছে। দেশেও সে একাডেমিক অবদানের জন্য ড. এম এ রশীদ স্বর্ণপদক পেয়েছে ২০০১ সালে।

ভাবতে অবাক লাগে, ১২ বা ১৩ বছর সময়ের মধ্যেই সে ১২৯টি জার্নাল পেপার, দুটি আমেরিকান প্যাটেন্ট, ১৮টি বইয়ের অধ্যায় ও ১৩৮টি কনফারেন্স পেপার প্রকাশ করেছে, উদ্ধৃতি প্রায় ১০ হাজার! বছরের যেকোনো সময়ে ছাপানোর অপেক্ষায় যে পেপারগুলো থাকে, তার তালিকা দেখলেই বোঝা যায় যে সে কী গতিতে কাজ করে। এ পর্যন্ত নয়জন ছাত্রের পিএইচডির কাজ সফলতার সঙ্গে তত্ত্বাবধান করেছে। বর্তমানে সাতজন ছাত্র ও আটজন পোস্টডক্টরাল ফেলো তার তত্ত্বাবধানে গবেষণা করছে। এ পর্যন্ত ১২টি জার্নালের সম্পাদনা পরিষদে কাজ করেছে, তার বেশির ভাগই আইইইইর। এ ছাড়া ১৮টি জার্নালের অতিথি সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছে। প্রায় ২৫টি কনফারেন্স, ওয়ার্কশপের চেয়ার কিংবা কো-চেয়ার হিসেবে কাজ করেছে। কোনো সন্দেহ নেই যে অধ্যাপক ইকরাম হোসাইনের গবেষণা নিশ্চয়ই খুব উঁচু মানের হবে। সাধে তো আর আইইইই তাকে ফেলো নির্বাচিত করেনি, যেখানে আমাদের দেশের একজনও নেই। আমরা যদি শুধু সংখ্যার দিকে তাকাই, তাহলে দেখা যাবে, আমাদের একজন অধ্যাপক হয়তো তার ৫০ ভাগের এক ভাগ কাজ করে না। অন্তত আমার ক্ষেত্রে তা-ই সত্য, যদিও আমি ইকরামের একজন শিক্ষক এবং স্নাতক পর্যায়ে তার থিসিস সুপারভাইজার ছিলাম।

কিছুদিন আগে হাইডেলবার্গ লরেট ফোরামে আমন্ত্রিত হয়েছিলাম, যেখানে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও গণিতের সর্বোচ্চ খেতাবপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ করা হয়েছিল। এই বিষয়গুলোতে নোবেল পুরস্কার নেই বলে কম্পিউটারের টুরিং পুরস্কার ও গণিতের ফিল্ডস মেডালকে নোবেল পুরস্কারের সমতুল্য ধরা হয়। সেই আসরে ভারত কিংবা ভিয়েতনাম থেকে লরেট ছিল, কিন্তু বাংলাদেশ থেকে একজনও নয়, এমনকি প্রবাসী বাংলাদেশিদের থেকেও নয়। আমি কামনা করি, ইকরাম তার প্রশংসনীয় গবেষণা তৎপরতাকে আরও বেগবান করবে এবং আমাদের দেশও ওই আসরে সম্মানের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করবে।

ইকরাম হোসাইনকে আবারও অভিনন্দন। সিএসই পরিবার ও গোটা দেশ তার অর্জনে গর্বিত। জ্ঞান-বিজ্ঞানে গবেষণায় ইকরাম হোসাইন আরও অসাধারণ অর্জন করবে, এই প্রত্যাশায় রইলাম।

মোহাম্মদ কায়কোবাদ: অধ্যাপক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ফেলো, বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস।

Published in: http://www.prothom-alo.com/opinion/article/476113

Thursday, January 8, 2015

স্বল্প সম্মানী ও ডিজিটাল শিক্ষার প্রত্যাশা

মো. আবুসালেহ সেকেন্দার


‘শিক্ষকের জন্য বিনিয়োগ, ভবিষ্যতের বিনিয়োগ’ এবারের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল। প্রশ্ন হচ্ছে, আদৌ কি আমরা শিক্ষকের জন্য কোনো বিনিয়োগ করছি? শিক্ষকদের জন্য বিনিয়োগ বলতে সাধারণভাবে শিক্ষকদের উপযুক্ত সম্মানী ও সুযোগ-সুবিধায় বিনিয়োগ করাকেই বোঝাবে। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৩ বছরে আমরা শিক্ষকদের জন্য তার কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছি? কিন্তু সেই বিনিয়োগ যদি ‘কাজীর গরু খাতায় আছে গোয়ালে নেই’ প্রবাদের মতো কাগজে-কলমে হয় অথবা শিক্ষা দিবসের প্রতিপাদ্যের মধ্যে কেবল সীমাবদ্ধ থাকে; তবে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগও যে ঝুঁকির মধ্যে পড়বে, সে কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

সম্মানের দিক দিয়ে শিক্ষকরা সমাজের উঁচু স্তরের মানুষ— এমন মুলা ঝুলিয়ে আগের মতো শিক্ষকদের সম্মানী প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বঞ্চিত রাখলে শিক্ষাব্যবস্থার কখনই আমূল পরিবর্তন হবে না। প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়— প্রতিটি পর্যায়ের শিক্ষকের ‘নুন আনতে পানতা ফুরায়’ অবস্থার অবসানই কেবল দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের চাবিকাঠি।
২০০৯ সালের বেতন কাঠামো অনুসারে বাংলাদেশের একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রভাষক পদে ১৩৫ ডলার বেতনে চাকরিতে নিযুক্ত হন। একজন অধ্যাপক সর্বোচ্চ বেতন পান ৪১৩ ডলার। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ৪ হাজার ৭৭ ডলারে শিক্ষকতায় নিযুক্ত হলেও একজন অধ্যাপকের সর্বোচ্চ বেতন ৮ হাজার ৩৬৯ ডলার। যুক্তরাজ্যের কথা না হয় বাদ দিলাম, কিন্তু প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের জিডিপির পার্থক্য আকাশচুম্বী নয়। তাই ভারতের একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক যে বেতন পান, এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের তার কাছাকাছি বেতন দাবি করাটা কি অযৌক্তিক? কিন্তু দুর্ভাগ্য এ দেশের শিক্ষক সমাজের। ভারতে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মাসে ৬০ হাজার রুপি; আর একজন অধ্যাপক ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ রূপি পর্যন্ত বেতন পেলেও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ১৩৫ ডলার নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। (টাকার অঙ্কে বেতন বলতে লজ্জা লাগছে। তাই ডলারে বলে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর চেষ্টা করছি!) আমরা যে পাকিস্তানকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বলে প্রতিদিন ১০০ বার গালমন্দ করি, তারাও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সম্মানী প্রদানের ক্ষেত্রে আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে। পাকিস্তানের একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মাসে ২ লাখ ৩ হাজার থেকে ৪ লাখ রুপি পর্যন্ত সম্মানী পান।
বাংলাদেশের কাছাকাছি যেসব দেশের জিডিপি, সেই মধ্য এশিয়ার দেশ কাজাখস্তান, ইথিওপিয়া, আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়া এবং সুদূর আমেরিকা মহাদেশের ব্রাজিলের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন আমাদের থেকে কয়েকগুণ বেশি। ওইসব দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষকরা বেতন পান যথাক্রমে ১ হাজার ৩৭, ৮৬৪, ২ হাজার ৭৫৮ এবং ১ হাজার ৮৫৮ ডলার। আর অধ্যাপকের সর্বোচ্চ বেতন যথাক্রমে ২ হাজার ৩০৪, ১ হাজার ৫৮০, ৬ হাজার ২২৯ এবং ৪ হাজার ৫৫০ ডলার।
শুধু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নন; প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজের শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে অন্য দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতনের আকাশ-পাতাল তফাত। মাধ্যমিক ও কলেজের শিক্ষকদের অবস্থাও একই। আমাদের দেশের শিক্ষকদের কম বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রে যতটা না অর্থনৈতিক সংকট দায়ী, তার চেয়ে বেশি দায়ী উচ্চপর্যায়ে নিযুক্ত ব্যক্তিদের সংকীর্ণ মানসিকতা। বাংলাদেশের মানুষ সাদা পুরনো পাঞ্জাবি গায়ে, ভাঙা ছাতা হাতে, মরচে ধরা হাতলওয়ালা সাইকেলে অথবা কখনো হেঁটে মাইলের পর মাইল গিয়ে ছাত্র পড়ানো ব্যক্তিকেই শিক্ষক বলে জানে। ধরেই নিই, শিক্ষকরা হবেন অতিভদ্র, বিদ্যার ভারে তাদের মাথা নোয়াবে। সাদাসিধে জীবনযাপন করবেন তারা। আর্য, মৌর্য, গুপ্ত, হুন, পাল, সেন, সুলতানি, পাঠান, মোগল, ইংরেজ অথবা স্বাধীন বাংলাদেশে শিক্ষক মানেই চিত্র মানসপটে ফুটে ওঠে। আমরা ভুলেই গেছি শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে অনেক। এখন একজন শিক্ষককে শিক্ষার্থী পড়াতে ইন্টারনেট ঘাটতে হয়। কিন্তু শিক্ষকদের যদি আর্য-মৌর্য যুগের সম্মানী দেই, তবে তাদের পক্ষে কি শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল যুগের উপযুক্ত শিক্ষা দেয়া সম্ভব?
শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল যুগের উপযুক্ত করে গড়তে চাইলে শিক্ষকদের সম্মানীর ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। বৈদিক যুগের গুরু দক্ষিণা ভিক্ষাবৃত্তি দ্বারা শিক্ষকের জীবন নির্বাহ অথবা পাল যুগের বিহারগুলোয় থাকা খাওয়ার বিনিময়ে ছাত্র পড়ানোর ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এখনো বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষকই বৈদিক যুগের মতো গুরু দক্ষিণা নিয়ে অথবা পাল যুগের মতো লজিং থেকে ছাত্র পড়ান। আর যারা সরকারি বেতন পান, তাদের অবস্থাও খুব ভালো, এমন নয়। উচ্চ বাজারমূল্যের যুগে যে বেতন তারা পান, তা দিয়ে মাসের অর্ধেকও চলে না।
সম্মানজনক সম্মানী না পেলেও কোনো সময়ই শিক্ষকদের সম্মানের কমতি হয়নি। প্রায় সব যুগেই শিক্ষকতা মহান পেশা হিসেবে পেয়েছে স্বীকৃতি। এ ডিজিটাল যুগে এসে অবশ্য শুধু সম্মান দিয়ে শিক্ষকদের সংসার আর চলছে না। সারা মাস দোকান থেকে বাকি নেয়ার পর অথবা মাস শেষে বাড়ি ভাড়া দেয়ার মতো যখন পর্যাপ্ত অর্থ থাকে না; তখন একজন শিক্ষকের সম্মান অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত দোকানদার আর বাড়িওয়ালার কাছে বানের পানির মতো ভেসে যায়। তাদের অকথ্য গালিগালাজ আর কটু কথায় শিক্ষকের সম্মান জানালা দিয়ে পালায়।
২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো প্রণয়নের জন্য স্থায়ী পে কমিশন, শিক্ষক নিয়োগের জন্য স্বতন্ত্র কমিশন ও সম্মানজনক সম্মানী প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ২০১০ সালে প্রণীত শিক্ষানীতিতেও শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর কথা বলা হয়েছে। এরই মধ্যে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা দিয়ে অনেক পানি গড়িয়েছে, কিন্তু কোনো প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়ন হয়নি। সর্বশেষ শিক্ষকরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন যে, জাতীয় পে-কমিশন নিশ্চয় শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর কথা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করবে। জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পে-কমিশনের সুপারিশের সারসংক্ষেপ প্রকাশ হলেও সেখানে শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর কোনো উল্লেখ নেই, যা প্রাক-প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রতিটি স্তরের শিক্ষকদের হতাশ করেছে। যদিও নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৬৯তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের ‘অস্ত্র নয়, শিক্ষায় বিনিয়োগ করার’ আহ্বান জানিয়েছেন। আমরাও তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করছি। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর ওই আহ্বানের কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে? পাশাপাশি শিক্ষা খাতে তথা শিক্ষকদের উপযুক্ত সম্মানী প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ প্রদানের জোর দাবি জানাচ্ছি।
পরিশেষে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থীরা শিক্ষকতা পেশায় না আসা পর্যন্ত সরকার যত উদ্যোগই গ্রহণ করুক না কেন, শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন অসম্ভব। একজন ভালো মানের কারিগরের পক্ষেই উচ্চমানের শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। একজন মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষকই শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত শিক্ষা দিতে পারেন। কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীরা তখনই অধিক হারে শিক্ষকতা পেশায় আসবেন, যখন তাদের উপযুক্ত সম্মানী প্রদান করা হবে। তাই সরকারের উচিত প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো চালু করে সম্মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপযুক্ত সম্মানী প্রদান করা।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

Published in: http://www.bonikbarta.com/printpage/preview/24680.html