Showing posts with label গবেষণা. Show all posts
Showing posts with label গবেষণা. Show all posts

Sunday, October 11, 2015

দেশে প্রকৃত গবেষকের কদর কই?

Kamrul Hassan

এই দেশের কজন মানুষ অধ্যাপক মোঃ রহমতুল্লাহকে চেনে? একবার গুগল স্কলারে গিয়ে দেখে আসুন আর চিনে আসুন উনাকে। চমকে উঠবেন যে এত প্রতিকুলতা সত্বেও বাংলাদেশে এমনতর বিজ্ঞানী আছেন। শুনেছি একসময় উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন কিন্তু টিকতে পারেন নি। সম্ভবত টিকতে না পারার সবচেয়ে বড় কারণ বেতন। এরকম প্রতিভাবান আরো অনেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরী ছেড়ে হয় বিদেশে না হয় দেশেরই কোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরী করছেন। এই দেশের কতজন মানুষ ডক্টর মুবারক আহমেদ খানকে চেনে? একবার গুগল স্কলারে গিয়ে দেখে আসুন আর চিনে আসুন উনাকে। চমকে উঠবেন যে এত প্রতিকুলতা সত্বেও বাংলাদেশে এমনতর বিজ্ঞানী আমাদের পরমানু শক্তি কমিসনেই আছেন। অথচ যতটুকু জানি নিজ প্রতিষ্ঠানেই উনার মূল্যায়ন নেই। বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কমিসনে বিজ্ঞানী হিসাবে উনার ধারে কাছেও নেই। ওই প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ব্যক্তি হওয়ার মত যদি কেউ যোগ্য হয়ে থাকেন তো উনি একমাত্র ব্যক্তি। তুলনা করে দেখুন। অথচ বিজ্ঞানী হিসাবে যারা তলানিতে থাকার কথা তারা মন্ত্রনালয় এবং সরকারের আনুগত্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

 অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম যখন জীবিত ছিলেন কতজন মানুষ তাকে চিনত? কতজন মানুষ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে চেনে? কতজন মানুষ আমাদের অধ্যাপক হারুন অর রশিদকে চেনে? এরকম আরো অনেক নাম বলা যাবে যাদেরকে সঠিক মূল্যায়ন করতে এই সমাজ এই রাষ্ট্র পুরোপুরি ব্যার্থ। কষ্ট লাগে অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলামের মত গুনিজনকে আমরা সঠিক ব্যবহার করতে পারিনি। উনার জীবদ্দশায় বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি শিক্ষা কমিসন হয়েছে। আমরা কি পারতাম না উনাকে দিয়ে শিক্ষা কমিসন করতে? ন্যুনতম কোন একটা কমিসনের মেম্বারতো করা যেত? এ পর্যন্ত কোন শিক্ষা কমিসনে কি অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে রাখা হয়েছিল? অধ্যাপক রেহমান সোবহান এখনো জীবিত। উনার মেধাকে কি আমরা সঠিক মূল্যায়ন বা ব্যবহার করছি? গুনিজনের সঠিক মূল্যায়ন এই সমাজে নেই। চারিদিকে শুধু চাটুকারদের জয় জয়কার। খোজ নিয়ে দেখুন করা UGC-তে আছেন, কারা PSC-তে আছেন আর কাদের থাকার কথা ছিল।

বাংলাদেশকে গড়তে হলে দরকার এক ঝাঁক মেধাবী শিক্ষক গবেষক। প্রয়োজনে বাংলাদেশী যারা বিদেশে বিভিন্ন সনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন তাদেরকে উপযুক্ত সম্মান এবং সম্মানী দিয়ে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে এসে তাদের লব্ধ জ্ঞান দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো। যেই কাজটি অনেক আগেই ভারত করেছে এবং অধুনা পাকিস্তান করছে। একবার গিয়ে দেখুন। যেমন অধ্যাপক জাভেদ আশরাফ যিনি ত্রিশ বছরের অধিক আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। পাকিস্তান সরকার হান্ট করে তাদের এক নম্বর বিশ্ববিদ্যালয় Quaid-i-Azam University-র ভাইস চ্যান্সেলর বানিয়েছেন। আর ভারততো এই কাজ অনেক আগেই করেছে এবং তার ফল পেয়েছে এবং পাচ্ছে। শ্রিকান্থ শাস্ত্রী যাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। তিনি একসময় আমেরিকার এক টপ গ্রেডের বিশ্ববিদ্যালয়ের faculty ছিলেন। তাকে ভারতীয় সরকার চেষ্টা করে jawaharlal nehru centre for advanced scientific research সেন্টারে বড় offer এনেছেন। আমরা কেন এরকম করছি না। ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট কমিসনের মত একটা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের কেমন একাডেমিক যোগ্যতা থাকা উচিত আর কেমন চেয়ারম্যান আমরা পেয়েছি। এমন একজনকে পেয়েছি যিনি নিজেই নিজের একটা একাডেমিক CV দিতে লজ্জা বোধ করেন। আমি সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করেও কোথাও পাইনি। উনার একটা পিএইচডি পর্যন্ত নেই। অথচ এটা আশা করা খুব স্বাভাবিক এরকম একটি পেফে যিনি আসীন হবেন তিনি একজন একাডেমিক স্কলার হবেন। এমন একজন হবেন যিনি অনেকের জন্য উদাহরণ হবেন। যিনি অন্যদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিবেন। আমাদের এই বোধদয় কবে হবে?

কামরুল হাসান
অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Wednesday, October 7, 2015

Getting into CS Graduate School in the USA

Emery Berger

After numerous conversations with students applying to CS graduate school from foreign countries (especially India and China), I decided that many of these students do not understand how the admissions process for Computer Science graduate schools in the US works. This is not that undergraduate students in the US know how the system works, it is just that they can typically ask someone locally for good advice.

This is a collection of advice I have given other students and is completely my opinion. Please do not take any of this the wrong way, as some of this can tend to sound obnoxious or self-centered, but I can tell you this based on my own experience of looking at more than 1000 applications to grad school. But still, this is just my opinion.

The bottom line is that what admissions people are looking for is a reliable assessment of whether a student can/wants to do research. There are several indications of this, in this order of importance:

1) Demonstrated research ability. This means published papers in major, international conferences (and journals). IEEE/ACM/USENIX conferences. Publishing in local conferences is not helpful. Publishing in Chinese language journals/conferences is not helpful. Not all conferences are created equal. Also, perhaps internships at very well known research labs (for instance MSR) are good stand ins for this.

2) Letters of recommendation from internationally known academics. There are a few academics at the Indian IITs that are well known in some fields. This means that although letters from your college are required, they may not be very helpful if the person who wrote it is not known in the US. It is very well known in the USA that foreign students often write their own letters and have professors sign them. This makes them mostly useless, unless that person is internationally known and trusted to write their own letters.

If you worked at a company (such as an internship or job) a letter from someone at that company will be necessary (to show that you didn't mess up when you were there), but it will carry less weight than academic letters. They also may not want you to leave and may not have your best interests at heart. Talk to anyone writing you a letter first and see what kind of a letter they will write.

3) A clear statement of your research interests and skills. Do not begin with: "The first time my parents brought home a computer, I knew what I wanted to do with my life". This appears in 50% of all applications. Another 30% begin with some awful, sappy analogy to climbing mountains, playing chess, etc. The other 20% are useful. Be short and to the point. Briefly describe your prior experience, and specifically talk about what kind of research you want to work on. If you have a lot of work experience, you can talk about how you can draw on that experience to fix problems. Read a few papers to get some good ideas. For each school it is helpful to name a few professors who seem to be doing research you are interested in. That way they will read your application. Be careful not to send the wrong statement to the wrong school, I have seen that more times than I should.

4) The college you went to. Americans have traditionally been pretty bad about tracking which are the best Indian/Chinese schools. They definitely know the IITs, Tsinghua etc. but are slowly getting better at knowing the top 15-20 from India and the top 10 from China.

5) Grades/GREs. There is certainly a minimum verbal, but that is usually 500. This is because 1-4 are so much more important than this. Almost everyone has a 750-800 math. Grades and scores do not really tell me if you can do research. You do need to have good grades, but *lots* of applicants have good grades. You need to rise above those people.

A letter from a US academic will probably carry more weight than 1-4. That is just how it is, people want to know something from someone they trust or know. 

You should apply to a good handful of places (6-10). The rankings are one thing to look at, but you should: A) Look at the rankings for specific area that you are interested in (for instance if you do networking you should look at the "systems" rankings). B) Don't believe the rankings. Look at the research that is going on at the places you want to apply to, see if those people are publishing in good places, and see if you might want to work with them. I can tell you that there are many places that are clearly ranked way above their abilities for absolutely no good reason.

Many students from India and China will write professors asking if they can get in, or if they are taking students. They will almost certainly never answer you and it isn't very helpful to write them. I get piles of email from India and China and I ignore almost all of it. We have 700-800 students applying each year and we take <70. After you are accepted, you *should* email professors asking about working with them etc. At that point, they should be willing to talk to you.

Applying for an MS degree and not a PhD says: "I don't really want to do research for very long, really I want you to help me get a job in California" Some places will admit you anyway. UMass now has an MS program for especially talented students. Nonetheless if you are serious about doing research, a PhD program is the best way to go.

After you get in:

Don't go anywhere that doesn't give you guaranteed funding for at least the first year. This will include free (waived) tuition and fees and a stipend that will be $20-25k/year. This is enough to live a comfortable student life in most places in America. Pay attention to how much health care costs, it can be rather expensive, but the "student" health care is usually fine. Some places, for instance some unnamed top schools, will admit lots of students with no money. Do not be lured by a big name school that has no money for you. That is a huge mistake.

Think about where you can live in America (city vs rural, midwest vs coastal). Foreign students don't usually know anything about American geography, nor do they usually care. That is probably a good policy. This can be more important to domestic students. If you have a family/kids you should look at what kind of support the college has for housing, health care, child care etc.

That should about cover it. Yes, you should apply to UMass, but no, I cannot make any promises, nor can I really estimate whether you would get in. There are just a lot of variables at work.


Professor Berger is a co-director of the PLASMA research 

Published in: http://plasma.cs.umass.edu/emery/admission-notes.html

Tuesday, September 15, 2015

মাস্টার্স বা পিএইচডি -- উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্রস্তুতি

Ragib Hasan

(আমার এই লেখাটা তাদের জন্য, যারা বিদেশে পরবর্তিতে মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে আগ্রহী।)

আপনি কি মাস্টার্স বা পিএইচডিতে ফান্ডিং সহ ভর্তি হতে চান?

শিক্ষা ও কর্মসূত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে জড়িত থাকার সুবাদে সেখানকার ভর্তি প্রক্রিয়াকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তার সুবাদে বলতে পারি, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এসব ক্ষেত্রে এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। জনসংখ্যা কিংবা ছাত্রছাত্রীর সংখ্যার হিসাবে বাংলাদেশ নেপাল থেকে অনেক এগিয়ে, ভিয়েতনামের কাছাকাছি। কিন্তু নানা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব দেশের শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক অনেক বেশি। কিন্তু কেনো? অভিজ্ঞতায় যা দেখেছি, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা খুব সহজ কিছু ধাপে মার খেয়ে যায়। আসুন দেখা যাক --

(১) রিসার্চ ব্যাকগ্রাউন্ড -- গবেষণার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক নয় মাস্টার্স কিংবা পিএইচডির জন্য। কিন্তু কারো যদি সেটা থাকে, তার গুরুত্বটা অনেক। সেজন্য আন্ডারগ্রাজুয়েট পর্যায়ে কিছুটা চেষ্টা করে দেখুন। জটিল কিছু করতে হবে না, ইন্টারেস্টিং কিন্তু সহজ কিছু করতে পারেন, যেমন রোবোট, কোনো রকমের সার্ভে, এক্সপেরিমেন্ট ইত্যাদি। মোদ্দা কথা কোনো ছাত্রের সিভিতে যদি দেখি, সে কিছুটা হলেও কাজ করেছে, খুব বড় জায়গায় না হলেও ছোটখাট জায়গায় কিছু পেপার পাবলিশ করেছে, তার গুরুত্বটা ধা ধা করে বেড়ে যায় এডমিশন কমিটির কাছে। সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে একটু চেষ্টা করে দেখুন। (গবেষণায় হাতে খড়িসিরিজে বেশ কিছু পরামর্শ লিখেছি, গবেষণা শুরুর ব্যাপারে, কাজে আসবে হয়তো)।

(২) সঠিক তথ্য জানা -- কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কী বিষয়ে কাজ করছেন, কোন বিষয়ে কাজ করার ফান্ডিং অনেক -- এই তথ্যের মূল্য অনেক। এটা যদি জানেন, তাহলে সেসব বিষয়ে পড়ার আগ্রহ দেখাতে পারেন রিসার্চ বা পারপাস স্টেটমেন্টে। ভারতীয় কিংবা চীনা ছাত্ররা তাদের সিনিয়রদের কাছ থেকে এইটা জেনে বসে থাকে, ফলে প্রতি ইউনিভার্সিটিতে আলাদা করে জায়গামত সঠিক কথাটা তারা লিখতে পারে। একটু উদ্যোগী হন। সিনিয়রদের পটিয়ে পাটিয়ে খবর বের করে নেন।

(৩) লেগে থাকা -- প্রায়ই ভারতের নানা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় বর্ষের ছাত্রদের কাছ থেকে ইমেইল পাই। তারা হয় সামার ইন্টার্নশিপ খোঁজে কিংবা আমার কাজ সম্পর্কে জেনে বুঝে সেই বিষয়ে আগ্রহ দেখায়। এর কারণটা আসলে একটু সুবিধা পাওয়া। পাশ করার পরে উচ্চ শিক্ষার কথা ভাববেন -- সেই সময় আর নাই, অনেক আগে থেকে নিজের উদ্যোগে লেগে থেকে এসব যোগাযোগ স্থাপন করতে হয়। লজ্জ্বার কিচ্ছু নাই, কেবল একটা ইমেইল লিখে গুঁতানোই তো, তাই না?

এ ছাড়াও যেসব ব্যাপার আছে, জিপিএ, টোফেল, জিয়ারি, সেগুলাতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ঘাটতি তেমন নাই। কিন্তু উপরের তিনটা ক্ষেত্রেই তারা পিছিয়ে আছে বহুদূরে। কাজেই মাস্টার্স কিংবা পিএইচডিতে ফান্ড সহ এডমিশন পেতে হলে এই ব্যাপারগুলায় মনোযোগ দেন, কাজে আসবে।

শুভ কামনা রইলো।

Ragib Hasan, Assistant Professor, Department of Computer and Information Sciences University of Alabama at Birmingham.

Monday, August 17, 2015

শিক্ষকসমাজ অবহেলিত কেন

মো. আবদুল মাজেদ পাটোয়ারী
অসির চেয়ে মসি বড়। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। জনৈক দার্শনিক বলেছিলেন, 'আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দিব।' শিক্ষিত জাতি গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা, শিক্ষকের মর্যাদা আমরা ভুলতে বসেছি! জাতি হিসেবে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এ কথা সত্য। আমরা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হচ্ছি। দিন দিন নতুন নতুন স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সমৃদ্ধ হচ্ছে। শিক্ষার অগ্রযাত্রার পেছনে সবার আগে প্রয়োজন শিক্ষক। আর তাকেই কিনা পদে পদে অপমানিত হতে হচ্ছে? এই অপমানের গ্লানি কতদিন সহ্য করতে হবে? কে দেবে এর সদুত্তর?
প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সবক্ষেত্রে আজ শিক্ষকরা বঞ্চিত। কেন? দোষ কি কেবল শিক্ষকদের? যদি শিক্ষকদের হয়, তবে শাস্তির ব্যবস্থা করুন। দোষী ব্যক্তির অবশ্যই আইন অনুযায়ী শাস্তি পাওয়া উচিত। দোষী ব্যক্তিকে শনাক্ত না করে পুরো শিক্ষকসমাজকে একই সঙ্গে দায়ী করবেন, এটা কেমন বিচার? দোষী ব্যক্তি যে-ই হোক, রাষ্ট্রের আইনের কাছে তো সবাই সমান। পরিতাপের বিষয়, অষ্টম পে-স্কেল নামক শব্দত্রয় রাষ্ট্রের শিক্ষকসমাজকে দিন দিন হেয়প্রতিপন্ন করছে, অপরাধী মানসিকতার যন্ত্রণা দিচ্ছে।
অষ্টম পে-স্কেল তৈরির গুরুদায়িত্ব যার হাতে ন্যস্ত হয়েছিল, তিনি কেমন করে যেন বিচারক সাজতে গেলেন। তার বিচারিক দক্ষতায় উঠে এলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যা করে তা হলো অকর্ম, তাদের কাজের মূল্য অন্য সব সরকারি পেশার চেয়ে কম মূল্যের, বিশ্ববিদ্যালয় অনুৎপাদনশীল। সুতরাং তাদের বেতন কমিয়ে দেওয়া উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন ও তার কমিটি তাই করল। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সবার জানা। বিশ্ববিদ্যালয় যদি অনুৎপাদনশীল হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা দিয়ে সারা দেশের প্রতিটি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করার পরিকল্পনা অনর্থক। বিশ্ববিদ্যালয় না করে কলেজ করাই যুক্তিযুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয় হলো গবেষণানির্ভর, আর কলেজ ক্লাসনির্ভর। সরকার যেহেতু গবেষণার পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিতে প্রস্তুত নয়, তাহলে কেন নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয়? নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেখানে কর্মবিমুখদেরই তো পাঠাতে হবে। মাননীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ থাকবে, অন্তত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নীতি নির্ধারণে তিনি যেন প্রথম থেকে সক্রিয় থাকেন। তা না হলে সেখানে শিক্ষকরা তাড়াতাড়ি অধ্যাপক হয়ে যাবেন। তার বাজেট ঘাটতি দেখা দিতে পারে। অর্থমন্ত্রীর কাছে আরেকটি বিনীত অনুরোধ থাকবে, শিক্ষকদের জীবন-মানের ওপর একটি গবেষণা পরিচালনা করা। আমার বিশ্বাস ওই গবেষণায় বাংলাদেশের শিক্ষকসমাজের জীবন-মানের বাস্তবচিত্র ফুটে উঠবে। তারপর না হয় তাদের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।
আমরা উন্নত দেশ গঠনের স্বপ্ন দেখি, কখনো কি আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে উন্নত দেশ, উন্নত কেন? শিক্ষা ও গবেষণা ব্যতীত উন্নত দেশ গঠন কি সম্ভব? বিশ্বের প্রায় সব উন্নত দেশে শিক্ষক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীর বেতন সর্বোচ্চ। এর একমাত্র কারণ, শিক্ষক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলী সম্মিলিতভাবে দেশকে সেবা দেয়, ফলে দেশ উন্নত হয়। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া উন্নত দেশ গঠন অসম্ভব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওমাবা কয়েকদিন আগে দক্ষিণ কোরিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, কারণ সেখানে শিক্ষকদের বেতন ডাক্তারদের চেয়েও বেশি। সরকার যদি আমাদের দেশীয় শিক্ষকদের প্রতি আস্থা না রাখে, তবে সৌদি আরবের মতো বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারেন। নিয়োগ দিয়ে দেখেন, কেবল তখনই আপনাদের উপলব্ধি হবে, দেশীয় শিক্ষকরা কতটা বঞ্চিত। সঠিক সুযোগ পেলে এ দেশের ছাত্র-শিক্ষকরা কী করতে পারে, আজ তা কারও অজানা নয়।
আমাদের ছাত্র-শিক্ষকরা বিদেশি উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে গর্ববোধ করেন। কেন আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচ্চতর ডিগ্রির গুণগত মান বিশ্বমানের করার উদ্যোগ নেওয়া হয় না। কবে আমরা এ দেশে উচ্চতর ডিগ্রি করে ধন্য হবো। উচ্চতর ডিগ্রি নির্ভর করে গবেষণার বিষয়বস্তু ও গুণগত মানের ওপর। মানসম্মত ডিগ্রির জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। আমাদের দেশে উচ্চতর গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগের অভাব রয়েছে। কলা ও সমাজবিজ্ঞান গবেষণায় কিছু কিছু সুযোগ সৃষ্টি হলেও বিজ্ঞান গবেষণায় পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। কোনো কোনো গবেষক তাদের অধিগত বিদ্যা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেন না। অন্যদিকে উচ্চতর গবেষণার জন্য বাজেট খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে বহু গবেষক কোনো রকম বৃত্তি ছাড়াই গবেষণা সম্পাদন করে থাকেন।
পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলতে চাই, জনগণের কল্যাণে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নয়, দেশপ্রেমিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করুন। শিক্ষকদের তাদের প্রাপ্য হিস্যা দিতে আপত্তি কেন? দেশের উন্নয়নে তাদের প্রতিপক্ষ না ভেবে, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন কর্তৃক দাবিকৃত চার দফা বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতা করুন, ধনী দেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখুন। না হলে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আপনাদের কাউকে ক্ষমা করবে না।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, রসায়ন বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
Source:http://www.bd-pratidin.com/editorial/2015/08/18/100607

Wednesday, August 5, 2015

গবেষণায় অর্থ ব্যয় করে না ১০ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়

সাইফ সুজন | ২০১৫-০৮-০৫ ইং


গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, ধারণ ও বিতরণ— এই হলো উচ্চশিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। আর বিষয়ানুগ গবেষণার ক্ষেত্রে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেই প্রত্যাশা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে বিস্তর ফারাক। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গবেষণার চিত্র অত্যন্ত নাজুক। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনই
(ইউজিসি) বলছে, ২০১৩ সালে দেশের মোট ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টিই গবেষণার পেছনে কোনো অর্থ ব্যয় করেনি। আর কোনো গবেষণা প্রকল্প পরিচালিত হয়নি, এমন বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১৫টি। তাই গবেষণাবিহীন শিক্ষার মাধ্যমে সনদধারী শিক্ষিতের সংখ্যা বাড়লেও তৈরি হচ্ছে না দক্ষ জনশক্তি, এমনটাই বলছেন শিক্ষাবিদরা।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. অজয় রায় এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমানে স্লোগানে স্লোগানে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বলা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি। আর দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা প্রকল্প পরিচালিত হয় না বা গবেষণা ক্ষেত্রে ব্যয় বরাদ্দ দেয়া হয় না, সেগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয় বলা যাবে না; সেগুলোর মান কলেজ পর্যায়ের।’
চিকিৎসা ক্ষেত্রে দেশের প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এটি দেশের একমাত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ও। অথচ চিকিৎসা বিষয়ে গবেষণার জন্য ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে কোনো অর্থই ব্যয় করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক রুহুল আমিন ভূইয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে ব্যয় করা না হলেও ইউজিসির উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পের (হেকেপ) বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। এছাড়া বার্ষিক বাজেটে গবেষণা খাতে খুব কম বরাদ্দ দেয় ইউজিসি।
বস্ত্র শিল্পে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়। দেশে পোশাক শিল্পের অগ্রগতির লক্ষ্যে আধুনিক মানের টেক্সটাইল প্রকৌশলী গড়ে তুলতে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠা হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়। ইউজিসি প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। গবেষণা খাতে কোনো ব্যয় ও বরাদ্দও নেই তাদের। তাই বাস্তবায়ন হয়নি কোনো ধরনের গবেষণা প্রকল্প।
গবেষণা খাতে অর্থ ব্যয় না হওয়ার কথা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গবেষণা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান বিষয়। গবেষণা খাতে কোনো অর্থ ব্যয় না হওয়াটা আসলে দৃষ্টিকটু। শিক্ষকরা বিদেশ থেকে গবেষণা করে আসেন। তবে দেশে ফিরে শিক্ষকরা ওভাবে আর গবেষণা করেন না।’
প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন ও গবেষণার জন্য ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠা হয় চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কোষাগার থেকে গবেষণায় কোনো অর্থ ব্যয় করেনি প্রাণিসম্পদ বিষয়ে দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়টি।
গবেষণায় ব্যয় না করার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এস মাহফুজুল বারী বলেন, ইউজিসি বার্ষিক যে বাজেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদন দেয়, তা শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধেই শেষ হয়ে যায়। ফলে মোট বরাদ্দে গবেষণার জন্য আর উল্লেখযোগ্য অংশ থাকে না।
ইউজিসির সর্বশেষ প্রকাশিত ৪০তম বার্ষিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গবেষণা খাতে কোনো অর্থই ব্যয় হয়নি, এমন বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় আরো রয়েছে— ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি), পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি), বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো গবেষণা প্রকল্পও বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া গবেষণায় অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো গবেষণা প্রকল্প পরিচালিত হয়নি।
প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বরাদ্দ, শিক্ষকদের গবেষণার চেয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস গ্রহণ, কনসালট্যান্সি ও প্রেষণে অন্যত্র চাকরির প্রতি আগ্রহ, গবেষণার গুরুত্ব অনুধাবন না করাকেই এর কারণ বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থায় গলদ রয়েছে। সবাই এখন ডিগ্রি অর্জনের দিকে ঝুঁকছে; গবেষণার দিকে নয়। অথচ জ্ঞান সৃষ্টি হয় গবেষণার মাধ্যমে। ঢালাওভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ালেই শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হয় না। শিক্ষকরা বেশির ভাগ সময় শিক্ষাদানে ব্যস্ত থাকেন। অবসরে গবেষণা করার কথা থাকলেও অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিয়ে থাকেন। এছাড়া গবেষণা করার জন্য মানের শিক্ষকের সংখ্যাও অপ্রতুল।’
দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছরই খোলা হচ্ছে নতুন নতুন বিভাগ। বাড়ছে শিক্ষক সংখ্যাও। তবে এর কোনো সুপ্রভাবই দেখা যাচ্ছে না গবেষণা ক্ষেত্রে। অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান নেই। নেই আন্তর্জাতিক মানের কোনো প্রকাশনাও।
ইউজিসির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে গবেষণা খাতে সর্বাধিক ব্যয় করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গবেষণা প্রকল্প পরিচালনায় মোট ২ কোটি ৭২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয় করে এ বিদ্যাপীঠ, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেটের ১ শতাংশেরও কম। দ্বিতীয় সর্বাধিক ১ কোটি ৭২ লাখ ৪২ হাজার টাকা ব্যয় করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। গবেষণা প্রকল্পের দিক দিয়েও এগিয়ে রয়েছে বাকৃবি। এর গবেষণা প্রকল্পের সংখ্যা ১৩৬টি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) গবেষণার জন্য ব্যয় করেছে মাত্র ৫৫ লাখ টাকা। আর বছরজুড়ে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়িত গবেষণা প্রকল্পের সংখ্যা মাত্র ৭। গবেষণা খাতে সবচেয়ে কম বরাদ্দ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯ হাজার টাকা ব্যয় করা হলেও কোনো গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেনি এ বিশ্ববিদ্যালয়।
তবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গবেষণাকে উৎসাহিত করা না হলেও কিছু আগ্রহী শিক্ষক ব্যক্তিগত উদ্যোগে গবেষণাকর্ম পরিচালনা করছেন। এসব গবেষণা বিশ্বের নামকরা জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ ধরনের আগ্রহী শিক্ষক সংখ্যায় কম হলেও প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের গবেষণা খাত আরো সমৃদ্ধ হবে।
Source: http://www.bonikbarta.com/news/details/45094.html

Friday, July 24, 2015

প্রি-প্রিন্ট আর্কাইভের সূচনা- arXiv.org


১৯৯১ সালে পৃথিবীজুড়ে বিজ্ঞানীদের জন্য এক যুগান্তকারী ঘটনা ঘটে। ওই সালে xxx.lanl.govurl এড্রেসে বিজ্ঞানীদের একটি প্রি-প্রিন্ট আর্কাইভের সূচনা হয়। বর্তমানে ওই এড্রেসটি পরিবর্তিত হয়ে arXiv.org হয় এবং এটি মেইনটেইন ও অপারেশনের দায়িত্ব নেয় Cornell University Library। এই আর্কাইভটি বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের মাঝে সাংঘাতিক জনপ্রিয়। Covered areas archive include physics, mathematics, computer science, nonlinear sciences, quantitative biology and statistics। ১৯৯১-এর আগে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইনস্টিটিউট তাদের নিজস্ব প্রি-প্রিন্ট আর্কাইভের ব্যাবস্থা করত। বস্তুতপক্ষে এই প্রি-প্রিন্ট ব্যাবস্থাটা এই জন্য করা হয় যেন অন্যকেউ কারো পরে একই কাজ করে ওই কাজের দাবিদার না হতে পারে। এই ব্যাবস্থা যদি আরো আগে থাকতো তাহলে হয়ত মার্কনি রেডিও আবিস্কারের কৃতিত্ব দাবি করতে পারতেন না। বরং আমাদের জগদীশ চন্দ্র বসুর নামই এই আবিস্কারের সাথে জড়িয়ে যেত। যাহোক এখন সবাই কোন আর্টিকেল কোন জার্নালে প্রকাশের জন্য submit করার পূর্বে এখানে submit করে। একটা দেশ academically বা scientifically কতটুকু এগিয়ে তার একটা litmus test হতে পারে ওই দেশের কতজন বিজ্ঞানী বা শিক্ষক ওখানে রেজিস্টার্ড author বা মাসে ঐখানে কতগুলো আর্টিকেল submit করা হয় সেই সংখ্যা দিয়ে। খুবই আতঙ্কিত হওয়ার বিষয় হলো আমার জানামতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষকদের বা ছাত্রের সংখ্যা আমিসহ ৪-৫ এর বেশি নয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুয়েকজন থাকতে পারে। কিন্তু আমি প্রায় নিশ্চিত দেশের অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এখানে রেজিস্টার্ড author না। আরো আশ্চর্য্যের বিষয় হলো অনেকেই এর নামই শুনেনি কখনো। বাংলাদেশে ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয় থাকা এবং এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর যতজন যোগ্য শিক্ষক কাম গবেষক প্রয়োজন তা কি আছে? কলকাতায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় প্রতিদিন শুধু পদার্থ বিজ্ঞানে একাধিক আর্টিকেল submit করা হয়। অর্থাত ওখান থেকে এক সপ্তাহে শুধু এক বোস সেন্টার বা সাহা ইনস্টিটিউট থেকে যে সংখ্যক আর্টিকেল submit করা আমাদের এখান থেকে তা এক বছরেও করা হয় না!!!

কামরুল হাসান
অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Wednesday, July 22, 2015

বিজ্ঞান গবেষণায় আমরা কেন পিছিয়ে আছি

এস এম মুজিবুর রহমান

২০১৫-১৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট নিয়ে নানা পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে, হচ্ছে ও ভবিষ্যতেও হবে। কিন্তু আমাদের আলোচনার বিষয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গত ২৯ জুন প্রথম আলোর সম্পাদকীয়র শিরোনাম ছিল: ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট’। এতে বলা হয়েছে ১০০-এর কাছাকাছি বিভাগ ও ইনস্টিটিউশনের গবেষণার জন্য ধরা হয়েছে মাত্র সাড়ে চার কোটি টাকা, যা কি না পুরো বাজেটের ১ শতাংশ মাত্র। টাকার এই পরিমাণটা শুধু অপ্রতুলই নয়, একধরনের মশকরা আরকি! প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নাম শুনলে যাঁরা খােমাখাই উদ্বেলিত হন, তাঁরাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বাজেটে খুবই মনঃক্ষুণ্ন² হবেন। যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বাজেটের এই করুণ অবস্থা, সেখানে বাংলাদেশের অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থাটা কেমন হতে পারে সেটা সহজেই অনুমেয়। আর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা বাজেট প্রসঙ্গ না তোলাই ভালো।

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য ডিগ্রি দেওয়া নয়, বরং জ্ঞান সৃষ্টি, নিরন্তর অনুশীলন গবেষণা’ এই লাইনটির সঙ্গে দ্বিমত পোষণের উপায় নেই। তবে গবেষণা বাজেটের পরিমাণ দেখে মনে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আসলেই শুধু ডিগ্রি দেওয়া, সৃজনশীল গবেষণা নয়। এই ধারণা মিথ্যা হলে আমি খুবই খুশি হতাম, কিন্তু সেটা হওয়ার নয়। যাক এবার একটি আনুমানিক সংখ্যায়নে আসা যাক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বাজেট চার কোটি টাকা ও অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বাজেট ২ দশমিক ৫ কোটি টাকা হলে দেশের সর্বমোট ৩৭টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট হবে মাত্র ১২ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা শ্বেতহস্তী বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন ও বিসিএসআইআরসহ অন্যান্য খুচরা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা ও উন্নয়ন বাজেট ৪৮ মিলিয়ন ডলার হলে বাংলাদেশের সর্বমোট গবেষণা বাজেট হবে ৬০ মিলিয়ন ডলার। এখন LHps://em.wikipedia.org/wiki থেকে নেওয়া একটি উপাত্ত থেকে কয়েকটি দেশের তালিকায় নমুনা তুলে দিচ্ছি; এই তালিকায় ১০০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের কোনো স্থান নেই!

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান একটি লজ্জাজনক অবস্থায় আছে।

আজ বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে, এটা আমাদের সবার জন্যই কিছুটা হলেও আনন্দের। তবে গড় আয় আমাদের মতো দরিদ্র দেশগুলোতে অনেকটাই শুভংকরের ফাঁকি বলে ধারণা করি। স্বল্পসংখ্যক ধনী মানুষের আয় আর বিশালসংখ্যক দরিদ্রের আয় গড় হিসাবে চালানোতে বড় ধরনের একটা ফাঁক থেকেই যায়। আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, আজ ১ টাকা গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় করলে আগামী দিনে ১০ টাকার সংস্থান হবে। আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, যাঁরা আমাদের আগামী দিনের পরিকল্পনা তৈরি করেন, তাঁদের বোধের ওপরই নির্ভর করে আমাদের সার্বিক উন্নয়ন।

বাংলাদেশে মেধাবী লোকবলের অভাব নেই। মেধাবী এই লোকবলকে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে মধ্যম আয়ের দেশ হতে আমাদের খুব বেশি সময় লাগবে না, অন্যথায় এটা একটা ফাঁপা স্লোগান হয়েই থাকবে

প্রসঙ্গত, আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী ভারতের উদাহরণ দিই (এটা অনুমান করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই যে ভারত সব দিক দিয়ে আমাদের চেয়ে এগিয়ে আছে, বরং এর কয়েকটি রাজ্যের তুলনায় বাংলাদেশ সব দিক দিয়েই এগিয়ে আছে)। স্বাধীনতা লাভের বহু বছর আগে থেকেই তৎকালীন কংগ্রেস দলীয় ভিত্তিতেই ‘প্ল্যানিং কমিটি’ নামে একটি কমিটি গঠন করে, যা তাদের স্বাধীনতার পর ‘প্ল্যানিং কমিশন’-এ রূপ নেয়। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই উল্লিখিত প্ল্যানিং কমিটির মাধ্যমে নেহরু মোটামুটিভাবে ভারতের ভবিষ্যৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির একটি রূপরেখা ঠিক করে রেখেছিলেন। উল্লেখ্য, ওই কমিটিতে তৎকালীন ভারতের নামকরা পণ্ডিত ব্যক্তিত্বদের আধিক্য ছিল, আমলাদের স্থান প্রায় ছিলই না বলা যায়। যতটা জানা যায়, ভবিষ্যৎ এই রূপকল্পে বিজ্ঞানের গবেষণা ও উন্নয়নে: (ক) ভারতের পারমাণবিক কমিশন গঠন ও এর কার্যক্রম চিহ্নিতকরণ, (খ) আইআইটিগুলোর রূপকল্প তৈরি করা, (গ) খাদ্যে ভারতের স্বনির্ভরতা অর্জন ও (ঘ) বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গবেষণা ও উন্নয়ন রূপকল্পের একটা কাঠামো তৈরি করা। তৃতীয় বিশ্বের একটি উদাহরণ হিসেবে ভারতকেই নেওয়া যেত পারে, যার উন্নয়নে বিজ্ঞান গবেষণা একটি বড় ভূমিকা রেখেছে। বছর কয়েক আগে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির চুক্তি করতে গিয়ে অকপটে বলেছেন, ভারতের সফট ও জাপানের হার্ডওয়্যারের মিলন হলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারব। আজ থেকে ৭০ বছর আগে ভারতের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা বিশ্বপ্রযুক্তিতে একটি প্রজ্ঞাবান রূপকল্পের জন্ম দেয়, যার ফল ভারত আজ ভোগ করছে।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ফিরে আসি। প্রায় সাড়ে ৩৮ বিলিয়ন ডলারের এক বড় আকারের বাজেট দিয়েছে বাংলাদেশ ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের জন্য। নিম্ন মধ্যম আয়ের বাংলাদেশে এই বাজেট নিতান্ত কম নয়। তবে গবেষণা ও উন্নয়নে এই বাজেটের শতকরা কত অংশ ধরা হয়েছে তার সঠিক হিসাব আমার জানা নেই, তবে আমরা এই লেখার গোড়ার দিকে উল্লিখিত তা যদি ৬০ মিলিয়ন ডলার হয়ে থাকে, তবে ৩৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের এই বাজেটের একেবারেই নগণ্য অংশ সেটা। আর ১৫০ বিলিয়ন জিডিপির তুলনায় তা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি!

আমরা জানি, নিম্ন মধ্যম আয়ের এই বাংলাদেশে স্বাভাবিক কারণেই আমাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়। এমন কঠিন বাস্তবতার মধ্যে আমাদের ঠিক করতে হবে আগামী দিনের বাংলাদেশ কোন দিকে যাবে। ২০১৫ সাল শেষ হওয়ার আগেই আমাদের আগামী দিনের রূপকল্পে যেসব বিষয় বিবেচনায় আনতে হবে তা হলো: (ক) বায়বীয় অর্থে নয়, যথার্থেই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে আয়ের উন্নত মানের কৃষি গবেষণা চালু করতে হবে। সাম্প্রতিক কালে পত্রপত্রিকায় পচা গমের খবরে এই সত্যই প্রতিষ্ঠিত হয় যে, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এখনো আমরা হইনি। গোলাভরা ধানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে কৃষি, মৎস্য ও আমিষ খাবারের উৎপাদন যথার্থই বাড়াতে হবে উন্নত মানের গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে। (খ) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অবস্থা ততটা ভালো নয়, যতটা আমরা প্রচার করি। বিশেষ করে বিদ্যুতের জন্য পারমাণবিক শক্তির বিকল্প দেখি না। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ—এসব একান্তই জোড়াতালি, এগুলো দিয়ে ১৬০ মিলিয়ন মানুষের চাহিদা পূরণ হবে না। কাজেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য আমাদের দক্ষ জনবল চাই। এই দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তি ধার করে চলবে না, তা তৈরি করতে হবে আমাদেরই। কিন্তু এই জনবল ও প্রযুক্তি সৃষ্টির কোনো রূপকল্প আমাদের আছে কি? আমাদের বড় আকারের বাজেটে আছে কি তার জন্য কোনো বরাদ্দ? (গ) স্বাধীনতার প্রায় ৪৪ বছর পরও বাংলাদেশের একশ্রেণির মানুষ হাঁচি-কাশির চিকিৎসার জন্য উড়ে যাচ্ছেন ব্যাংকক-সিঙ্গাপুর। কেন আমরা পারিনি চিকিৎসাক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরি করতে? গবেষণা-উন্নয়নে কী পরিমাণ বাজেট ধরা আছে চিকিৎসাক্ষেত্রে? সরকারের উচ্চপর্যায়ের ও উচ্চ আয়ের মানুষেরা যেখানে উচ্চমূল্যে বিদেশে সুচিকিৎসা পাচ্ছেন, সেখানে সাধারণ মানুষের কথাও ভাবতে হবে। (ঘ) ৫০ বছর আগে ভারত তাদের আইআইটিগুলো চালু করে যে রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় রেখেছে, আজ তার ফল তারা পাচ্ছে। ভারতের আইআইটি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটির গ্র্যাজুয়েটদের প্রায় এক পাল্লায় মাপা হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৪ বছর পার হওয়ার পরও কি আমাদের এই রাজনৈতিক প্রজ্ঞার উদয় হবে না? (ঙ) আজ বাংলাদেশে ৩৭টি সরকারি ও ষাটেরও বেশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। আমরা ধরে নিই, আমার উল্লিখিত (ক থেকে ঘ) বিষয়ে গবেষণা ও উন্নয়নের মূল ভূমি হলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তরুণ ও প্রবীণ গবেষকদের একটি মিলনক্ষেত্র কি ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ (এনআইএসটি) নামের বহুমুখী গবেষণাগার করা যায় না, যেখানে গবেষকেরা আসবেন, প্রশিক্ষণ নেবেন ও দেবেন বছরব্যাপী? ইতালির ত্রিয়েস্তে শহরে আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে অধ্যাপক আবদুস সালাম বিজ্ঞানের বিশেষ শাখায় গবেষকদের যে মিলনক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছেন, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো আজ তার সুফল পাচ্ছে। একই রূপকল্পে সদিচ্ছা থাকলে আমরাও পারি জাতীয় পর্যায়ে এমন একটি প্রতিষ্ঠান করতে, যা আমাদের ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে বিজ্ঞান গবেষণায় এগিয়ে নেবে।

আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে মেধাবী লোকবলের অভাব নেই। মেধাবী এই লোকবলকে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে মধ্যম আয়ের দেশ হতে আমাদের খুব বেশি সময় লাগবে না, অন্যথায় এটা একটা ফাঁপা স্লোগান হয়েই থাকবে।

এস এম মুজিবুর রহমান: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, সুলতান কাবুস বিশ্ববিদ্যালয়, মাসকাট, ওমান।

Published in: http://www.prothom-alo.com/opinion/article/581587

Thursday, July 16, 2015

After 85-year search, massless particle with promise for next-generation electronics discovered

Morgan Kelly
An international team led by Princeton University scientists has discovered an elusive massless particle theorized 85 years ago. The particle could give rise to faster and more efficient electronics because of its unusual ability to behave as
matter and antimatter inside a crystal, according to new research.
The researchers report in the journal Science July 16 the first observation of Weyl fermions, which, if applied to next-generation electronics, could allow for a nearly free and efficient flow of electricity in electronics, and thus greater power, especially for computers, the researchers suggest.
Proposed by the mathematician and physicist Hermann Weyl in 1929, Weyl fermions have been long sought by scientists because they have been regarded as possible building blocks of other subatomic particles, and are even more basic than the ubiquitous, negative-charge carrying electron (when electrons are moving inside a crystal). Their basic nature means that Weyl fermions could provide a much more stable and efficient transport of particles than electrons, which are the principle particle behind modern electronics. Unlike electrons, Weyl fermions are massless and possess a high degree of mobility; the particle's spin is both in the same direction as its motion — which is known as being right-handed — and in the opposite direction in which it moves, or left-handed.
"The physics of the Weyl fermion are so strange, there could be many things that arise from this particle that we're just not capable of imagining now," said corresponding author M. Zahid Hasan, a Princeton professor of physics who led the research team.
Hasan
An international team led by Princeton University scientists has discovered Weyl fermions, elusive massless particles theorized 85 years ago that could give rise to faster and more efficient electronics because of their unusual ability to behave as matter and antimatter inside a crystal. The team included numerous researchers from Princeton's Department of Physics, including (from left to right) graduate students Ilya Belopolski and Daniel Sanchez; Guang Bian, a postdoctoral research associate; corresponding author M. Zahid Hasan, a Princeton professor of physics who led the research team; and associate research scholar Hao Zheng. (Photo by Danielle Alio, Office of Communications)
The researchers' find differs from the other particle discoveries in that the Weyl fermion can be reproduced and potentially applied, Hasan said. Typically, particles such as the famous Higgs boson are detected in the fleeting aftermath of particle collisions, he said. The Weyl fermion, however, was discovered inside a synthetic metallic crystal called tantalum arsenide that the Princeton researchers designed in collaboration with researchers at the Collaborative Innovation Center of Quantum Matter in Beijing and at National Taiwan University.
The Weyl fermion possesses two characteristics that could make its discovery a boon for future electronics, including the development of the highly prized field of efficient quantum computing, Hasan explained.
For a physicist, the Weyl fermions are most notable for behaving like a composite of monopole- and antimonopole-like particles when inside a crystal, Hasan said. This means that Weyl particles that have opposite magnetic-like charges can nonetheless move independently of one another with a high degree of mobility.
Weyl
A detector image (top) signals the existence of Weyl fermions. The plus and minus signs note whether the particle's spin is in the same direction as its motion — which is known as being right-handed — or in the opposite direction in which it moves, or left-handed. This dual ability allows Weyl fermions to have high mobility. A schematic (bottom) shows how Weyl fermions also can behave like monopole and antimonopole particles when inside a crystal, meaning that they have opposite magnetic-like charges can nonetheless move independently of one another, which also allows for a high degree of mobility. (Image by Su-Yang Xu and M. Zahid Hasan, Princeton Department of Physics)
The researchers also found that Weyl fermions can be used to create massless electrons that move very quickly with no backscattering, wherein electrons are lost when they collide with an obstruction. In electronics, backscattering hinders efficiency and generates heat. Weyl electrons simply move through and around roadblocks, Hasan said.
"It's like they have their own GPS and steer themselves without scattering," Hasan said. "They will move and move only in one direction since they are either right-handed or left-handed and never come to an end because they just tunnel through. These are very fast electrons that behave like unidirectional light beams and can be used for new types of quantum computing."
Prior to the Science paper, Hasan and his co-authors published a report in the journal Nature Communications in June that theorized that Weyl fermions could exist in a tantalum arsenide crystal. Guided by that paper, the researchers used the Princeton Institute for the Science and Technology of Materials (PRISM) and Laboratory for Topological Quantum Matter and Spectroscopy in Princeton's Jadwin Hall to research and simulate dozens of crystal structures before seizing upon the asymmetrical tantalum arsenide crystal, which has a differently shaped top and bottom.
The crystals were then loaded into a two-story device known as a scanning tunneling spectromicroscope that is cooled to near absolute zero and suspended from the ceiling to prevent even atom-sized vibrations. The spectromicroscope determined if the crystal matched the theoretical specifications for hosting a Weyl fermion. "It told us if the crystal was the house of the particle," Hasan said.
The Princeton team took the crystals passing the spectromicroscope test to the Lawrence Berkeley National Laboratory in California to be tested with high-energy accelerator-based photon beams. Once fired through the crystal, the beams' shape, size and direction indicated the presence of the long-elusive Weyl fermion.
First author Su-Yang Xu, a postdoctoral research associate in Princeton's Department of Physics, said that the work was unique for encompassing theory and experimentalism.
"The nature of this research and how it emerged is really different and more exciting than most of other work we have done before," Xu said. "Usually, theorists tell us that some compound might show some new or interesting properties, then we as experimentalists grow that sample and perform experiments to test the prediction. In this case, we came up with the theoretical prediction ourselves and then performed the experiments. This makes the final success even more exciting and satisfying than before."
In pursuing the elusive particle, the researchers had to pull from a number of disciplines, as well as just have faith in their quest and scientific instincts, Xu said.
"Solving this problem involved physics theory, chemistry, material science and, most importantly, intuition," he said. "This work really shows why research is so fascinating, because it involved both rational, logical thinking, and also sparks and inspiration."
Weyl, who worked at the Institute for Advanced Study, suggested his fermion as an alternative to the theory of relativity proposed by his colleague Albert Einstein. Although that application never panned out, the characteristics of his theoretical particle intrigued physicists for nearly a century, Hasan said. Actually observing the particle was a trying process — one ambitious experiment proposed colliding high-energy neutrinos to test if the Weyl fermion was produced in the aftermath, he said.
Hasan2
Hasan (pictured) and his research group researched and simulated dozens of crystal structures before finding the one suitable for holding Weyl fermions. Once fashioned, the crystals were loaded into this two-story device known as a scanning tunneling spectromicroscope to ensure that they matched theoretical specifications. Located in the Laboratory for Topological Quantum Matter and Spectroscopy in Princeton's Jadwin Hall, the spectromicroscope is cooled to near absolute zero and suspended from the ceiling to prevent even atom-sized vibrations. (Photo by Danielle Alio, Office of Communications)
The hunt for the Weyl fermion began in the earliest days of quantum theory when physicists first realized that their equations implied the existence of antimatter counterparts to commonly known particles such as electrons, Hasan said.
"People figured that although Weyl's theory was not applicable to relativity or neutrinos, it is the most basic form of fermion and had all other kinds of weird and beautiful properties that could be useful," he said.
"After more than 80 years, we found that this fermion was already there, waiting. It is the most basic building block of all electrons," he said. "It is exciting that we could finally make it come out following Weyl's 1929 theoretical recipe."
Ashvin Vishwanath, a professor of physics at the University of California-Berkeley who was not involved in the study, commented: "Professor Hasan's experiments report the observation of both the unusual properties in the bulk of the crystal as well as the exotic surface states that were theoretically predicted. While it is early to say what practical implications this discovery might have, it is worth noting that Weyl materials are direct 3-D electronic analogs of graphene, which is being seriously studied for potential applications."
The team included numerous researchers from Princeton's Department of Physics, including graduate students Ilya Belopolski, Nasser Alidoust and Daniel Sanchez; Guang Bian, a postdoctoral research associate; associate research scholar Hao Zheng; and Madhab Neupane, a Princeton postdoctoral research associate now at the Los Alamos National Laboratory; and Class of 2015 undergraduate Pavel Shibayev.
Other co-authors were Chenglong Zhang, Zhujun Yuan and Shuang Jia from Peking University; Raman Sankar and Fangcheng Chou from National Taiwan University; Guoqing Chang, Chi-Cheng Lee, Shin-Ming Huang, BaoKai Wang and Hsin Lin from the National University of Singapore; Jie Ma from Oak Ridge National Laboratory; and Arun Bansil from Northeastern University. Wang is also affiliated with Northeastern University, and Jia is affiliated with the Collaborative Innovation Center of Quantum Matter in Beijing.

The paper, "Discovery of Weyl fermions and topological Fermi arcs," was published online by Science on July 16. The work was supported by the Gordon and Betty Moore Foundations Emergent Phenomena in Quantum Systems (EPiQS) Initiative (grant no. GBMF4547); the Singapore National Research Foundation (grant no. NRF-NRFF2013-03); the National Basic Research Program of China(grant nos. 2013CB921901 and 2014CB239302); the U.S. Department of Energy (grant no. DE-FG-02-05ER462000); and the Taiwan Ministry of Science and Technology (project no. 102-2119-M- 002-004).
Source:http://www.princeton.edu/main/news/archive/S43/64/59M11/index.xml?section=topstories

Thursday, July 2, 2015

দল ও নিয়োগ নৈরাজ্যে বিশৃঙ্খল উচ্চশিক্ষা

শরীফুল আলম সুমন
উচ্চশিক্ষার সার কথা গবেষণা। অথচ এ খাতই সবচেয়ে অবহেলিত, বরাদ্দও নামমাত্র। বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের লেখাপড়া পুরোপুরি মুখস্থবিদ্যা-নির্ভর। শিক্ষাবিদদের মতে, গবেষণাহীন উচ্চশিক্ষা কোনো শিক্ষাই নয়। রাজনীতি শেষ করে দিচ্ছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। উপাচার্য ও শিক্ষক নিয়োগ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি সবটাতেই দলবা
জির চূড়ান্ত। ফলে লাগাতার অশান্তিতে লেখাপড়া লাটে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাহীনদের দাপট। বেশির ভাগই সনদ বিক্রির দোকান যেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ধুঁকছে সেশনজটে। শিক্ষার মান তলানিতে। সব মিলিয়ে উচ্চশিক্ষায় বিশৃঙ্খলা চরমে। আর এসব দেখার দায়িত্ব যাদের, সেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ঠুঁটো জগন্নাথ।
উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষক আন্দোলনের মুখে গত ২৩ এপ্রিল দুই মাসের ছুটিতে যান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক আমিনুল হক ভূঁইয়া। ২২ জুন ফিরেই তিনি নতুন প্রক্টরিয়াল কমিটি অনুমোদন করেন। ওই দিন বিকেল পর্যন্ত তাঁকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষকরা। ২৩ জুন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ও উপাচার্য ভবনে তালা ঝোলানো হয়। আন্দোলনরত 'মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ'-এর সদস্যরা পরের দুই দিন উপাচার্য ভবনের সামনে ব্যানার টানিয়ে বসে থাকেন। ছাত্রছাত্রীরাও এ নিয়ে দুই ভাগ। ওই চার দিনই বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া বলে কিছু ছিল না।
আন্দোলনরত শিক্ষক পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক সৈয়দ সামসুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'উপাচার্য কথা দিয়েছিলেন দুই মাসের ছুটি কাটিয়ে এসেই পদত্যাগ করবেন। কিন্তু তিনি সে পথে যাননি। উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এর মধ্যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার দায় তাঁকেই নিতে হবে।' তবে উপাচার্য আমিনুল হক ভূঁইয়া জানিয়েছেন, শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা হলেও চূড়ান্তভাবে তিনি কিছু বলেননি।
গত ২৩ জুন থেকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একদল শিক্ষার্থী টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে আন্দোলন করে। তারা ওই দিন উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালককে ভিসি কার্যালয়ে জিম্মি করে। পরদিন শিক্ষকদের আবাসিক এলাকা অবরুদ্ধ এবং রাতে একাডেমিক ভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ ২৫ জুন দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) কর্মকর্তা-কর্মচারী পদে চাকরিপ্রত্যাশী ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক নেতাদের দাবির মুখে ইবি প্রশাসন জিম্মি হয়ে পড়েছে। প্রশাসন ভবন, ভিসি অফিস ও অন্যান্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় গত ২২ জুন থেকে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ২৪ জুন একটা সমঝোতা হলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি।
গত এপ্রিলে দিনাজপুরের হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে নিহত হয় দুই ছাত্র। মে মাসে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণ যায় আরেক ছাত্রের। এভাবে প্রতি মাসেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। রাজনীতিতে পিছিয়ে নেই শিক্ষকরাও। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫তম সিন্ডিকেট সভায় পদোন্নতি ও শিক্ষাছুটি-সংক্রান্ত নীতিমালা অনুমোদন না হওয়ায় সম্প্রতি অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল শিক্ষক সমিতি। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, শেরে বাংলা কৃষিসহ একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের আন্দোলনে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন উপাচার্যরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ হয় মূলত রাজনৈতিক পরিচয় আর স্বজনপ্রীতির ওপর ভিত্তি করে। এ কারণে শিক্ষকরাও লেখাপড়ার চেয়ে রাজনীতিতেই মনোযোগী বেশি। আর শিক্ষার্থীরাও শিক্ষকদের পক্ষে নয়তো বিপক্ষে অবস্থান নেয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনও (ইউজিসি) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক অসন্তোষ চরমে। তাঁদের নানা দাবি-দাওয়ার কারণে প্রায়ই অচলাবস্থা তৈরি হয়। একান্তই প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে শিক্ষক অসন্তোষের ফলে শিক্ষা কার্যক্রম লাটে ওঠে।
জানতে চাইলে ইউজিসির সদস্য (পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোহাব্বত খানের কণ্ঠেও শোনা গেল হতাশার কথা। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, 'একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ওপরের দিকে যিনি থাকেন, তাঁর মানই যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের মান বাড়বে কিভাবে? শিক্ষকরা নিজ বিশ্ববিদ্যালয় বাদ দিয়ে ব্যস্ত থাকেন কনসালট্যান্সি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে। আর শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি আর দুর্নীতি তো নিয়মে পরিণত হয়েছে। গ্রন্থাগারে যে বই আছে, তা শিক্ষক-ছাত্ররা ধরেও দেখেন না। মঞ্জুরি কমিশন এসব ব্যাপারে কোনো ভূমিকাই রাখতে পারে না। আমরা শুধু সুপারিশ করি। এখন কেউ যদি তা না শোনে, তাহলে কী করার আছে?'
আন্দোলন তেমন একটা না থাকলেও অনিয়মে অনেক এগিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। গাজীপুরের কাজী আজিম উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলতাব হোসেন ভুয়া ডক্টরেট ডিগ্রি ব্যবহার করছেন গত বছরের মে মাস থেকে। বিষয়টি নজরে এলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিরীক্ষা ও পরিদর্শন অধিদপ্তর তদন্তে নেমে দেখতে পায়, তিনি আমেরিকা ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়েছেন। অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়ার অনুমতি নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ বিশ্ববিদ্যালয় এখন পর্যন্ত প্রায় চার হাজার ডিগ্রি বিক্রি করেছে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে দেড় থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত। আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এক হাজার পিএইচডি ডিগ্রি বিক্রি করেছে। এই পাঁচ হাজার ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রিধারী বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। ইউজিসির কাছেও এখন ৫০টি ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রির প্রমাণ রয়েছে। শুধু তাই নয়, পড়ালেখা না করিয়েই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও দিচ্ছে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এশিয়ান ইউনিভার্সিটির চতুর্থ সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের কাছ থেকে এক হাজার ৫৩১ জনকে সনদ প্রদানের অনুমতি নেওয়া হয়। কিন্তু এর বাইরেও অতিরিক্ত ছয় হাজার ২০ জনকে অননুমোদিতভাবে ডিগ্রি দেওয়া হয়। পঞ্চম সমাবর্তনে চার হাজার ৭০৯ জনের স্থলে ১০ হাজার ২২৬ জনকে সনদ প্রদানের প্রস্তুতি নেওয়া হলে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ওই অনুষ্ঠান বর্জন করেন। ২০০৯ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টির আর কোনো সমাবর্তন হয়নি। অথচ এ ছয় বছরে আরো প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করেছেন। দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ও গত ২০ বছরে শতাধিক ক্যাম্পাসের মাধ্যমে বিক্রি করেছে হাজার হাজার ডিগ্রি। গত বছরও টিআইবি এক প্রতিবেদনে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সনদ বিক্রির অভিযোগ তোলে।
নিয়ম আছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকের সংখ্যা সার্বক্ষণিক শিক্ষকের এক-তৃতীয়াংশের বেশি হতে পারবে না। অথচ টিআইবি গত বছর এক প্রতিবেদনে বলেছে, কাগজে-কলমে শিক্ষকদের কোটা পূরণ দেখানো হলেও বাস্তবে তা নেই। পূর্ণকালীন শিক্ষকের চেয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। শুধু শিক্ষকদের সিভি সংরক্ষিত রাখা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নত দেখাতে ক্ষেত্রবিশেষে শিক্ষকদের না জানিয়েও তাঁদের সিভি ব্যবহার করা হয়। নিজের দক্ষতা প্রমাণে শিক্ষকরাও ভুয়া পিএইডি ডিগ্রি ব্যবহার করেন। আবার অযোগ্যদেরও শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। কম যোগ্যকে বিভাগীয় প্রধান করারও প্রমাণ আছে। ফলে মানসম্মত শিক্ষা সোনার হরিণ।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আবুল কাশেম হায়দার বলেন, 'বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক আসলে ব্যবসার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খুলেছেন। আইনে অলাভজনক থাকায় তাঁরা সরাসরি টাকা নিতে না পারলেও ঘুরিয়ে নিচ্ছেন। তবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পারিবারিক সদস্য নিয়ে ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করে লাগামছাড়া ফি বাড়াচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি আরো দায়িত্বশীল হলে এ স্বেচ্ছাচারিতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।'
উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ২০ লাখই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তহীন সমস্যা। চার বছরের অনার্স কোর্স শেষ হতে পেড়িয়ে যায় সাড়ে ছয় বছর। ডিগ্রি ও মাস্টার্সেও লেগে আছে দীর্ঘ সেশনজট। ইউজিসিই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে তাদের সর্বশেষ এক প্রতিবেদনে। তাতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত দুই হাজারেরও বেশি কলেজ সম্পর্কে খোঁজখবর রাখা বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষে একটি দুরূহ কাজ। সেশনজট উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। অধিভুক্ত বেশির ভাগ কলেজে একাদশ থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এতে সমস্যা হচ্ছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে কারিকুলাম প্রণয়ন এবং পরীক্ষার ব্যবস্থা করে। তবে শিক্ষক নিয়োগ ও বদলিতে এর কোনো ভূমিকা নেই। এর ফলে শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণহারা।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, 'জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কোর্সে প্রতিবছর ৩০ থেকে ৪০ হাজার শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণি পাচ্ছে। অথচ পাঠ্যসূচির বাইরে তারা কিছুই জানে না। এমনও দেখা যায়, ১০ থেকে ১৫টা প্রশ্ন পড়লেই তার মধ্যে পাঁচটি প্রশ্ন কমন পড়ছে। তাই পুরো বই পড়ার তাগিদ থাকে না তাদের। বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া কি এভাবে হয়? পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগই নতুন। সেখানে নিয়োগ হয় লবিংয়ে। গবেষণা বা পিএইচডি করা শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না। গবেষণা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা কোনো শিক্ষাই নয়।'
ইউজিসির অধীন ২০০৯ সাল থেকে দুই হাজার ৫৪ কোটি টাকায় উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্পের (হেকেপ) কাজ শুরু হলেও তা কাজে দিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষাবিদরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে এ টাকা বরাদ্দ দিয়ে তা ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে উপাচার্যদের বিরুদ্ধে। তবে হেকেপ প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাঝেমধ্যে সেমিনার করা হয়। আর এই প্রকল্পের টাকা ব্যয়ে পিছিয়ে নেই ইউজিসিও। এর অধিকাংশ কর্মকর্তাই এই প্রকল্পের টাকায় বিদেশ ঘুরে বেড়ান।
বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার জায়গা হলেও মূলত মুখস্থবিদ্যাতেই সীমাবদ্ধ উচ্চশিক্ষা। এমনকি স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীও ইংরেজিতে কথা বলতে পারে না। ফলে গ্র্যাজুয়েটের সংখ্যা বাড়লেও চাকরির বাজারে তারা ঢুকতে পারছে না। দেশের বিশ্ববিদ্যালগুলোতে গবেষণায় বরাদ্দ খুবই কম। ২০১৩-১৪ সালে সর্বাধিক দুই কোটি ৭২ লাখ ৭০ হাজার টাকা গবেষণায় খরচ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর বুয়েট করেছে ৫৫ লাখ, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম নয় লাখ টাকা করে। সবচেয়ে কম খরচ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যান্য বেশির ভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ব্যয় পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকার মধ্যে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশেই গবেষণায় ব্যয় দুই-চার লাখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টিতে গবেষণায় এক টাকাও খরচ করেনি। এর মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কৃষি এবং টেক্সটাইলভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাই আটটি। ৬৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৪২টির কোনো গবেষণা প্রকল্প নেই। ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বাবদ কোনো বরাদ্দই নেই।
জানতে চাইলে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. এ কে এম শাহানাওয়াজ বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি ঢোকায় মেধাবীদের কদর নেই। যারা রাজনীতি করে শিক্ষক হন, তাঁরা ক্লাসে না গিয়ে রাজনীতির পেছনে ঘোরেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব মেধাবীদের হাতে না এলে মান বাড়ার সুযোগ নেই। আর বিশ্ববিদ্যালয় তো স্কুল-কলেজ নয়। এটা গবেষণার জায়গা। অথচ আমাদের এখাতে তেমন কোনো বরাদ্দই নেই। ফলে উচ্চশিক্ষা চলছে গবেষণাহীন।'
Source:http://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2015/07/02/240292

Wednesday, July 1, 2015

পড়ালেখায়ও কর দিতে হবে!

আলী ইমাম মজুমদার
অলংকরণ: মাসুক হেলালরাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অর্থ আবশ্যক। এ অর্থের প্রধান উৎস জনগণের দেওয়া কর। সেই কর কোথা থেকে আসবে আর ব্যয় হবে কোথায়, তা চূড়ান্ত করার দায়িত্ব আমাদের সংবিধান জাতীয় সংসদকে দিয়েছে। ধরে নেওয়া যায়, আয় হবে অধিকতর সক্ষমদের কাছ থে
কে। আর রাষ্ট্রযন্ত্র সচল রাখা এবং এর কল্যাণধর্মী চরিত্র বা বৈশিষ্ট্যের চাহিদা অনুযায়ী হবে ব্যয়। সংবিধানের প্রস্তাবনায়ও ‘অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য’ নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যে শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বিবেচনা করা যায় যে শিক্ষার প্রসারে রাষ্ট্রের সহায়তা থাকবে সর্বতোমুখী। এর জন্য ব্যয় করবে সামর্থ্য অনুসারে। অবশ্য গোটা শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক ব্যয়ভার আমাদের মতো দেশের সরকারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। এই ব্যয়ের অংশীদার হতে হবে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকেও। তা–ই হয়ে চলছে দীর্ঘকাল যাবৎ। প্রয়োজনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না হলেও এ ব্যবস্থাই আমাদের সমাজে ক্রমান্বয়ে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে অবদান রাখছে। এই ব্যয়কে একটি সামাজিক বিনিয়োগ বলেই বিবেচনা করা হয়। তাই এ খাতে করারোপ করে অর্থ সংগ্রহের প্রচেষ্টা রাষ্ট্রের মূলনীতির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা ভেবে দেখার বিষয়।
উল্লেখ্য, ৪ জুন ঘোষিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের আয়ের ওপর ১০ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর আরোপের প্রস্তাব করেছিলেন। পরে সাড়ে ৭ শতাংশ বহাল রাখা হয়। তাঁর মতে, শিক্ষাসহ অন্যান্য সামাজিক খাতে অধিকতর বিনিয়োগের জন্য এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কর সংগ্রহ করা যৌক্তিক। আলোচনা প্রাসঙ্গিক যে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর করারোপ করা হলেও তা আদায় করা হবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই। সংসদে প্রতিনিধিত্বের ধরনে বিভিন্ন দল থাকলেও মূলত কার্যকর কোনো বিরোধী দল নেই। সে কারণে প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে সংসদে কেউ সোচ্চার হননি। তবে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে পত্রপত্রিকায়। এর সমর্থক কারও মতে, সচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরাই এসব প্রতিষ্ঠানে পড়ছেন। তঁাদের আরেকটু বেশি ব্যয় করা অসংগত হবে না। তবে প্রায় বিনা মূল্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও প্রকৌশল কলেজের চাহিদার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ আসন থাকলে এত অধিক টাকা ব্যয় করে খুব কমসংখ্যকই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পথে চলতেন। কেউবা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেশন জট, মন্দ ছাত্র রাজনীতিসহ কোনো কোনো কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন। তাঁদের সেই যাওয়াও যৌক্তিক। এর জন্য তাঁরা দিচ্ছেন চড়া মাশুল। আবার কর দেবেন কেন এবং কী যুক্তিতে?
যতটুকু জানা যায়, এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৮৩টি, শিক্ষার্থী আছেন সাড়ে চার লাখ। তেমনি ৬৬টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আছেন ২০ হাজার ছাত্রছাত্রী। তাঁদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করার দায়িত্ব তো ছিল রাষ্ট্রের। তা করা হলো না। বরং উল্টো কর বসিয়ে আরও ব্যয়বহুল করে পথের বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিকেল কলেজে উচ্চ–মধ্যবিত্ত শ্রেণির পাশাপাশি নিম্ন–মধ্যবিত্ত শ্রেণিরও প্রচুর ছাত্রছাত্রী রয়েছেন। সরকারের কোনো ব্যয় ছাড়াই তাঁরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট রয়েছেন। এতেও বাধা! এর নৈতিক দিকটি কোথায় তা বোঝা দুর্বোধ্য। পাশাপাশি এই স্তরে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীরা প্রায় বিনা মূল্যে পড়ছেন। তা পড়ুক। সরকারের সামর্থ্য থাকলে সেখানে আরও ব্যয় করা উচিত। সে দাবিও সবাই করেন। তবে যাঁরা সেগুলোতে পড়তে পারেন না বা পড়েন না কোনো না কোনো কারণে, তাঁদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ কেন?
বলা হয়, বেসরকারি এসব প্রতিষ্ঠান অযৌক্তিক হারে ছাত্র-বেতনসহ অন্যান্য ফি নিচ্ছে। অভিযোগ অনেকাংশে সত্য হতে পারে। আর তা ঠেকানোর জন্য তো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও সরকার রয়েছে। তা না করে এ ধরনের করারোপ তো ছাত্রছাত্রীদের বোঝা আরও বাড়াল। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গুটি কয়েক উঁচু মানসম্পন্ন। তবে বেশির ভাগই নয়। আর সেসব প্রতিষ্ঠানে কিন্তু খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করছেন অনেক ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরাই। আর মানের এই দুর্বলতা দূর করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো ভূমিকাই তো লক্ষণীয় হয় না। সেদিন শিক্ষাসচিব রাজধানীর দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করে মন্তব্য করলেন—একটি ভালো স্কুলের সুযোগ-সুবিধাও এগুলোতে নেই। তিনি সাহস করে সত্য কথা বলেছেন। তবে এদের পরিচালনার অনুমতি কারা দিল? আর সময়ান্তরে নবায়ন করছে কারা? নিজ ক্যাম্পাসে যাওয়ার একটি সময়সীমা একবার বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া সিংহভাগ ক্ষেত্রেই তেমন কিছু হয়নি। কিছুই হয়নি, যারা আদেশকে মানল না তাদের। সময়ান্তরে পরিদর্শন ও ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকর দায়িত্বও নিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে। তাদের জনবল বা অন্য কোনো সক্ষমতার অভাব থাকলে তা দূর করতে হবে জরুরি ভিত্তিতে। জানা যায়, আরও শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আবেদন বিবেচনাধীন আছে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ক্ষেত্রে এতৎসংক্রান্ত দায়িত্ব স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং এফিলিয়েটিং বিশ্ববিদ্যালয়ের। নামকাওয়াস্তে রোগী নিয়ে একটি হাসপাতাল জরাজীর্ণ কিছু যন্ত্রপাতি নিয়েই শুরু করছে চিকিৎসা শিক্ষার ন্যায় জটিল কাজ। অনুমোদন ও সময়ান্তরে নবায়নও হয়। ডিগ্রি নিয়ে বের হন শিক্ষার্থীরা। আর এ দোষ তো তাঁদের নয়। যাদের এ অব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করার কথা, তাদের। সেই অক্ষমতার মাশুল দেবেন ছাত্রছাত্রীরা, এটা কোনো যুক্তি হতে পারে না।
১৯৯২ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের মাধ্যমে এসব বিশ্ববিদ্যালয় অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। ঠিক তেমনি বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোও। এখানে ব্যয়ের অতিরিক্ত আয় উদ্যোক্তা, ট্রাস্টি বা বোর্ড সদস্যরা কেউ ভাগাভাগি করে নিতে পারেন না। তা ব্যয় করতে হয় ভবন নির্মাণ, গবেষণাগার ও পাঠাগার সম্প্রসারণ, শিক্ষকদের বর্ধিত বেতন-ভাতা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া ইত্যাদি কাজে। কেউ তা না করে বাঁকা পথে নিতে চাইলে তা ঠেকানোর দায়িত্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থার। সেই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা জোরদার করা হলে এমনটা হবে না। তবে প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি সরকারের সময়ে কয়েকটি ব্যতিক্রম বাদে তাদের সমর্থিত ব্যক্তিদেরই এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে দেওয়া হয়। সরকার পরিবর্তনের পর পরিচালনা পর্ষদের হয় কিছু চেহারা বদল। এমনকি বদলে যায় প্রতিষ্ঠানটির নাম। এই সুবিধার বিষয় মাথায় রেখে এমন নাম বদল বারবার হচ্ছে, এমনটাই দেখা যায়। তাদের কার্যক্রমের ওপর কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের ওপর কর বসিয়ে কিছু টাকা আয় হলেও এগুলোর মানে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার কোনো কারণ নেই। এমনিতেই আমাদের দেশে শিক্ষায় বিনিয়োগ কম বলে অভিযোগ রয়েছে। তার মধ্যেও যেটুকু বেসরকারি বিনিয়োগ আসছে, তার ওপর কর বসানোয় তা–ও নিরুৎসাহিত হবে।
কোনো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর কর আরোপ অযৌক্তিক। এটা সংবিধান প্রদত্ত আমাদের শিক্ষা লাভের অধিকারের পরিপন্থী। তা সত্ত্বেও সরকার তা করে চলেছে। কিছুকাল আগে থেকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর ছাত্রছাত্রীরা সাড়ে ৭ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর দিয়ে যাচ্ছে সরকারকে। তবে ২০১০ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর সাড়ে ৪ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব, প্রতিবাদের মুখে সরকার তুলে নিতে বাধ্য হয়েছিল। এ বছর বর্ধিত হারেই কর আরোগিত হলো। যুক্তরাষ্ট্রের মতো পুঁজিবাদী দেশে প্রায় সব ক্ষেত্রেই করের ছড়াছড়ি। সেখানেও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অলাভজনক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রয়ে গেছে করের আওতার বাইরে।
বরং তারা সেবামূলক সংস্থাগুলো থেকে কিছু ছাড় পায়। দিতে হয় না পৌর কর। এটা বিবেচনায় নেওয়া দরকার যে সরকারের এসব শিক্ষার্থীর জন্য যে অর্থ ব্যয় করার কথা ছিল, তা করতে হচ্ছে না। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ সেই দায়িত্ব পালন করছে। সেখানে তো তাঁরা আশা করতেই পারেন সরকারি সহায়তা। করের বোঝা নয়। পড়ালেখা করতেও যদি কর দিতে হয়, তা সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠায় সাংবিধানিক অঙ্গীকারের পরিপন্থীই হবে।
আলী ইমাম মজুমদার: সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
majumder234@yahoo.com

Tuesday, June 30, 2015

দেশের স্বপ্নে বিশ্ববিদ্যালয়, রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু ও অষ্টম বেতন স্কেল

ফিদা হাসান
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা ‘এসোসিয়েশন অফ কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি’র অর্থায়নে সম্প্রতি পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষনায় সারকথা হিসাবে বলা হয়েছে, ‘সম্ভবত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাই বৃহদাকারে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে, আর বিশ্ববিদ্যালয়ই প্রতিটি পরিবর্তনের জন্য প্রধান নিয়ামকের ভূমিকায় ছিলো।’ উন্নত বিশ্ব এমন কি উন্নয়নশীল বিশ্বের উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা তাই অনস্বীকার্য।

ইতিহাস বলে, তেরশো শতকের দিকে যুক্তরাজ্যর শাসকেরা যখন কেমব্রিজের মত বিশ্ববিদ্যালয় নির্মান করেছিলো মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার শাসকেরা তখন নির্মান করতো উপাসনালয়। সময়ের পরিক্রমায় এখন সেই কেমব্রিজ হয়েছে আধুনিক মানুষের তীর্থস্থান।
দেশ হিসাবে বাংলাদেশ অপেক্ষাকৃত নবীন তাই বিভিন্ন অসুবিধার পাশাপাশি সুবিধাও কিন্তু অনেক, আমরা চাইলে অন্যের অভিজ্ঞতার আলোকে কাজ করতে পারি যেটা সবসময় নবীনদের জন্য একটা এডভান্টেজ। কিন্তু দুর্ভাগা এই দেশ বলতেই হয়, তা না হলে এই সুযোগ কাজে না লাগিয়ে যে বোকামিটা আমরা করছি তার জন্য পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আমাদের দায়ী থাকতে হবে নিঃসন্দেহে।
উন্নত বিশ্বের প্রতিটি দেশ তাদের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেন্দ্র করেই ঘটনার আবর্ত তৈরি করে। এই যেমন, বিভিন্ন দেশের রেওয়াজ আছে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হয়ে প্রথম বক্তৃতা তিনি দেন কোন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে, কিংবা কোন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান অন্য দেশে পরিদর্শনে গেলে সেই দেশের কোন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা করেন। এমনই ঘটনার ধারাবাহিকতায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা করেছে, ( যদিও এই বক্তৃতার ব্যবস্থা শুধুমাত্র জনাব নরেন্দ্র মোদীর অভিপ্রায়ে হয়েছে তা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রশাসনের উদাসীনতা দেখে সহজে অনুমেয়।) কিন্তু বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সেভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না, বরং সাম্প্রতিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রের ক্ষতিকর উদাসীনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই হতে পারতো আমাদের স্বপ্ন গড়ার কারখানা। কেননা এটাই সত্য, এই বাংলাদেশের জন্মই হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে, ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯ এর গন অভ্যুথান, ৭১-এর স্বাধীনতা, ৯০ এর স্বৈরাচার পতন কিংবা হালের ২০০৮ এর অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সবই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু এবং এর ঘটনা প্রবাহ ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রীক। যুদ্ধ বিগ্রহ শেষে স্বাধীনতা উত্তর সত্যিকারের দেশ গড়ায় তাই বিশ্ববিদ্যালয়ই পারে প্রধান ভূমিকা রাখতে। আমাদের শুরুটাও কিন্তু ঠিক তেমনটাই ছিলো। কিন্তু ধীরে ধীর সব কিছু বুর্জয়াদের অধিগ্রহনে চলে যাচ্ছে, যা ভয়াবহ কিছুর নির্দেশক।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে শুরুর ঘটনা বলতে গেলে বলতে হয়, জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক স্বাধীনতা তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্বশাষনের আইন জাতীয় সংসদের পাশ করান যেটা ৭৩-এর অধ্যাদেশ নামে বহুল পরিচিত। কথিত আছে ড. কামাল হোসেন তখন বিরোধীতা করেছিলেন, তিনি বঙ্গবন্ধুকে বোঝাতে চেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জবাবদিহিতার ভিতরে আনতে হবে। প্রতিউত্তরে বঙ্গবন্ধু তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিমায় ধমকে বলেছিলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা তাদের বিবেকের কাছে জবাব দিবে, তাদের আর কোন দায়বদ্ধতার প্রয়োজন নেই’।
যদিও উপরিউক্ত বিষয়টি আমার শোনা কথা, আমি চাক্ষুষ ঘটনাপ্রবাহ দেখি নি। তবে আমি যেটা দেখেছি তা থেকে ঘটনার সত্যতা নিরুপন করতেও কিন্তু বেগ পেতে হয় না।
একটু লক্ষ করে দেখুন, বঙ্গবন্ধু তার দুই কন্যাকে বিবাহ দিয়েছেন কাদের সাথে (আমাদের সমাজে তখন বিবাহ দেওয়ার রীতি যেমন ছিলো বিশেষত মেয়ের ক্ষেত্রে)। তিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তুলে দিয়েছিলেন একজন পরমানু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার হাতে । আর তার ছোট মেয়ে শেখ রেহানাকে তিনি বিবাহ দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শফিক আহমেদ সিদ্দিকীর সাথে। গাড়িতে ফ্লাগ উড়িয়ে চলা মন্ত্রী, আমলা কিংবা বড় ব্যবসায়ীরা যে তখন ছিলো না, ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। ব্যাপারটা হচ্ছে ভিশন বা দর্শন। তিনি ছিলেন তার জন্ম দেওয়া দেশের ভিশিয়নারী, স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনিই তার মেয়ে জামাই পছন্দের মধ্য দিয়ে নিঃসন্দেহে দেশকে নিয়ে তার ভিশন ফুটিয়ে তুলেছিলেন।
অথচ সময়ের কি নির্মম পরিহাস, এখন আমরা হরহামেশাই দেখতে পাই ইচ্ছামতো এটা সেটাকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বেশ কিছুদিন আগে অনলাইন পত্রিকায় দেখেছিলাম কোন এক মন্ত্রী নাকি বাংলাদেশে সেলুলার ফোনের তৃতীয় প্রজন্মের ব্যবহারকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিলো বলে আখ্যায়িত করেছে। তথ্যের সত্যতা জানি না, তবে আশেপাশের পরিস্থিতি দেখে মিথ্যা বলে একবাক্যে উড়িয়েও দিতে পারি না। এখানে উল্লেখ্য যে, সেলুলার ফোনের প্রথম প্রজন্মেরই সৃষ্টি হয় বঙ্গবন্ধু প্রয়াত হওয়ারও ৪ বছর পর (১৯৭৯-এ)। একইভাবে রাস্তাঘাটে বিভিন্ন পোস্টার ফেস্টুন দেখতে পাই, পাড়ার বখাটে ছেলেটার ছবি সেই সাথে তার মনগড়া কোন কথা হিসাবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন। সম্প্রতি একটি ভিডিওতে দেখেছিলাম, জনাব ওবায়দুল কাদের বলছেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর ছবির পাশে চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারীর ছবি দেখে বিব্রতবোধ করেন। যা আমার উপরোক্ত অবজারভেশনকেই নির্দেশিত করে। এভাবে সব সুযোগ সন্ধানীরা দেশটাকে বিপথগামী করেছে, এখনও করে যাচ্ছে যা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বাধীনভাবে কিছু লোক সত্য সন্ধান করুক, সত্য কথা বলুক তা সুযোগ সন্ধানীরা কখনোই চায় নি। সেই পরিক্রমায় আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর আঘাত করে কন্ঠ রোধ করতে চাইছে তারা।
কথিত আছে, আধুনিক মালয়েশিয়ার স্থপতি মাহাথির মহাম্মদ তার দেশ সেবায় আসার পর পর-ই নিজে নিজের ব্যক্তিগত ফোন দিয়ে বিভিন্ন দেশে গবেষনারত মেধাবী মালয়শিয়ানদের দেশে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করতো। এরকম একজন মালয়শিয়ানের একটি কলাম পড়েছিলাম, তিনি লিখেছিলেন, গভীর রাতে তিনি একটা ফোন পান, ফোনের ওপাশ থেকে পরিচয় আসে তিনি তার দেশের প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মহাম্মাদ, এরপর প্রধানমন্ত্রী তাকে দেশে ফিরে যাবার অনুরোধ করেন। তিনি লিখেছিলেন, মাহাথির এই কাজটি এতটাই আবেগ দিয়ে করতো যে তিনি ভুলে যেতেন যাকে ফোন দিচ্ছেন সেখানে এখন রাত না দিন। সেই মালয় লোকটি ফোন পাবার এক মাসের ভিতর সব গুছিয়ে নিজের দেশে ফিরে যান। আর এমন অসংখ্য ফোন আর মেধাবীদের ফিরে যাওয়াই আজ আধুনিক মালয়শিয়া সৃষ্টির রহস্য যা বোঝার জন্য বেগ পেতে হয় না। মাহাথিরের ছিলো ভিশন বা স্বপ্ন, আর তার বাস্তবায়নের কারিগর ছিলো মেধাবীরা।
দুর্ভাগা এই জাতি, স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরেও মনে হচ্ছে একজন স্বপ্নদৃষ্টা অভিভাবকের অভাবে আমরা পথ হারা, তাই নিজের দেশ ছেড়ে উত্তাল সমুদ্রে ডিঙ্গি নৌকা করে সেই মাহাথিরের দেশে যেতে প্রান দেই, কিন্তু আমাদের জীবন এমন না হলেও পারতো, এক শেখ মুজিব কিন্তু ৪৪ বছর আগে সেই স্বপ্নই দেখেছিলেন যা মাহাথির তার দেশে করেছিলেন বাস্তবায়ন। বাংলাদেশ বড়ই অভাগা, যখনই একজন সপ্নচারী এসেছে আমরা তাকে সরিয়ে দিয়েছি। কাউকেই হাল ধরতে দেইনি।
অষ্টম বেতন স্কেল এক সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনার ফল, শুধুমাত্র এক শ্রেনীর লোক তাদের হীনমানসিকতা চরিতার্থ করতে এই পরিকল্পনার আশ্রয় নিয়েছে যা নিঃসন্দেহে জাতির জন্য অন্ধকার কিছু। এটা পরিবর্তন না করে এভাবে রেখে দিলে মেধাবীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় আসবে না, সেই সাথে স্বাধীন মানুষ তৈরি হবে না যারা জাতি্কে সংকটে পথ দেখাবে। এটা হবে ১৪ই ডিসেম্বরের মত আরো একবার বুদ্ধিজীবি হত্যা, এবং সৃষ্টির জরায়ুকে চিরতরে নষ্ট করে দেওয়া। যা কাম্য নয়, কোনভাবেই নয়।
-ব্রিসবেন, অস্ট্রেলিয়া থেকে
লেখক: সহকারি অধ্যাপক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
Source: http://goo.gl/BrCH8r

Saturday, June 27, 2015

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা

Kamrul Hassan

একটা দেশে কতজন ছাত্র মাস্টার্স করছে আর তার কত অংশ পিএইচডিতে এনরোল হচ্ছে সেটাও শিক্ষার মানের একটা লিটমাস টেস্ট বা ধারণা সুচক হতে পারে। বাংলাদেশে এত এত বিশ্ববিদ্যালয় এত এত ছাত্র কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ছাত্র সত্বেও পিএইচডি ছাত্র প্রায় নেই বললেই চলে। আর পোস্ট-ডক নামে কিছু বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে বলেই মনে হয় না। কেউ এটার প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করে বলে মনে হয় না। পিএইচডি এবং পোস্ট-ডক ব্যেতিত উচ্চ শিক্ষা এবং গবেষণা ভাবাই যায় না। আমার বয়সের, আমার মত একজন অধ্যাপকের থাকা উচিত ছিল কমপক্ষে একজন পোস্ট-ডক এবং দুইজন পিএইচডি ছাত্র। এখন একজন ছাত্র কি পিএইচডি করবে বাবার পয়সায়? না। তারজন্য সরকারকে একটা ভালো মানের ফেলোশিপ দিতে হবে। ন্যুনতম ৩০০০০ টাকা যেন তাকে সংসার চালানোর চিন্তা করতে না হয়। বাহিরের দেশে যেমন ভারতের একজন পিএইচডি ছাত্র ফেলোশিপ পায় ৪৫০০০ টাকা। আমি যদি ভারত থেকেও এক বা দুইজন পোস্ট-ডক পেতাম তাহলে বাংলাদেশ বসেই ভালো গবেষণা করা যেত।


আমাদের দিন একজন পোস্ট-ডক আর দুইজন পিএইচডি ছাত্র তারপর দেখুন এই দেশে ভালো মানের গবেষণা হয় কিনা। পোস্ট-ডক্টরাল position দিলে ভারত থেকে অনেক ভালো মানের গবেষক পাব। তাদের লাভ যে পোস্ট-ডক্টরাল এক্সপেরিয়েন্স দেখিয়ে অন্যত্র চাকুরী পাবে আর আমাদের লাভ এখানে গবেষনার একটা এনভায়রনমেন্ট তৈরী হবে। সারা পৃথিবীতে এভাবেই গবেষনা হয়। আমরা আন্তর্জাতিক ট্রেন্ডস ফলো করব না, তো আন্তর্জাতিক গবেষণা হবে কিভাবে? আমাদের আছে শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় যার ৯০% বিশ্ববিদ্যালয়েই পিএইচডি ছাত্র নেই। ১০% বিশ্ববিদ্যালয়ে যে আছে তাও নামে মাত্র। আর পোস্ট-ডক্টরাল position? সন্দেহ হয়. যারা ওগুলো চালায় তারা এ সম্মন্ধে কখনো কিছু শুনেছি কিনা। আমাদের এখানে পিএইচডি প্রাপ্ত শিক্ষক বা গবেষকের অভাব নেই কিন্তু পোস্ট-ডক্টরাল experience আছে এরকম শিক্ষক বা গবেষকের সংখ্যা আমার ধারণা খুবই কম। এগুলোও একটা দেশের শিক্ষা ও গবেষনার একটা ধারণা সূচক হতে পারে।

কামরুল হাসান
অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।