Showing posts with label বিবিধ. Show all posts
Showing posts with label বিবিধ. Show all posts

Friday, October 16, 2015

বিসিএস পরীক্ষা , কোটা প্রথা এবং মেধা যাচাইয়ের সনাতনী পদ্ধতি

Sujoy Subroto

বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠিত হয় ১৯৭২ সালে এবং বর্তমানে এর বয়স প্রায় ৪৩ বছর । সারা পৃথিবীব্যাপী পিএসসি যে দায়িত্বগুলো পালন করে তার মধ্যে অন্যতম হল উচ্চ পেশাদারিত্ব সম্পন্ন একটা দক্ষ ও মেধাবী সরকারী মানবসম্পদ তৈরি করা এবং সর্বক্ষেত্রে সততা, জবাবদিহিতা ন্যায়পরায়ণতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এমন একটা কর্মপরিবেশ ও সংস্কৃতি চালু করা যা কিনা সরকারের উপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সুদৃঢ় করবে ।
এবং এই জন্যেই সরকারি চাকুরিতে সর্বচ্চ মেধাবীদের নিয়োগ নিশ্চিতকরনের জন্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার নীতি বজায় রাখা ও পেশাগত মান অবশ্যই মেনে চলতে হবে কারন এরাই ভবিষ্যতে পাবলিক সেক্টর এর নেতৃত্ব দিবে । মজার ব্যাপার হল বিপিএসসির ওয়েব সাইটেও খুব সুন্দর ভাবে বলা আছে যে এই স্বায়ত্বশাসিত সংস্থার উদ্দেশ্য হল প্রজাতন্ত্রের জন্য সক্ষম ও দক্ষ কর্মকর্তাদের নির্বাচনের মাধ্যমে একুশ শতকের জন্য একটি উপযুক্ত সিভিল সার্ভিস প্রতিষ্ঠা করা যদিও বাস্তবে এর ছিটেফোঁটাও উনারা মেনে চলেন না । সত্যি কথা বলতে কি বিসিএস পরীক্ষা হচ্ছে আমাদের দেশে একটা নাইটমেয়ার এবং এর পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে গড়ে সময় লাগে ৪৭২ দিন (BPSC Annual Report 2013), এর পরে আরও ছয়মাস লাগে রেজাল্ট পাবলিশ , পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং মেডিক্যাল টেস্ট শেষ করে নিয়োগ দিতে । বিসিএস এর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হল কোটা সিস্টেম , এইখানে ৫৬ % নিয়োগ দেওয়া হয় কোটা থেকে এবং ৪৪ % নিয়োগ দেওয়া হয় মেধাবীদের মধ্যে থেকে । অথচ কোটার উদ্দেশ্য ছিল সমাজের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে সমান সুযোগ দিবার জন্যে এবং ১৯৭৭ সালের পে কমিশন আস্তে আস্তে কোটা পদ্ধতির পরিবর্তন করে ১৯৯৭ সালে এইটা বিলুপ্ত করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন । আমাদের সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে সবাইকে সরকারী চাকুরিতে নিয়োগের জন্যে সমান অধিকার দিতে হবে কাজেই এই একবিংশ শতাব্দীতে এসে যেখানে বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গায় উন্নয়নের ছোয়া লাগছে এবং আস্তে আস্তে গ্রামের সাথে শহরের বৈষম্য দিন দিন কমে আসছে সেখানে কোটা পদ্ধতি বহাল রাখা আসলেই মেধাবীদের প্রতি অন্যায় এবং অযৌক্তিক । আমি একটা জিনিস বুঝি না যে শিক্ষার্থীরা যদি মেডিক্যাল , বুয়েট এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগিতামুলক ভর্তি পরীক্ষায় মেধা এবং যোগ্যতা দিয়ে নিজেদের জায়গা নিজেরা করে নিতে পারে সেখানে বিসিএস এ তাদের জন্যে কোটা রাখার আদৌ কি কোন দরকার আছে , একদিক থেকে বিবেচনা করলে এইটা কিন্তু ওদের প্রতি এক ধরনের করুনা যা তাদের যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ।

আসুন এইবার একটু পরিসংখ্যান এর দিকে তাকাই , ৩১ তম বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্বা কোটায় সংরক্ষিত আসন ছিল ৮৬৫ টি, ৩২ তম পরীক্ষায় ছিল ২২০২ টা, এবং ৩৩ তম তে ছিল ২৭০২ টি এবং এর মধ্যে ৩১ তম তে পরীক্ষার পর আসন ফাঁকা ছিল ৫৪৩ টা (৬৩ %), ৩২ তম তে খালি ছিল ৮১৭ (৩৭%) টা এবং ৩৩ তম তে খালি ছিল ২২৭৭ টা (৮৪%) । সামগ্রিকভাবে কোটায় সংরক্ষিত আসনের মধ্যে ৩১ তম পরীক্ষায় প্রায় ৪৮ ভাগ, ৩২তম পরীক্ষায় ৪০ ভাগ , ৩৩ তম পরীক্ষায় প্রায় ৬১ ভাগ আসন ফাকা ছিল (BPSC‟s Annual Report 2012 and 2013) । এইখান থেকে এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে কোটার জন্যে যে আসন বরাদ্ধ থাকে তার অর্ধেকেই ফাকা রাখতে হয় যোগ্য প্রার্থী না পবার কারণে । মুক্তিযোদ্ধা কোটা এখন হয়ে গেছে একটা রাজনৈতিক এজেন্ডা, যেখানে কোটা পদ্ধতির আধুনিকায়ন এবং সময়োপযগী করা এখন সময়ের দাবি সেইখানে কিছুদিন আগে এইটা সংস্কার করে বলা হয়েছে যে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান না পাওয়া গেলে নাতি পুতি দিয়ে এই কোটা পুরন করা হবে । অথচ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে মেধাভিত্তিক নিয়োগ এবং প্রমোশন জনপ্রশাসনের কাজের গতি বাড়িয়ে দেয় এবং সেখানে আমরা মেধাহীনদের প্রাধান্য দিয়ে একটা অথর্ব জনপ্রশাসন তৈরি করছি । এইটা স্পস্টত মেধাবীদের প্রতি একধরনের অবিচার এবং এই সিস্টেম মেধাবীদের পাবলিক সার্ভিস এ ঢোকার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাঁধা । আর একটি গবেষনার প্রাপ্ত তথ্য মতে, শতকরা প্রায় ৭২ % ভাগ কারেন্ট সিভিল সারভেন্ট মনে করেন যে বর্তমান নিয়োগ পক্রিয়া স্বচ্ছ না এবং এইটার পরিবর্তন দরকার এবং ৮০ ভাগ প্রসপেক্টিভ সিভিল সারভেন্ট মনে করেন যে শতকরা ৬০- ৮০ ভাগ পোস্ট মেধা ভিত্তিক হওয়া দরকার ।

..এখন আলোচনা করব বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এবং পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে..
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল যে বিসিএস ই একমাত্র চাকুরী যেখানে অধিকাংশ ক্যান্ডিডেট আবেদন করার সময় জানেই না তার জব রেসপনসিবিলিটি কি কারন বিজ্ঞাপনে কোন জব ডেসক্রিপশন দেওয়া থাকে না । অর্থাৎ যে ছেলেটি আজকে ডিগ্রি পাস কোর্স কিংবা ইতিহাস পড়েছে সে অনায়াসে কাস্টম কিংবা ফরেন ক্যাডারে চলে যেতে পারবে । মানে হল এইখানে স্পেশিয়ালাইজেশন এর কোন দরকার নেই , বিষয় ভিত্তিক জ্ঞান থাকাটা এইখানে কোন আবশ্যক বিষয় না এবং এই কারনেই অনেকে ক্যাডার হবার পরে বেসিক টারমিনলজি গুলোও ঠিকমত বুঝতে কিংবা বলতে পারে না । শিক্ষকদের ক্ষেত্রে কিন্তু এইটা একেবারেই উল্টা , একজন সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র কিন্তু কোনভাবেই ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হতে পারবে না । এই কথাটা এই কারনেই বললাম বিশ্বের প্রায় সব উন্নত দেশেই সিভিল সার্ভিস এ টেকনিক্যাল নলেজ, বিষয় ভিত্ত্বিক জ্ঞান এবং ফলাফল কে গুরুত্ব দেওয়া হয় আমার কথা বিশ্বাস না হলে সুইডেনের স্টেট সেক্রেটারি এবং অন্যান্য সেক্রেটারির বায়োডাটা দেখে নিতে পারেন এই লিঙ্ক এ গিয়ে (http://www.government.se/government-of-sweden) । একটা ঘটনা শেয়ার করি, কয়েকদিন আগে আমাদের এক স্যার ইউএস এর বাংলাদেশ এম্ব্যাসিতে গিয়েছিলেন পাসপোর্ট এর আবেদন করানোর জন্যে , তো যিনি আবেদন জমা নিবেন উনার ভাব এবং ব্যাবহার দেখে মনে হল কোন চোর বাটপার উনার কাছে আসছে করুণা ভিক্ষা করার জন্যে কিন্তু কিছুক্ষণ পরে একজন বিদেশি যখন একটা তথ্য জানার জন্যে ইংরেজিতে উনাকে প্রশ্ন করল উনি তখন বোয়াল মাছের মত হা হু শুরু করে দিলেন, মহিলার কথা আগামাথা কিছুই বুঝেনা এই হল অবস্থা । যোগ্য লোক যদি যোগ্য জায়গায় না থাকে তাইলে প্রশাসনিক কাজে কখনই গতি আসেনা এবং এবং এইটা কিন্তু কোন বিচ্ছিন্ন ঘঠনা এবং এই ধরনের অভিজ্ঞতা আমার এক বন্ধুরও হয়েছিল বাংলাদেশ এর সুইডিশ এম্ব্যাসেতি ।

কয়েকদিন আগে পি এস সির সাবেক চেয়ারম্যান সাদ'ত হুসাইন একটা সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে বিসিএস এ নাকি ক্লাস ৮/৯ স্ট্যান্ডার্ডের প্রশ্ন করা হয় এবং এর থেকে বর্তমানে ক্লাস এইটের জে এস সি পরীক্ষায় যে প্রশ্ন হয় তাও অনেক ভাল , প্রশ্ন দেখলে মনে হয় যে খুব দয়া করে এই প্রশ্ন করা হয়েছে যাতে সবাই পাশ করে । আন্ডার ম্যাট্রিক কারিকুলাম থেকে যদি প্রিলির প্রশ্ন হয় তাইলে সরকারের এত টাকা খরচ করে ছাত্রদের অনার্স মাস্টাস করানোর কি দরকার, সব কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিলেই হয় । এতে করে সরকার জিডিপির যে ২% শিক্ষাখাতে বরাদ্ব দিয়ে থাকে সেই টাকা দিয়ে আমলাদের জন্যে নতুন করে কিছু সুযোগ সুবিধা দেওয়া সম্ভব, তারপরেও যদি উনাদের দুর্নীতি একটু কমে ? একটা ঘঠনা শেয়ার করি, আমার এক বন্ধু ছিল যে অংকে খুবই দুর্বল এবং এই কারনে সে বিসিএস পরীক্ষার সময় বাংলা এবং সাধারণ জ্ঞান বেশি করে মুখস্থ করত কারন প্রিলি তে সব বিষয়ে আলাদা আলাদা পাশ করতে হয় না । আবার লিখিত পরীক্ষা নিয়ে সবচেয়ে বড় যে অভিযোগ সেটা হল যে এখানে সনাতনী পদ্বতিতে পরীক্ষা হয় , প্রতি বছর প্রশ্নের প্যাটার্ন একই থাকে এবং বাজারে যেহেতু প্রচলিত গাইড বই পাওয়া যায় এতে করে পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্ন থেকে ধারনা নিয়ে একটা ভাল প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব এবং অধিকাংশ প্রার্থী সমীক্ষা গাইড মুখস্থ করে উত্তরগুলো পরীক্ষার খাতায় যান্ত্রিকভাবে লিখে দিয়ে আসে এবং পাশ করে ফেলে। যেহেতু এইখানে প্রবন্ধ লিখা টাইপের প্রশ্ন করা হয় সেহেতু এই ধরণের পরীক্ষা পদ্বতিতে একজন ছাত্রের সৃজনশীলতা এবং বিশ্লেষণ দক্ষতা মূল্যায়ন করার বিন্দুমাত্র কোন সুযোগ নেই (জাহান, ২০১২) অথচ এই দুইটা প্যারামিটারই হচ্ছে মেধা যাচাইয়ের জন্যে আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে স্বীকৃত এবং গ্রহণযোগ্য পদ্বতি । আমার এক বন্ধু সে ন্যাশনাল ভার্সিটিতে পড়ত , তো তাকে দেখতাম সেকেণ্ড ইয়ার এ উঠার পর থেকেই বিসিএস এর প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে এবং তার একাডেমিক বইয়ের চেয়ে তার টেবিলে বিসিএস এর প্রিপারেশন গাইড ই ছিল বেশি ,কারন তাদের তেমন কোন ক্লাস করতে হয় না , পরীক্ষার আগে তিনমাস পড়লেই হয় এবং যে দীর্ঘ ৪ টি বছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা একাডেমিক লোড নিয়া দৌড়ের উপর থাকে সেখানে চার বছর এরা বিসিএস এর সব বই মুখস্থ করে ফেলে এবং তারই ফলশ্রুতিতে আমরা দেখি যে ৩৪ তম বিসিএস পরীক্ষায় ঢাকা কলেজের অবস্থান সরকারি কলেজে প্রথম , পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজ মিলে ঢাকা কলেজর অবস্থান সারা দেশে দ্বিতীয় । এছাড়া, দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতি অলরেডি নিয়োগ পক্রিয়ার একটি অংশ হয়ে গেছে যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এইটা অনেকটা কমেছে কিন্তু এখনও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তর । ভাইবাতে নাকি সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয় এবং টাকা দিয়ে ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ পক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অসংখ্য নজির আছে এবং এই কারণে ২৭তম বিসিএস পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করে নতুন করে মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়েছিল । । যে পদ্ধতিতে মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে তা বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে অনেক দিন আগেই এবং একজন ছাত্রকে ইচ্ছে করলেই মৌখিক পরীক্ষায় ফেল করানো সম্ভব কারন এইখানে শুধু মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর প্রাপ্ত নম্বর ছাড়া আর কি ধরনের প্রশ্ন করা হয় তার কোন রেকর্ড থাকে না । আর মৌখিক পরীক্ষার যেহেতু কোন সিলেবাস নেই তাই প্রশ্নকর্তা ইচ্ছে করলে যেকন ধরনেরই প্রশ্ন করতে পারেন। এখন যদি একজন ফরেস্ট্রি ক্যাডারকে জিজ্ঞেস করা হয় জেমস বণ্ড এর পরবর্তী সিরিজ যে বন্ড গার্ল হবে তার বয়স কত এবং পরীক্ষার্থী যদি সেটা না বলতে পারে তাহলেও কিন্তু তাকে ফেল করানো সম্ভব যদিও এই প্রশ্নের সাথে তার মেধা কিংবা ক্যাডারের কোনই সম্পৃক্ততা নেই । এর পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁস তো আছেই, এমনকি প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ২৪ তম বিসিএস বাতিলও করতে হয়েছিল । কাজেই যারা টাকা দিয়ে ক্যডার হয় তারা স্বাভাবিক ভাবেই ধান্দায় থাকবে কিভাবে এবং কত দ্রুত এই টাকা জনসাধারনের পকেট থেকে খসানো যায়।

কিছুদিন আগে একটা পত্রিকায় দেখলাম যে বাংলাদেশ সরকারের ১৭ জন অতিরিক্ত সচিব ও ৩৭ যুগ্ম-সচিব নাকি শিক্ষা জীবনে একাধিক তৃতীয় বিভাগসহ টেনেটুনে পাস করেছেন এবং এর মধ্যে অনেকেই আবার মানহীন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষার সার্টিফিকেট নিয়ে পদোন্নতিতে কাজে লাগিয়েছেন । সাবেক পিএসসি চেয়ারম্যান সাদ'ত হুসাইন বলেছেন যে অনেক যুগ্ন সচিব , অতিরিক্ত সচিব কোন মিটিং এ ভাল করে ইংরেজি কিংবা বাংলায় কথাই বলতে পারেন না; এখন একজন এডমিন অফিসার যদি ঠিকমত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ফরেন ডেলিগেটদের সাথে কমিউনিকেট-ই করতে না পারেন তাহলে উনি দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে অন্যদের সাথে কিভাবে নেগোসিয়েশন করবেন এবং DFID এর একটি প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে যে বাংলাদেশের আমলারা বিদেশী বিনিয়োগ প্রাপ্ত প্রজেক্ট বাস্তবায়নে একেবারেই অক্ষম। এর মধ্যেও নিশ্চয়ই অসংখ্য যোগ্য ব্যাক্তি আছেন কিন্তু আনুপাতিক হার বিবেচনা করলে একটা দেশের জনপ্রশাসনকে গতিশীল করার জন্যে এইটা আসলেই অপ্রতুল। যাই হোক, মোদ্বা কথা হল আমাদের দেশে সনাতনী পদ্ধতিতে যেভাবে বিসিএস পরীক্ষা নেওয়া হয় তার আসলেই একটা আমুল পরিবর্তন করা দরকার কারন পরীক্ষা গ্রহণের মান ও পদ্ধতি উন্নত ও আধুনিকায়ন হলে এবং সর্বক্ষেত্রে সচ্ছতা ও জবাবাদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলে অবশ্যই সত্যিকারের মেধাবীদের এই পেশায় আকৃষ্ট করা সম্ভব ।

Sujoy Subroto
Swedish University of Agricultural Sciences
Uppsala, Sweden

Published in: https://www.facebook.com/sourav.swopno/posts/10205044241406118

আরো পড়ুন:
১১ অতিরিক্ত সচিব, ১৭ যুগ্ম-সচিবের একাধিক তৃতীয় বিভাগ
মেধা পরিমাপের সূচক এবং একটি হাইপোথেসিস

Thursday, October 15, 2015

মেধা পরিমাপের সূচক এবং একটি হাইপোথেসিস

Sujoy Subroto

ভেবেছিলাম আমলা বনাম শিক্ষক এই ইস্যুতে আর কোন আলোচনায় যাব না কারন এতে করে অনেকের সাথেই এক ধরনের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে । নিতান্ত বাধ্য হয়েই কিছু জিনিস ক্ল্যারিফাই করার জন্যে আবার লিখতে বসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়া, পদোন্নতি, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আগে একদিন আলোচনা করেছি আজকে মুলত আলোচনা করব কোন পেশায় এখনও মেধাবীদের সংখ্যা বেশী এই ইস্যুটা নিয়ে । অনেকেই বলছেন আমলা হওয়া অনেক কঠিন এবং উনারাই সবচেয়ে মেধাবী আবার অনেক শিক্ষক দাবী করছেন মেধাবীদের মধ্যে যারা প্রথম সারির শিক্ষার্থী তারাই শিক্ষক হয় । আজকে এই বিষয় টা নিয়ে একটা ফ্যাক্ট বেইসড আলোচনা করব।

আসুন আমরা একটা হাইপোথেসিস চেক করি > 
আমি ধরেই নিলাম বিসিএস ক্যাডার এবং বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষকদের মধ্যে মেধার কোন পার্থক্য নেই এবং দুইটা পেশায়ই মেধাবীদের সংখ্যা সমান সমান > এইটা হচ্ছে আমার নাল হাইপোথেসিস 
আসুন প্রথমেই দেখে নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিসিএস ক্যাডার হবার জন্যে নুন্যতম ক্রাইটেরিয়া কি কি 
১। শিক্ষক পদে আবেদনের জন্যে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অথবা মাস্টার্স পরীক্ষায় মিনিমাম সিজিপিএ ৩.৫ থাকতে হবে ৪ এর মধ্যে, এস এস সি এবং এইচ এইচ সি পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণি অথবা সিজিপিএ ৪ থাকতে হবে , এছাড়া যদি সায়েন্টিফিক পেপার ও রিসার্চ অভিজ্ঞতা থাকে তাইলে অগ্রাধিকার পাবে ।
২। বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহনের জন্যে সেইরকম কোন ক্রাইটেরিয়া নাই , এইখানে ডিগ্রি পাস এর ছাত্র থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারীরাও আবেদন করতে পারে এবং একাডেমিক ফলাফল এইখানে কোন বিবেচ্য বিষয় নয় । সম্ভবত এই একটা জায়গায়ই রাষ্ট্র আক্ষরিক অর্থেই সমতা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে ।

একদম শুরু থেকে শুরি করি । পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে সবচেয়ে কম্পিটিটিভ একটা এক্সাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের কোয়ালিটি নিয়ে কারও দ্বিমত থাকার কথা না । এই লাখ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় যারা মেধাক্রমে উপরের দিকে থাকে তারাই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায় । তার মানে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় তারা সবাই কমবেশি মেধাবী কারন শুরুতেই তাদের মেধার একটা পরীক্ষা দিতে হয়। সাম্প্রতিক কালে আমরা দেখেছি যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অধিকাংশ ছাত্রই পাশ মার্কস পায় না এবং ইংরেজিতে প্রায় শতকরা ৮০- ৯০ ভাগ শিক্ষার্থী ফেল করে । কাজেই এইরকম একটা স্ট্যান্ডার্ড প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যারা বেরিয়ে আসে তাদেরকে কিন্তু মেধাবী বলতেই হবে । এমনও অনেক ছাত্র দেখেছি যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার ফরম কেনার মত যোগ্যতা নেই কিন্তু বিসিএস পরীক্ষা তে অলরেডি ২ বার ভাইবা পর্যন্ত দিয়েছে, নিশ্চয়ই এর মধ্যে অনেকে ক্যডারও হয়ে গেছে। এখন যে ছেলেটি একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফর্ম কিনতে পারে না সেই ছেলেটি যদি আমলা হয়ে শিক্ষকদের চেয়ে নিজেকে বেশী মেধাবী মনে করে তাহলে সেইটা কিন্তু একধরনের বাতুলতা। আর একটা পরীক্ষিত সত্য হল যে যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায় না তারাই কিন্তু ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়য়ে ভর্তি হয় এবং এই ক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম অবশ্যই আছে কিন্তু এর সংখ্যা একেবারেই নগণ্য এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েও নিশ্চয়ই অনেক মেধাবী আছেন । অথচ, বিসিএস পরীক্ষায় একটা বিশাল অংশই উত্তীর্ন হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং তারই ফলশ্রুতিতে আমরা দেখি যে ৩৪ তম বিসিএস পরীক্ষায় ঢাকা কলেজের অবস্থান সরকারি কলেজে প্রথম , পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজ মিলে ঢাকা কলেজর অবস্থান সারা দেশে দ্বিতীয় ।
বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা শিক্ষক হয় তারা সবাই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের এর শিক্ষার্থী । অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া যাবে না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতে হলে আপনাকে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েই হতে হবে, এইখানে ভকিচকির কোন সুযোগ নেই । এর মধ্যে সেইসব ছাত্ররাই শিক্ষক হয় যারা এতসব মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরো ব্যাচেলর পরীক্ষায় শীর্ষস্থানে থাকে । এখন যে একাডেমিক কারিকুলামে একজন শিক্ষার্থী সবসময় সর্বোচ্চ গ্রেড পেয়ে শিক্ষক হয় সেই একই কারিকুলামে যারা খারাপ ফলাফল কিংবা টেনেটুনে পাশ করে বিসিএস দিয়ে আমলা হয় এবং নিজেকে শিক্ষকের চেয়ে মেধাবি বলে দাবি করে তাহলে সেইটা কিন্তু হাস্যকর শুনাবে । আমি আগেও বলেছি যে মেধা যাচাইয়ের আসলেই তেমন কোন আদর্শ ক্রাইটেরিয়া নেই এবং একমাত্র সিজিপিএ এর উপর ভিত্তি করে বিশ্বের কোন উন্নত দেশে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় না, কাজেই রেজাল্ট যেন কোনভাবেই শিক্ষক নিয়োগের একমাত্র ডিটারমিনেণ্ট না হয় এবং অবশ্যই নিয়োগ পক্রিয়ার আধুনিকায়ন করা এবং সর্বক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা দরকার । কিন্তু তাই বলে ঢালাওভাবে বললে হবে না যে শিক্ষকদের কোন মেধা নেই এবং সব আমলারাই শিক্ষকদের চেয়ে বেশী মেধাবী এবং এইজন্যে উনাদেরকে শিক্ষকদেরকে উপরে স্থান দিতে হবে ।
এখন আমরা যদি দেখি শতকরা ৯৫ ভাগ শিক্ষক ক্লাসের টপ ৫% শিক্ষার্থী থেকে নিয়োগ হন এবং শতকরা ৩০ % ক্যাডার ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় , শতকরা ৩০- ৪০% ক্যাডার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝারি মানের শিক্ষার্থী এবং বাকি ২০-৩০ % বিশ্ববিদ্যালয়ের টপ ১০ % শিক্ষার্থী থেকে নিয়োগ হন তাহলেও কিন্তু মানতে হবে যে সংখ্যার দিকে থেকে এখনও শিক্ষকতা পেশায়ই সবচেয়ে বেশী মেধাবিরা আছেন । এবং বিসিএস এর ক্ষেত্রে কিন্তু কোটা একটা বিশাল ফ্যাক্টর কারন ৫৬ % ক্যাডার কোটা থেকে নিয়োগ পান অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কিন্তু কোটার কোন ব্যাপার স্যাপার নেই যাও আছে তা শুধু আদিবাসী ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এবং এইটাও খুবই নগণ্য, তবে শিক্ষক নিয়োগে দলীয়করন আর আত্মীয়করন যাই বলেন এক্ষেত্রে কিন্তু কোন কোটা নাই । যে পদ্ধতিতে মেধাবীদের চেয়ে মেধাহীনদের কে প্রাধান্য দেওয়া হয় সেই পদ্ধতি নিয়ে আসলেই ঢোল পিটানো কিংবা গর্ব করার তেমন কিছু নেই । তবে এই রকম একটা বৈষম্য মূলক সিস্টেমের মধ্যে দিয়েও মেধা কোটায় যে ৪৪ % ছাত্র বিসিএস ক্যাডার হয় এবং তাদের মধ্যে থেকে যারা আমলা হয় তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করাটা আসলেই অবান্তর । কাজেই মেধা মাপার জন্যে মুখস্থ বেসড যে সনাতনী পদ্বতি (পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, ভর্তি পরীক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল) আমাদের দেশে ব্যাবহার করা হয় সেই হিসেবে দেখলেও কিন্তু স্বীকার করতে হবে যে আমলাদের সবাই সমান মেধাবী না এবং আনুপাতিক হারে এইটা শিক্ষকদের চেয়ে কম। যেহেতু মেধাবীদের সংখ্যা শিক্ষকতা পেশায় তুলনামুলভাবে আমালদের চেয়ে বেশী কাজেই আমাদের নাল হাইপোথেসিস রিজেক্ট করতে হবে এবং অল্টারনেটিভ হাইপোথেসিস এক্সেপ্ট করতে হবে । সেই ক্ষেত্রে আমাদেরকে মেনে নিতে হবে যে সব শিক্ষক এবং সব আমালাদের মেধা সমান না এবং আনুপাতিক হারে শিক্ষকতা পেশায় এখনও মেধাবীদের সংখ্যা অনেক বেশী । সত্যি কথা বলতে কি স্ট্যাটিসটিক্স বেসড বিশ্লেষনের একটা বড় দুর্বলতা হল যে এইটা বাস্তব পরিস্থিতির সাথে অনেক সময় খাপ খায় না কারন একটা সমস্যার সবগুলো দিক একই সাথে অন্তর্ভুক্ত করা প্রায় অসম্ভব । কাজেই বাস্তবে আমরা এমন অসংখ্য শিক্ষক পাব যারা আসলেই এই পেশার জন্যে উপযুক্ত না ঠিক একইভাবে অসংখ্য আমলা পাব যারা প্রচন্ড মেধাবী এবং সৎ। যাই হোক আমি শুধু ফ্যাক্টগুলো নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছি এবং এতে করে যদি কেউ কষ্ট পান তাহলে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী । পর্যায়ক্রমে বিসিএস পরীক্ষা, কোটা পদ্বতি, আমলাতন্ত্রের দুর্নীতি এবং শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব ।

Monday, October 12, 2015

মন্ত্রী-আমলাদের জন্য ১০৯২টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট

রাজধানীর বেইলি রোডে মন্ত্রী ও মিরপুরে আমলাদের জন্য ১ হাজার ৯২টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট তৈরি করবে সরকার। এজন্য ব্যয় হবে ৯৬৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মন্ত্রীদের জন্য ২৮টি এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য ৮৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৬৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ সংক্রান্ত দুটি আলাদা প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করার কথা। নতুন অর্থবছরে এসব ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ শুরুর পরিকল্পনা করছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, গত কয়েক বছরে মন্ত্রিপরিষদের আকার অনেক বড় হয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় মন্ত্রীপাড়ায় আবাসন সুবিধা বাড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত আবাসন ব্যবস্থা অপ্রতুল রয়েই গেছে। এ কারণেই মূলত ২৮টি ফ্ল্যাট বিলাসবহুল নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে এ ফ্ল্যাটগুলো নির্মাণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বাসা সংকট সমাধানে বেইলী রোডে মন্ত্রীদের জন্য প্রস্তাবিত ভবনের নাম হবে মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট-৩। ১৫ তলাবিশিষ্ট ভবনের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জায় সরকারি কর্মকর্তাদের তুলনায় একটু বেশি ব্যয় হবে। এসব ফ্ল্যাটের আকার সাড়ে তিন হাজার বর্গফুটের। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিতব্য ফ্ল্যাটের আকার হবে সাড়ে ১২শ থেকে দেড় হাজার বর্গফুট। ১৫টি বহুতল ভবনে এসব আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এগুলোর কোনো কোনোটির উচ্চতা ২০ তলা পর্যন্ত। ঢাকা শহরে অবস্থানরত সাড়ে তিন লাখের বেশি সরকারি চাকরিজীবীর জন্য প্রকল্পগুলো যথেষ্ট নয়। কারণ রাজধানীতে বসবাসকারী ১৫ হাজার সরকারি চাকরিজীবীর আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। এ ফ্ল্যাটগুলো নির্মাণ হলে আরও প্রায় এক হাজার ৬০০ জনের আবাসনের ব্যবস্থ্যা হবে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন আবদুল্লাহ বলেন, মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন সংকট রয়েছে। সেটি দূর করার জন্য কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। যা অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, দেড় হাজারেরও বেশি ফ্ল্যাট নির্মাণ হলে মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন সংকট কিছুটা কমবে।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আরাস্তু খান বলেন, মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি সরকারের সবপর্যায়ে অবগত আছে। এজন্য পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের পাইপলাইনে কয়েকটি প্রকল্প আছে। এর মধ্যে মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ সংক্রান্ত প্রস্তাব রয়েছে। এসব প্রস্তাব একনেকের সভায় অনুমোদনের জন্য খুব শিগগিরই উপস্থাপন করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে সংসদ সচিবালয়ে কর্মরতদের জন্য ৪৪৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে ২০০৯ সালে ঢাকা শহরের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৪০৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করে সংস্থাটি।
Published in: http://www.jugantor.com/current-news/2015/10/13/336430

Friday, October 9, 2015

রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীর বেতন প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের বেতন বাড়ছে প্রায় দ্বিগুণ হারে। সঙ্গে বাড়ছে তাঁদের বিভিন্ন ভাতাও। গত মাসে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর গেজেট হলেই চলে। তবে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের বেতন বাড়াতে হলে আইন সংশোধন করতে হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এখন সংশ্লিষ্ট আইনগুলো সংশোধন করে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে। এ-সংক্রান্ত একটি সারসংক্ষেপ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে অনুমোদন করেছেন।

মন্ত্রিপরিষদসচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'নতুন পে স্কেলের পর মন্ত্রীদেরও বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পায়। এটাই রেওয়াজ। তারই ধারাবাহিকতায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।'

রাষ্ট্রপতির বেতন বাড়ানোর জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ 'দ্য প্রেসিডেন্ট'স (রেম্যুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট ১৯৭৫', প্রধানমন্ত্রীর বেতন বাড়ানোর জন্য 'দ্য প্রাইম মিনিস্টার'স (রেম্যুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫' আর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর জন্য 'দ্য মিনিস্টার'স, মিনিস্টার'স অব দ্য স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার'স (রেম্যুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৩' সংশোধনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে। সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের পর একই দিনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারের বেতন এবং সংসদ সদস্যদের সম্মানী বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে। এর আগে ২০০৯ সালে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের বেতন বাড়ানো হয়েছিল।

কার কত বাড়ছে : রাষ্ট্রপতির বর্তমান মূল বেতন ৬২ হাজার ২০০ টাকা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, তাঁর মূল বেতন ৮৩ শতাংশ বাড়িয়ে এক লাখ ১২ হাজার টাকা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হবে অন্যান্য ভাতা। প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান মূল বেতন ৫৮ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ পাঁচ হাজার ২০০ টাকা হচ্ছে। মন্ত্রীদের বর্তমান মূল বেতন ৫৩ হাজার ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৭ হাজার ২০০ টাকা, প্রতিমন্ত্রীদের মূল বেতন ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং উপমন্ত্রীদের মূল বেতন ৪৫ হাজার ১৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া তাঁদের বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ, দৈনন্দিন ভাতা, যাতায়াত ভাতাসহ অন্যান্য ভাতাও বাড়ানো হচ্ছে। এর মধ্যে বর্তমানে সচিবদের দৈনন্দিন ভাতা (ডিএ) মন্ত্রীদের চেয়ে বেশি। এর আগে এটি সংশোধন করে মন্ত্রীদের ডিএ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রধানমন্ত্রী তাতে আপত্তি করায় তখন তা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান মন্ত্রিসভায় ৩১ জন মন্ত্রী, ১৮ জন প্রতিমন্ত্রী ও দুজন উপমন্ত্রী রয়েছেন। আর মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রয়েছেন পাঁচজন।

প্রক্রিয়া চলছে আরো : মন্ত্রিসভার সদস্য, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বেতনের সঙ্গে জাতীয় সংসদের ৩৫০ জন সদস্যের (এমপি) সম্মানী বাড়ানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। সংসদ সদস্যদের সম্মানী বাড়ানোর কাজ করছে সংসদ সচিবালয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সাংবিধানিক সংস্থাও নিজেদের চেয়ারম্যান, সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দিষ্ট হারে বেতন বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে সরকারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বেতন বাড়ানোর জন্য এ-সংক্রান্ত আইনটি সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পিএসসি সচিবালয়। বিচারকদের বেতন বাড়ানোর প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ।

পে স্কেল পুনর্নির্ধারণের (ফিক্সেশন) কাজ চলছে গত মাসে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো অনুমোদনের সময় সচিবদের বেতন বাড়ানো হয়েছে সর্বনিম্ন ৯৫ শতাংশ। ওই সময় ২০ নম্বর গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয়েছে সর্বোচ্চ ১০১.২৩ শতাংশ। বর্ধিত বেতন গত জুলাই থেকে কার্যকর করা হলেও কর্মচারীরা এখনো পুনর্নির্ধারিত হারে বেতন পাচ্ছেন না। বর্তমানে তাঁদের বেতন ফিক্সেশনের কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আগামী মাসে তাঁরা বকেয়া বেতনসহ বর্ধিত হারের বেতন উত্তোলন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তাঁরা জানান, নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট জারির সব প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়ে আছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পেরু থেকে আগামী ১৬ অক্টোবর দেশে ফেরার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে এ মাসের শেষেই এর গেজেট জারি হতে পারে। আর গেজেট জারির পর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় কোনো বৈষম্য দেখা দিলে তা পর্যালোচনা করতে বৈঠক করবে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন বেতন বৈষম্য দূরীকরণ সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্তরাও নতুন বেতন স্কেল পাবেন : বিধিবিধান পরিবর্তনের নির্দেশ চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত কর্মকর্তারাও নতুন পে স্কেলের সুবিধা পাবেন। এমনকি পে স্কেল বাস্তবায়নকালে যাঁদের পিআরএল বাতিল করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে তাঁরাও এ সুবিধা পাবেন। অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, যেসব কর্মকর্তা নতুন বেতন স্কেল কার্যকরের সময় জনস্বার্থে পিআরএল বাতিলের শর্তে সরকারি পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত থাকবেন, তাঁদের বিশেষ বিবেচনায় নতুন পেনশন ও আনুতোষিক গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। গত সপ্তাহে অর্থ মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত বিধিবিধান পরিবর্তনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে। একই সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা অবহিত হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে একবার এবং বাস্তবায়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসের ৪ তারিখের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ অধিশাখায় পাঠানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছে।

Published in: http://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2015/10/10/277503

Monday, October 5, 2015

বিশ্ব শিক্ষক দিবস পুরস্কার পেলেন ঢাবি উপাচার্য


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: দেশের  শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস অ্যাওয়ার্ড-২০১৫’ পেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। 
সোমবার (০৫ অক্টোবর ২০১৫ ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপাচার্যের হাতে এই অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। 
বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০১৫ জাতীয় উদযাপন কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।    
শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয় ফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক কাজী ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গ্লোবাল ক্যাম্পেইন ফর এডুকেশন-এর সহ-সভাপতি রাশেদা কে. চৌধুরী এবং ইউনেস্কো বাংলাদেশের অফিসার ইনচার্জ কিচি ওয়্যায়েসু বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 
ঢাবি উপাচার্য ছাড়াও দেশের আরও সাতজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বিশ্ব শিক্ষক দিবস অ্যাওয়ার্ড- ২০১৫ লাভ করেছেন।

Source: http://banglanews24.com/fullnews/bn/430519.html

হিরক রাজার বিদ্যা দর্শন (ভিডিও)

Saturday, October 3, 2015

প্রতি বছর বেতন বৃদ্ধি একটি বিরাজনৈতিক সিদ্ধান্ত


অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান



অষ্টম পে-কমিশনই দেশের শেষ পে-কমিশন। এরপর থেকে প্রতি বছর জুলাই মাসে একটা নির্দিষ্ট শতকরা হারে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়বে। নতুন পে-কমিশন গঠন করা লাগবে না, যতটুকু জানি এমন একটি সুপারিশই মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদিত হয়েছে সচিব কমিটি কর্তৃক পরিমার্জিত ড. ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন অষ্টম পে-কমিশনের রিপোর্ট। প্রত্যেকবার পে-কমিশন রিপোর্ট বাস্তবায়ন করতে গেলেই কিছু ঝামেলা হয়, এবারও হচ্ছে। বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মর্যাদা অবনমিত করা, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড রহিত করা, বিভিন্ন ক্যাডারকে বঞ্চিত করে কারও কারও জন্য সুপার গ্রেড প্রবর্তন, ক্যাডারভিত্তিক বৈষম্য সৃষ্টি ইত্যাদি। অভিযোগ ও বঞ্চনা নিরসনের জন্য একটি কেবিনেট কমিটিও গঠন করা হয়েছে। প্রত্যাশা মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী মন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত এই কেবিনেট কমিটি আলোচনার মাধ্যমে অসন্তোষ দূরীকরণে সমর্থ হবে এবং পে-কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নে বিদ্যমান জটিলতার আপাতত সমাধান হবে। যদিও সর্বস্তরের শিক্ষকের জন্য একটি আকর্ষণীয় বেতন কাঠামোর আন্দোলন অব্যাহত থাকবে, যা চলে আসছে প্রায় দুই-তিন দশক ধরে। সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাওয়ার পর যে সমস্যাটা থেকে যাবে সেটা একটা 'সাইকো-পলিটিক্যাল' সমস্যা। মনে রাখতে হবে অর্থনীতি কেবলই অর্থনীতি ছিল না আরও কয়েক শতক আগেও। ১৭৭৬ সালে প্রকাশিত অ্যাডাম স্মিথের 'ওয়েলথ অব নেশন' বা আরও বহু আগের কৈটল্যের 'অর্থসাশ্রয়'কে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। বর্তমান অর্থনীতির পুরোটাই পলিটিক্যাল ইকোনমি। প্রত্যেকটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে যেমন রাজনীতি থাকে তেমনি সিদ্ধান্তের প্রভাবও রাজনীতি বিযুক্ত হবে এটা মনে করার কোনো কারণ নেই।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে এ পর্যন্ত আটটি পে-কমিশন হয়েছে। সবগুলোর পেছনেই ছিল রাজনৈতিক অঙ্গীকার। জীবনযাত্রার ব্যয় যখন বেড়ে যায়, ভিন্ন অর্থে নির্দিষ্ট বেতনের চাকরিজীবী ছাড়া অন্যদের আয় যখন বেড়ে যায় (যেমন- যাত্রীসাধারণের জন্য রিকশা ভাড়া বেড়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে রিকশাওয়ালার আয় বেড়ে যাওয়া) তখনই সরকার বাধ্য হয়ে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে পে-কমিশন গঠন করে এবং রিপোর্টের ভিত্তিতে বেতন বৃদ্ধি করে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি খাতেও বেতন বৃদ্ধি হয়, যদিও বেসরকারি খাতের বেতন কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সব সময়ই সরকারি খাতের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। কর্মচারীদের কর্মস্পৃহা ও মনোবল ধরে রাখার জন্য এর বিকল্প কিছু নেই। হার্জবার্গের 'টু ফ্যাক্টরস্ থিউরি' মনে রেখেই বলছি, বেতন বৃদ্ধি প্রণোদনার ক্ষেত্রে তেমন কার্যকর উপাদান না হলেও অন্যান্য প্রণোদনার ভিত্তি তৈরি করে বেতন।

দেশে যখন নির্বাচন আসে সবাই নতুন কিছু প্রত্যাশা করে। দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ইত্যাদি সার্বিক বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার মানুষ শুনতে চায়। আমরা যখন গণতন্ত্রের কথা বলি স্থূল অর্থে কেবল নির্বাচনকেই বুঝে থাকি। যদিও গণতন্ত্র আর নির্বাচন সমার্থক নয়। নির্বাচনের স্টেক হোল্ডারদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সরকারি-বেসরকারি কর্মচারী। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী কাজে তাদেরকেই ব্যবহার করে। নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব জনবল প্রয়োজনীয় জনবলের এক-শতাংশেরও কম। নির্বাচনের সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করে কর্মচারীদের ঐকান্তিক সহযোগিতা, তাদের নিরপেক্ষতা এবং দায়িত্ববোধের ওপর। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের জন্য বিভিন্ন অঙ্গীকার করে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে দলের পক্ষে ভোটদানের জন্য আহ্বান জানায়। কোনো রাজনৈতিক দল বা নির্বাচন কমিশন যদি চায় সরকারি-বেসরকারি কর্মচারীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে উৎসবের আমেজ নিয়ে নিরপেক্ষ ও যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করুক (যেটা তাদের শাসনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতাও বটে), সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকেও দেশের সার্বিক উন্নয়নের অঙ্গীকারের মধ্যেই সরকারি কর্মচারীরা ব্যক্তিগতভাবে কীভাবে লাভবান হবেন তা বলতে হবে। সেই অঙ্গীকারের ওপরই নির্বাচনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য কাজে তার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনেকাংশে নির্ভর করবে। আইনি বা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের উদ্বুদ্ধ করা অনেকাংশেই সম্ভব হবে না।

স্বাভাবিক অবস্থায় ২০১৯ সালে আমাদের পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনের মেনোফেস্টোতে যদি রাজনৈতিক দলগুলো ঘোষণা দেয় যে, ২০২০ সালে আমাদের নবম পে-কমিশন হবে, তবেই সরকারি কর্মচারীদের নির্বাচনের মতো ঝামেলাযুক্ত কাজে সক্রিয় ও উদ্বুদ্ধ করা যাবে। সে পথ অষ্টম পে-কমিশন রিপোর্টে রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি উচ্চপর্যায়ের আমলাদের জন্য ভালো (যারা ফিল্ড লেবেলে নির্বাচনের কাজ করে না), কারণ প্রতিটি পে-কমিশন রিপোর্ট বাস্তবায়নের ঝামেলাগুলো তাদের পোহাতে হবে না। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য হুমকিস্বরূপ। নির্বাচনী অঙ্গীকারে সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রাপ্তির কোনো বিষয় থাকবে না অথচ একটি সফল, ত্রুটিমুক্ত এবং সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের সব দায়িত্ব তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করবে এমনটি আশা করা একেবারেই বাস্তবতা-বিবর্জিত একটি ধারণা। পাঁচ বছর অন্তর অন্তর পে-কমিশন এটা নিছক 'ইকোনমি'র বিষয় না, এটা 'পলিটিক্যাল-ইকোনমি'র বিষয়। পে-কমিশন না করে বছর বছর বেতন বাড়ানোর ধারণাটি অর্থনীতি ও হিসাব বিজ্ঞানসম্মত হলেও এটি রাজনীতি-বিবর্জিত। রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এই সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। অষ্টম পে-কমিশন কর্তৃক সুপারিশকৃত বছর বছর বেতন বৃদ্ধি প্রক্রিয়াটি গ্রহণ করলে এর বাস্তবায়ন সহজ হবে এবং হিসাব বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সঠিকভাবেই কাজটি সম্পন্ন হবে। তবে কাজটি সঠিক কাজ কিনা ভেবে দেখতে হবে রাজনীতিবিদদের। পিটার ড্রাকার যেমনটি বলেছিলেন 'সঠিক কাজটি করা' 'সঠিকভাবে কাজটি করার' চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে ভালো হয় সঠিক কাজটি যদি সঠিকভাবে করা যায়।

লেখক : উপাচার্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
Published in:http://www.bd-pratidin.com/editorial/2015/10/04/109784

Friday, October 2, 2015

'শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা' নিতে আমলারাও যাচ্ছেন বিদেশে - শিক্ষক-শিক্ষাবিদরা সুযোগ পান না

সাবি্বর নেওয়াজ

শিক্ষা খাতের বড় চারটি প্রকল্পের টাকায় মন্ত্রণালয় আর কর্মকর্তাদের মাঝে বিদেশ ভ্রমণের হিড়িক পড়েছে। ক্লাসরুমে শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যও যাচ্ছেন মন্ত্রণালয়ের বড় আমলা ও শিক্ষা কর্মকর্তারা। একাধিক সফরের তালিকা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সেখানে ক্লাসরুম শিক্ষক আর শিক্ষাবিদদের স্থান হয়েছে খুব কমই। তাদের কোটায় বিদেশে প্রমোদ ভ্রমণ করছেন আমলারা। সরকারের শিক্ষা সফরের নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কর্মকর্তারা এ ভ্রমণ লুফে নিচ্ছেন। শুধু আমলা নন, ক্ষমতার দাপটে দু'জন মন্ত্রীর এপিএস, ইউজিসির চেয়ারম্যানের পিএস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও এসব সফরে অনায়াসে অংশ নিচ্ছেন। নীতিমালা অনুযায়ী এসব সফরে তাদের যাওয়ার কথা নয়। সফরের অর্জিত অভিজ্ঞতা তারা কীভাবে কাজে লাগাবেন তাও কেউ জানে না। ফলে এসব সফরের সার্বিক ফল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা খাতের চারটি প্রকল্প হলো_ উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্প (হেকেপ), মাধ্যমিক শিক্ষা খাত উন্নয়ন প্রকল্প (সেসিপ), শিক্ষামান উন্নয়ন প্রকল্প (টিকিউআই) এবং মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্প (সেকায়েপ)। জানা গেছে, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রোভিসি, রেজিস্ট্রারসহ জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা বিদেশে ভ্রমণের জন্য আবেদন করেও সেখানে সুযোগ পাচ্ছেন না। উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্প (হেকেপ) ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্মকর্তা ও ট্যুরে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইউজিসি সূত্র বলছে, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্প (হেকেপ) ২০০৯ সালে প্রথম লটের আওতায় উন্নত দেশে ৬টি ট্যুরের সিডিউল করা হয়। এর মধ্যে ৫টি ট্যুর ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। বাকি ট্যুর আগামী মাসে হওয়ার কথা রয়েছে। এই ট্যুরে ইউজিসির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুর যাবে। অনুষ্ঠিত ৫টি ট্যুর যেসব কর্মকর্তা করে এসেছেন তাদের মধ্যে বেশির ভাগই আমলা। শুধু আমলা নন, জীবনে কোনোদিন শিক্ষাসংক্রান্ত কাজ করেননি এমন ব্যক্তিও আছেন। হেকেপ প্রকল্পে কোনো ধরনের সম্পৃক্তা নেই এমন ব্যক্তিও রয়েছেন। ট্যুর শেষ করে এক মাস পরই অবসর গ্রহণ করেছেন এমন ব্যক্তিও আছেন। ছিলেন দু'জন মন্ত্রীর এপিএস, ইউজিসি চেয়ারম্যানের পিএস। যাদের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে দূরতম সম্পর্ক নেই।

হেকেপ সূত্র জানায়, এক্সচেঞ্জ ও স্টাডি প্রোগ্রামের আওতায় মোট ৬টি ট্যুর নির্ধারণ হয়। এর মধ্যে দুটি ট্যুর হয়েছিল ২০১২ সালে। সেখানে ইউজিসির সাবেক সদস্য আতফুল হাই শিবলী এবং অন্যটির নেতৃত্বে দেন কোয়ালিটি এসিওরেন্স ইউনিটের প্রধান ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ। দুটি ট্যুরই ছিল ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে। বাকি ৩টি ট্যুর হয়েছে চলতি বছরে। প্রতি দলে ছিলেন ১২ জন করে সদস্য। এর মধ্যে প্রথম গ্রুপ ইতালি ও আমেরিকা ট্যুর করেছে গত ২৩ জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত। এর নেতৃত্ব দেন ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. মোহাব্বত খান। এই ট্যুরের ১২ জনের মধ্যে ৬ জনই উচ্চশিক্ষা এমনকি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। দ্বিতীয় গ্রুপে ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে ট্যুর হয় ১৫ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত। এর নেতৃত্বে ছিলেন শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান। এই সফরে ৭ জনই ছিলেন শিক্ষার বাইরের লোকজন। তৃতীয় গ্রুপ আমেরিকা ও কানাডা ট্যুর করে ২০ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত। এই ট্যুরের নেতৃত্বে ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব সফিকুল আলম। সেখানে ৫ জনই ছিলেন আমলা। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে এই প্রোগ্রামের শেষ ট্যুরটি অনুষ্ঠিত হবে। যার আওতায় নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রোলিয়া ও সিঙ্গাপুর যাবেন তারা।
অনুষ্ঠিত ৫টি ট্যুর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১২ জন করে মোট ৬০ কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা ছিলেন ৩৪ জন। পুরো ট্যুরে মাত্র দু'জন ভিসি, একজন প্রোভিসি ছিলেন। অথচ শিক্ষকদের জন্যই মূলত এই প্রোগ্রাম। এ ছাড়া এ ৫টি ট্যুরে এমন দু'জন কর্মকর্তাও রয়েছেন যারা সফর শেষের কয়েকদিন পরই অবসরে চলে যান। ইউজিসির ১২ কর্মকর্তা ছিলেন, যদের অনেকেই ইউজিসির অভ্যন্তরীণ দাপ্তরিক কাজ করেন। আবার একটি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা সফর শেষেই অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলি হয়ে যান।

সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ট্যুরে অংশ নেওয়া একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, হেকেপের এ ট্যুরগুলো মূলত শিক্ষাবিদ এবং উচ্চশিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য। কিন্তু ট্যুরে অংশ নেওয়ার বেশিরভাগ কর্মকর্তাই আমলা। ভ্রমণের তালিকা প্রস্তুতের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে এসব আমলারা সম্পৃক্ত। এ সুযোগে নিজের নাম তালিকায় ঢুকিয়ে দেন। তিনি আরও জানান, গত ২০ থেকে ৪ আগস্ট আমাদের ট্যুর ছিল। ট্যুর চলাকালীন এই ১৪ দিনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত জরুরি ও নীতিনির্ধারণ বিভিন্ন দপ্তরে ডজনের উপরে মিটিং ছিল। কিন্তু বেশিরভাগ কর্মকর্তা এসব সভায় অংশ নেননি। অনেকেই ট্যুরের পুরো সময় আত্মীয়-স্বজন, কেনাকাটায় শেষ করেছেন। তাদের সঙ্গে প্রথমদিন ও শেষদিন দেখা হয়েছে।

হেকেপের কর্মকর্তারা বলছেন, ট্যুরে গিয়ে কী অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তা লিখিত আকারে বিশ্বব্যাংকের কাছে রিপোর্ট করতে হয়। যাতে অন্যদের কাজে লাগে। কিন্তু ট্যুরে অংশ নেওয়া অধিকাংশ আমলা নিজেদের এপিএস দিয়ে কপি পেস্ট করে রিপোর্ট জমা দেন।

এ বিষয়ে ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, সফরের এ তালিকা আমরা করি না। হেকেপ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় তালিকা চূড়ান্ত করে। আমরা শুধু ইউজিসির তালিকা প্রদান করি। আপনার এপিএস এই তালিকায় কীভাবে ঢুকল এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা এখানে আসার আগেই এই তালিকা করা হয়েছে।

উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ড. গৌরাঙ্গ চন্দ্র মোহান্ত এনডিসি বলেন, ভ্রমণে যাওয়া বেশিরভাগ কর্মকর্তাই এ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। এর বাইরে যারা রয়েছেন তারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের তালিকা থেকে এসেছেন। এটি আমরা বলতে পারব না। কারণ এই তালিকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় করে থাকে।

ইউজিসি সূত্র জানায়, শিক্ষা ভ্রমণে জন্য একটি সংশোধিত নীতিমালা রয়েছে। নীতিমালায় বলা আছে, একজন কর্মকর্তা এই সফর করে সংশ্লিষ্ট জায়গায় কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারবেন সেটি মুখ্য বিবেচ্য হবে। এ ছাড়া কোন শ্রেণীর পদমর্যাদা কর্মকর্তা এসব ট্যুরে জায়গা পাবেন সেটিও বলা আছে।

প্রতিটি ট্যুরেই অর্ধেকের বেশি আমলা অংশ নেন। নীতিমালাটিতে উপসচিব পদমর্যাদার নিচে কেউ এই ট্যুরে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না বলা হলেও সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা ইতিমধ্যে ট্যুর করে এসেছেন। আগামীতেও করবেন বলে জানা গেছে। এর আগে এই কর্মকর্তা ফিনল্যান্ড সফর করে এসেছেন।
এ ব্যাপারে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, শুধু হেকেপ প্রকল্পে নয়, বেশিরভাগ প্রকল্পে বিদেশে ট্যুর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেতে পারছেন না। এ খাতে আমলাদের দৌরাত্ম্য চোখে পড়ে। তবে শিক্ষাবিদদের কোটা আমলারা যখন দখল করে নেন তখন আরও খারাপ লাগে। কারণ উন্নত দেশের শিক্ষা পদ্ধতি দেখে একজন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তা প্রয়োগ করবেন। কিন্তু শিক্ষকরা এটা পাচ্ছেন না। খুবই দুঃখজনক।

Published in: http://www.samakal.net/2015/10/03/165195



Thursday, October 1, 2015

মেধা সংকটে জনপ্রশাসন

রাকিব উদ্দিন

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বিশেষ করে প্রশাসন ক্যাডারের (আমলা) দক্ষতা, মেধা ও সৃজনশীলতা নিয়ে উদ্বিগ্ন নীতি নির্ধারকরা। যে নথি তিন চার দিনে অনুমোদন হওয়ার কথা কর্মকর্তাদের দক্ষতা, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার অভাবে তা অনুমোদন পেতে অনেক ক্ষেত্রে তিন-চার মাসও লেগে যায়। এতে সেবা প্রার্থীদের ভোগান্তি যেমন হয়, তেমনি সরকারের কাজের গতিও মন্থর হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নেও বিলম্ব ঘটে। ফাইল যথা সময়ে নিষ্পত্তি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সভা আহ্বান, নতুন প্রকল্প গ্রহণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কর্তা-ব্যক্তিরা প্রায়ই নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন।


কয়েকজন অতিরিক্ত, যুগ্ম ও উপ-সচিবের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত প্রশাসনের দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে পদোন্নতি এবং পদায়নের কারণেই আমলাতন্ত্রের মেধা ও যোগ্যতায় ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। প্রভাবশালী, দলবাজ ও নীতিনির্ধারক পর্যায়ের আশীর্বাদপুষ্ট কর্মকর্তারাই ধারাবাহিক পদোন্নতি পাচ্ছেন। লোভনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও দফতরে পদায়নও পাচ্ছেন।

কিন্তু মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যাদের খুঁটির জোর কম তারাই অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়ন পাচ্ছেন। মেধা ও সততা থাকা সত্ত্বেও ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শগত কারণে অনেক কর্মকর্তাকে বছরের পর ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) থাকতে হয়। আবার নিরপেক্ষ কর্মকর্তারা যথা সময়ে পদোন্নতিও পায় না বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আমলাতন্ত্রের উপরের স্থরের পদোন্নতির প্রতিটি স্থরেই দলীয় বিবেচনা পিরামিড আকৃতিতে বাড়তে থাকে।

সম্প্রতি শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খানের কাছে টেলিফোনে একটি বিষয়ের সামারি অনুমোদনে কেন বিলম্ব হচ্ছে সে সম্পর্কে জানতে চান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা। এ সময় কয়েকজন সাংবাদিকের উপস্থিতিতে শিক্ষা সচিব বলেন, 'জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এখানে অথর্ব কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়েছে। এসব কর্মকর্তার দক্ষতা ও কাজের মান খুবই খারাপ। অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিবরা সিনিয়র সহকারী সচিব হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। অনেক কর্মকর্তা কাজ বুঝেন না, শুদ্ধভাবে ফাইল ফুট আপ দিতে পারে না। এসব কারণেই বিভিন্ন কাজে লেইট হয়।'

'সচিবালয়ের ফাইলের মান খুবই নিচে নেমে গেছে। শুদ্ধ ফাইল খুব কমই পাওয়া যায়'- এমন মন্তব্য করে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত ১৬ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বলেন, 'বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের পড়ালেখা ও দক্ষতার মান অনেক নিচে নেমে গেছে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে এখনই নজর দেয়া দরকার।'

একই অনুষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় একই রকম অভিমত পোষণ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, 'কিছু কিছু জুনিয়র কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।'

'আমলাতন্ত্র'র কাজের মান নিয়ে যোগাযোগমন্ত্রীর প্রশ্ন তোলার পরদিন গত ১৭ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসনমন্ত্রীর সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাভারে লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৫৯তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে বলেন, 'সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকার হার্ভার্ড, ক্যামব্রিজ ও অঙ্ফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের বিভিন্ন বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া ও প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। আমরা দেশের সিভিল সার্ভিসকে আরও দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই।'

একই অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায়পরায়ণ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে দেশ থেকে দুর্নীতিকে চিরতরে বিদায় জানানোর আহবান জানিয়ে বলেন, 'সরকারের লক্ষ্য অর্জনে এবং উন্নয়ন ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য দরকার দক্ষ ও উদ্যোগী গণকর্মচারী। আমরা সুশাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলে দ্রুত ও দক্ষতার সাথে জনগণকে সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে চাই।'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সচিব সংবাদকে বলেন, 'শুধুমাত্র প্রশিক্ষণেই কর্মকর্তাদের যোগ্যতা, মেধা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায় না। এর জন্য বেশি প্রয়োজন পদোন্নতি ও পদায়নে সৎ, যোগ্য ও মেধাবি কর্মকর্তাদের প্রাধান্য দেয়া। কারণ একজন উপসচিব বা যুগ্ম সচিব চাকরি জীবনে ১০ থেকে ১৫টি দেশে প্রশিক্ষণ কিংবা ভ্রমণের সুযোগ পায়। অতি প্রভাবশালী কর্মকর্তারা এই সুযোগ আরো বেশিও পেয়ে থাকে। দলবাজ ও নীতিহীন কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণের নামে বিদেশে গিয়ে ভ্রমণে ব্যস্ত থাকেন। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপব্যয় ঘটলেও তাদের মেধার বিকাশ খুব একটা হয় না।'

প্রশাসন ক্যাডার বিশ্লেষকরা জানায়, প্রশাসন ক্যাডারকে বলা হয় 'সুপার ক্যাডার'। মূলত ১৯৯১ সালে 'জনতার মঞ্চ'র মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তারা আন্দোলনে নামার পর থেকেই প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের অধিকার হারিয়ে ফেলে। পর্যায়ক্রমে এই ক্যাডারে রাজনীতিকরণ বাড়তে থাকে। যখন যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে সেই সরকারই প্রশাসন ক্যাডারকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছে। পদ, পদোন্নতি ও ব্যক্তিগত লাভ-লোকসানের স্বার্থে আমলারাও নিজেদের বিলিয়ে দিয়েছে সরকারের মধ্যে। এতে আমলাতন্ত্রের বিচক্ষণতা, মেধা ও দক্ষতা কমছে।

এছাড়া কর্মকর্তাদের একাডেমিক ক্যারিয়ার, কাজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণের ওপর ভিত্তি করে পদায়ন না করার কারণেও প্রশাসন ক্যাডার মেধা সংকটে পড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

প্রশাসন ক্যাডার সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ একজন অতিরিক্ত সচিব সংবাদকে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক বাজেট প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেটও প্রায় একই অঙ্কের। অন্যদিকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বাজেট হয়তো ৩০০ কোটি টাকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কিংবা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বাজেটও প্রায় একই অংকের কাছাকাছি। এতে স্বাভাবিকভাবে ধরে নেয়া যায়- যে কর্মকর্তা সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া বা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একটি অনুবিভাগ বা ডেস্কের দায়িত্বপালনে হিমশিম খাবে, তার পক্ষে শিক্ষা বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি ডেস্কের দায়িত্বপালন খুবই কষ্টসাধ্য হবে। কিন্তু কর্মকর্তাদের পদায়নের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আমলে নেয়া হয় না বললেই চলে।

নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ ছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্প এবং কর্মরত থাকাকালে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ পায় কর্মকর্তারা। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব কিংবা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের স্বজনপ্রীতির কারণে কৃষি সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ পায় মৎস্য বিষয়ে, মৎস্য বিষয়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নেয় মাধ্যমিক শিক্ষা সর্ম্পকে, কারিগরি শিক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নেয় কলেজের গণিত সর্ম্পকে, গণিতের শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ নেয় সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে ইত্যাদি।

প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি নিজস্ব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সাভারের 'বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র' বা বিপিএটিসি, রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, সাভারের 'অফিসার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউশন' বিয়াম ফাউন্ডেশনসহ বিভাগীয় পর্যায়ে বেশকিছু প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। পদোন্নতি ও নতুন পদায়নের পরও কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ পায়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২৯ সেপ্টেম্বরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী জনপ্রশাসনে প্রশাসন ক্যাডারে কর্মকর্তা আছেন প্রায় পাচঁ হাজার ছয়'শ জন। এর মধ্যে সচিব রয়েছেন ৭২ জন, অতিরিক্ত সচিব ৪২২ জন, যুগ্ম সচিব ৯১৩ জন, এক হাজার ২৯৮ জন, সিনিয়র সহকারি সচিব এক হাজার ৩৮৯ জন, সহকারি সচিব এক হাজার ৪২৯ জন। এছাড়াও সাতজন বিভাগীয় কমিশনার (যুগ্ম বা অতিরিক্ত সচিব), ৬৪ জন ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) ও ৩২৯ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রয়েছেন।

Published in: http://thedailysangbad.com/first-page/2015/10/01/28276


আরো পড়ুন:

শিক্ষার ঋণে আনন্দভ্রমণ!
বিভিন্ন সরকারী ট্রেনিং এ কারা যায়? কি করে?
'শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা' নিতে আমলারাও যাচ্ছেন বিদেশে - শিক্ষক-শিক্ষাবিদরা সুযোগ পান না
সংস্কারের বিকল্প নেই
ঔপনিবেশিক জনপ্রশাসন এবং ক্যাডার সার্ভিস সংস্কার
ক্যাডারের রাজা "প্রশাসন ক্যাডার"
প্রশাসন ক্যাডার দুর্নীতির শীর্ষে!

Tuesday, September 29, 2015

বেতনক্রম নিয়ে ছোট আন্দোলন বড় সমস্যা

শ্যামল সরকার

৪ দিনেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছে * লাগাতার কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা * পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের কর্মবিরতি চলবে

সরকারের ঘোষিত অষ্টম বেতনক্রম নিয়ে অসন্তোষ দানা বাঁধছে। নতুন বেতনক্রমে বৈষম্য হয়েছে-এই অভিযোগ এনে ঈদের আগে বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ আন্দোলন করেছে। ঈদশেষে তারা আবারও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও এসব আন্দোলন এখনও বড় আকার পায়নি। তবুও বিষয়টিকে বেশ জটিল এবং বড় বলেই মানছে সরকারি পক্ষ। আর এ কারণেই সরকার এসব সমস্যা সমাধানের জন্য অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে। অবশ্য এ কমিটিতে অর্থমন্ত্রীকে রাখায় আপত্তি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বড় একটি পক্ষ। শিক্ষামন্ত্রী কমিটির ওপর আস্থা রাখতে সকলকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

গত ৭ সেপ্টেম্বর নতুন বেতনক্রম ঘোষণা করা হলেও তা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় গেজেট এখনো প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। অর্থবিভাগ অবশ্য দাবি করছে যে, গেজেটের খসড়া প্রস্তুত আছে। অর্থমন্ত্রী আগামী ১৬ অক্টোবর দেশে ফিরবেন। অক্টোবরেই গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা আছে। গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটি বিভিন্ন শ্রেণিপেশার দাবিগুলো বিবেচনা করে বেতন বৈষম্যের বিষয়টি নিরসন করলেই তখন গেজেট প্রকাশ করা হবে কিনা-এই প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গেজেট প্রকাশ না হলে বোঝা যাবে না কোথায় কোথায় সমস্যা। তার ধারণা এবার বেতনক্রম নিয়ে অসংখ্য মামলা-মোকদ্দমার উদ্ভব হতে পারে। আর সেরকম পরিস্থিতি হলে আগামী এক বছরেও নতুন কাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন পাওয়া যাবে কিনা সে নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে।

বেতনক্রম ঘোষণার আগে গঠিত সচিব কমিটিতে দায়িত্বে থাকা একজন জ্যেষ্ঠ সচিব ইত্তেফাককে বলেছেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যেসব দাবি তা বেতনক্রম ঘোষণার আগেই সমন্বয় করা হয়। নতুন করে যেসব কথা বলা হচ্ছে তা সমন্বয় করা সম্ভব হলেও কঠিন হবে। এ সচিবের মতে বেতনক্রম থেকে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল প্রত্যাহার করায় মূলত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। আর এ সমস্যা দূর করতে হলে পুনর্বহাল করতে হবে। শুধু বাত্সরিক প্রণোদনা (ইনক্রিমেন্ট) দিয়ে দাবির সঙ্গে সমন্বয় করা সম্ভব নয়। কারণ, যারা নতুন বেতনক্রমের বিরোধিতা করছেন, তাদের ঊর্ধ্বতন পদে পদোন্নতির সুযোগ কম। ক্ষেত্রবিশেষে এমন পদ রয়েছে যেখানে যোগদান করা হয় সেখান থেকেই অবসরে যেতে হয়। তারা সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল প্রাপ্তিকেই পদোন্নতি বা মর্যাদার বলে বিবেচনা করেন। কারণ একজন মাঝারি গোছের কর্মকর্তা যে বেতন পান অবসরকালে তারা সে বেতনক্রম নিয়ে যেতে পারেন। এতে তাদের অবসর সুবিধাও বাড়ে। এটি সচিবালয় ও সচিবালয়ের বাইরে যারা এতদিন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত হতেন তাদের ক্ষেত্রে বেশি প্রযোজ্য। তবে সচিবালয়ের বাইরের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এর প্রতিক্রিয়া প্রকট। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি স্কুল কলেজ শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল উপকারে লাগতো।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নো-ভ্যাট আন্দোলনের সফলতায় বেতনক্রম নিয়ে আন্দোলনরত পক্ষগুলো বেশ উত্সাহী হয়েছে। এখন তারা আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি নির্ধারণ করতে ব্যস্ত রয়েছেন। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই কর্মসূচি চূড়ান্ত করে মাঠে নামছেন তারা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বিসিএস (আনসার), সরকারি কলেজ স্কুল, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, প্রাথমিক বিদ্যালয়, সচিবালয় কর্মচারীরা এখন পর্যন্ত বেতনক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো ও স্বতন্ত্র পদমর্যাদা নির্ধারণ করাই আমাদের প্রধান দাবি। বেতন বৃদ্ধি আসল কথা নয়, প্রশ্নটি মর্যাদার। তাই বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনের জন্য শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো নির্ধারণ করাই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধান। আমলারাসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সমাজের পৃথক বেতন কাঠামো রয়েছে। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকাসহ এশিয়ার অনেক দেশে শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো রয়েছে। বাংলাদেশেও শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো প্রয়োজন। তিনি জানান, বেতন ও পদমর্যাদা নিয়ে বৈষম্যের বিষয়ে সরকারের সাথে আলোচনা শুরু হয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও আলোচনা একসাথে চলবে। পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণের জন্য আগামী ৫ বা ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভা আহ্বান করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, অষ্টম বেতন কাঠামোতে শিক্ষকদের অবজ্ঞা করা হয়েছে। এ জন্য অর্থমন্ত্রী দায়ী। তাই বেতন বৈষম্য নিরসন কমিটিতে তাকে রাখার বিষয়ে শিক্ষকদের আপত্তি রয়েছে।

তিনি বলেন, অষ্টম বেতন কাঠামোতে সিলেকশন গ্রেড বাতিল হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সর্বোচ্চ ধাপে (গ্রেড-১) উন্নীত হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। দ্বিতীয় গ্রেডের পর তাদের বেতন বাড়লেও প্রথম গ্রেডে তারা যেতে পারবেন না। এ ছাড়া নিয়মিত ২০টি গ্রেডের বাইরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিব এবং জ্যেষ্ঠ সচিবদের জন্য দুটি বিশেষ গ্রেড থাকায় অধ্যাপকদের মর্যাদা আগের তুলনায় কমবে। আমলাতোষণ করে যে বেতন কাঠামো তৈরি হয়েছে তাতে শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।

সরকারি কলেজ: সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাদ দেয়ার প্রতিবাদে আন্দোলনে মাঠে রয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। কর্মসূচির অংশ হিসাবে ইতিমধ্যে সারাদেশে দুই দফা কর্মবিরতি পালন করেছেন তারা। আগামী ৭ অক্টোবর তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানববন্ধন করবেন। এছাড়া ১৪ ও ১৫ অক্টোবর ক্লাস বর্জন কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন, ঘোষিত পে-স্কেলে শিক্ষা ক্যাডারে গ্রেড কয়েক ধাপ নামিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া সিলেকশন গ্রেড বাতিল করায় শিক্ষকরা আরও বৈষম্যের শিকার হবেন।

সরকারি মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়: বেতন বৈষম্য কমানোসহ ৭ দফা দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বেতন গ্রেড ১১তম ধাপে পুনর্নির্ধারণসহ ১১ দফা দাবিতে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের দাবি না মানার শেষ তারিখ আজ। দাবি মানা না হলে অক্টোবর থেকে লাগাতার কর্মসূচি দেয়ার হুমকি রয়েছে তাদের।

এছাড়া প্রধান শিক্ষকদের জন্য ঘোষিত দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার পদমর্যাদা বাস্তবায়ন করা ও জাতীয় বেতন স্কেলের ১০ম গ্রেডে অন্তর্ভুক্তকরণসহ পাঁচ দফা দাবিতে কর্মসূচি রয়েছে। প্রধান শিক্ষক সমিতির নেতা আলাউদ্দিন মোল্লা জানান, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেয়ার দেড় বছরেও প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা ও বেতন স্কেল দেয়া হয়নি। ৮ম বেতন কাঠামোতে ১০ম গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে তাদের।

৮ম বেতন কাঠামোতে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পুনর্বহাল, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা বাস্তবায়ন, ১০ গ্রেডে প্রধান শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করাসহ বিভিন্ন দাবিতে লাগাতার কর্মবিরতির হুমকি দিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক রিয়াজ পারভেজ বলেন, দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগামী ৩ থেকে ৫ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালনের কর্মসূচি রয়েছে তাদের। আগামী ৬ অক্টোবর থেকে লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা রয়েছে।

বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মচারী সমিতি:স্মারকলিপি দেয়ার মাধ্যমে বেতনক্রমে তাদের অসন্তুষ্টির কথা প্রকাশ করে আসছে সচিবালয় কর্মচারীরা। তারা অবশ্য একটু গা-ঢাকা ভাবে কর্মসূচি পালন করে আসছে। তারাও টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালের পক্ষে।

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন: প্রতিষ্ঠানের সভাপতি একেএম আব্দুল হামিদ ইত্তেফাককে বলেন, প্রায় ৬০ হাজার ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সরকারি চাকরিতে আছেন। অষ্টম বেতন স্কেলে তারা বেতন বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। ইনস্টিটিউশনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে বেতন বৈষম্য দূর করার জন্য সরকারকে এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে।

Published in: http://www.ittefaq.com.bd/national/2015/09/30/37785.html

৮ম পে-স্কেল ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অসন্তোষের কারণ

এমএম রহমান

সরকার সম্প্রতি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৮ম পে-স্কেল ঘোষণা করেছে। এ পে-স্কেল সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল-বেতন প্রায় দ্বিগুণ করার ঘোষণা দেয়া হলেও প্রজাতন্ত্রের অধিকাংশ চাকরিজীবীদের মাঝে এ পে-স্কেল ব্যাপক ক্ষোভ, অসন্তোষ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ২৬টি ক্যাডার, সরকারি মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকম-লী ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং ইতোমধ্যে তারা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তাদের ভাষায় এ পে-স্কেল অতীতের যে-কোন পে-স্কেলর তুলনায় বৈষম্যমূলক, অসম্মানজনক ও অতিমাত্রায় আমলাবান্ধব।সরকারকে এ পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে বেতন-ভাতা খাতে সরকারকে প্রচুর টাকা খরচ করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এ-ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিক। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০৯ সালে ৭ম পে-স্কেল ঘোষণা করলে তখন এরূপ অসন্তোষ দেখা দেয়নি। তাহলে এ পে-স্কেলকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে কেন এত অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হল তা খতিয়ে দেখা দরকার।এ অসন্তোষের কারণ অনুসন্ধানে জানা যায় যে, ৮ম পে-স্কেল টাইমস্কেল এবং সিলেকশন গ্রেড বাতিল করাই মূল কারণ। এই ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বোঝানো হয়েছে যে, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড চালু থাকলে বেতন-ভাতার হিসাবে বিশাল জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং বাজেট প্রণয়নে বিশেষ সমস্যার সৃষ্টি করে। আরও বোঝানো হয়েছে, টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের পরিবর্তে বার্ষিক ৩ থেকে ৫ শতাংশ চক্রবৃদ্ধি হারে বেতন বৃদ্ধি করলে চাকরিজীবীরা অধিক লাভবান হবেন। কিন্তু, তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেল এ তথ্য সঠিক নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বোঝানো হয়েছে। বর্তমান ও সাবেক আমলারা (যেমন, পে-কমিশনের চেয়ারম্যান ও অর্থমন্ত্রী সাবেক আমলা) তথ্য গোপন রেখে তাদের গোষ্ঠীগত স্বার্থে এই কাজটি করেছেন।টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদানের ক্ষেত্রে পদোন্নতির প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। ফলে পদোন্নতিজনিত কারণে যদি বেতন-ভাতার হিসাব আর বাজেট প্রণয়নে সমস্যা না হয় তাহলে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদানের ক্ষেত্রেও কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আর টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বিষয়টি শুধু আর্থিক বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়; বিষয়টি মর্যাদার সঙ্গেও জড়িত। কারণ, বর্তমান পে-স্কেল সরকারি চাকরজীবীদের মর্যাদা নির্ধারণে শ্রেণী প্রথার পরিবর্তে তাদের গ্রেডকে বিবেচনায় ধরার প্রস্তাব করা হয়েছে।টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড কী তা আগে জানা দরকার। পদোন্নতির সব শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও যখন একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে শুধু শূণ্যপদের অভাবে বা ওপরে আর পদ না-থাকাতে পদোন্নতি দেয়া সম্ভব হয় না তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার জন্য তাকে ১টি বা ২টি গ্রেড উপরের স্কেলে বেতন-ভাতার সুবিধা দেয়া হয়। যেমন, বিসিএস সাধারণ শিক্ষাসহ ২৬ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ৫ বছরে প্রথম পদোন্নতির কথা থাকলেও প্রথম পদোন্নতি পেতে ১০-১২ বছর লেগে যায়। ফলে চাকরির ৪ বছর পূর্তিতে কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সিলেকশন গ্রেডের মাধ্যমে একজন কর্মকর্তাকে ৯ম গ্রেড থেকে ৭ম গ্রেডে বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়।এখন দেখা যাক টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পদ্ধতি বিলুপ্ত করার ফলে কারা কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অধ্যাপক পদে পদোন্নতির পর জাতীয় বেতন-স্কেলের ৩য় গ্রেডে বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। এরপর একটি টাইম স্কেল পেয়ে তারা ২য় গ্রেডে উন্নীত হন। তারপর সিলেকশন গ্রেড পেয়ে তারা ১ নম্বর গ্রেডে উন্নীত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকদের ২৫% এই সিলেকশন গ্রেড পেয়ে থাকেন। ৭ম পে-স্কেল সচিব ও সচিব পদ-মর্যাদার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেকশন গ্রেড-প্রাপ্ত অধ্যাপকগণ ১ নম্বর গ্রেড ভোগ করতেন। কিন্তু ৮ম পে-স্কেল টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বিলুপ্ত করার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকগণ আর কখনো ৩য় গ্রেড অতিক্রম করতে পারবেন না। অন্যদিকে ৮ম পে-স্কেল মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব, জ্যেষ্ঠ সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য ১ নম্বর গ্রেডেরও ওপরে আরও ২টি সুপার গ্রেড সৃষ্টি করার ফলে প্রকৃত বিচারে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকগণ মন্ত্রিপরিষদ সচিবের থেকে ৪ ধাপ, জ্যেষ্ঠ সচিবের থেকে ৩ ধাপ আর সচিবের থেকে ২ ধাপ নিচে অবনমিত হয়ে যুগ্ম সচিবের স্তরে নেমে আসবেন।টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বিলুপ্ত করার ফলে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রকৌশল, কৃষিসহ ২৬টি ক্যাডারের কর্মকর্তাবৃন্দ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে জানা গেছে। ২৬ ক্যাডারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের মাধ্যমে গ্রেড উন্নয়ন ঘটে। ফলে আর্থিক ক্ষতি বাদ দিলেও গ্রেড উন্নয়ন বন্ধ করাতে তাদের মর্যাদা অবনমিত হবে। এই ২৬ ক্যাডারের কর্মকর্তাগণের সর্বোচ্চ ৪র্থ গ্রেড পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ থাকলেও অধিকাংশ কর্মকর্তাগণ ৪র্থ গ্রেডে পেঁৗছানোর আগেই অবসরে চলে যান। এই সরকারি মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদগুলো প্রায় বস্নক পোস্ট। সেখানে ২ থেকে ৪ শতাংশ শিক্ষক সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষকের পদে পদোন্নতি পেয়ে থাকেন। বাকি ৯৮ থেকে ৯৬ শতাংশ শিক্ষক সারা জীবন পদোন্নতিবিহীন একই পদে চাকরি করেন। এই কারণে তাদের জন্য দুই-একটি টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল হলে জাতি গঠনের কারিগর এই শিক্ষকেরা সারা জীবন একই গ্রেডে থেকে যাবেন। শিক্ষক ছাড়াও অন্যান্য অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটবে।টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের গূঢ় রহস্যটি হলো, গত বছর ৩০টি দফতর বা প্রতিষ্ঠান প্রধানের পদ ১ নম্বর আর ২০টি প্রতিষ্ঠান প্রধানের পদকে ২ নম্বর গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। এই পদগুলোতে স্ব-স্ব ক্যাডারের কর্মকর্তারা নিয়োজিত থাকলেও সুকৌশলে তাদের এখনও নিয়মিত পদায়নের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এই পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষমতা প্রশাসন ক্যাডারকেন্দ্রিক মন্ত্রণালয়ের হাতে। এখন টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের ফলে ২৬ ক্যাডারের কর্মকর্তাগণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৪র্থ গ্রেড আর ক্ষেত্রে বিশেষে ৩য় গ্রেড আর অতিক্রম করতে পারবেন না। তখন এসব ক্যাডারের কর্মকর্তাগণকে ১ নম্বর ও ২ নম্বর গ্রেডের অযোগ্য ঘোষণা করে সেখানে প্রশাসন ক্যাডারের আমলাদেরকে বসানো হবে।বর্তমানে পদের দ্বিগুণ বা তারও বেশি আমলাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এইসব আমলা পদের অভাবে পূর্বপদে বা নিম্নপদে চাকরি করছেন। পদের অতিরিক্ত পদোন্নতি-প্রাপ্ত এসব আমলাদের ২৬ ক্যাডারের জন্য নির্ধারিত এ ৫০টি ১ ও ২ নম্বর গ্রেডের পদে বসানো হবে। আমলাদের অন্য ক্যাডারের পদ দখলের প্রচেষ্টাটি বেশ পুরাতন। যেমন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ও পরিচালকের পদগুলো সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের জন্য সিডিউলভুক্ত পদ হলেও বিগত এক দশকের বেশি সময় ধরে সেখানে আমলারা বসে আছেন।সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বাতিলের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অন্যান্য নন-ক্যাডার শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী মূল টার্গেট নন। মূল টার্গেট হলো ২৬ ক্যাডারের এ ৫০টি ১ ও ২ নম্বর গ্রেডের পদ। এ কারণে সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের দাবি মেনে নেয়ার সবুজ সংকেত দিলেও ২৬ ক্যাডারের দাবির বিষয়ে আমলারা অনড় অবস্থানে রয়েছেন।প্রশাসন ক্যাডারের সহকারী কমিশনার, সিনিয়র সহকারী কমিশনার এবং উপসচিবগণও অন্যান্য ক্যাডারের ন্যায় যথাক্রমে ৪ বছর, ১০ বছর এবং ১৮ বছর পূর্তিতে সিলেকশন গ্রেড পেয়ে আর্থিক ও মর্যাদার দিক দিয়ে লাভবান হয়ে থাকেন। ফলে প্রশাসন ক্যাডারের এই তিন স্তরের কর্মকর্তাদের মাঝে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করা নিয়ে মৃদু অসন্তোষ আছে। তাদের অসন্তোষ প্রবল নয় কারণ তারা নির্ধারিত সময়ে ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতি পেয়ে থাকেন এবং তারা ১ নম্বর গ্রেড ছাড়িয়ে আরও ২টি সুপার গ্রেড পর্যন্ত পেঁৗছাতে পারেন যেখানে ২৬ ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদ ৩য় বা ৪র্থ গ্রেডে থামিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলজনিত ক্ষতি প্রশাসন ক্যাডারের ওই তিন স্তরের কর্মকর্তাদের জন্য সাময়িক আর ২৬ ক্যাডারসহ অন্যদের জন্য স্থায়ী।এই পে-স্কেলটি প্রস্তত, বিচার-বিশ্লেষণ, কাটছাঁট আর বাস্তবায়ন পর্যায়ে যারা নিযুক্ত ছিলেন তারা সবাই প্রশাসন ক্যাডারের সাবেক ও বর্তমান আমলা। তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তথ্য গোপন করে প্রশাসন ক্যাডার তথা আমলাদের স্বার্থরক্ষার চেষ্টা করেছেন, অন্যদের অবনমিত রেখে গোষ্ঠীগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন।চলতি মাসের ১৬ তারিখে ৮ম জাতীয় বেতন স্কেলে বেতন বৈষম্য দূর করা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার। এ কমিটিতে অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে শিল্পমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে সদস্য করা হয়েছে।উপর্যুক্ত মন্ত্রী মহোদয়দের আন্তরিকতা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই। কিন্তু, যেহেতু তারা বেতনভোগী চাকরিজীবী নন, সেহেতু নানা ক্যাডার ও নন-ক্যাডার চাকরিজীবীদের বৈষম্যগুলো তাদের জানার কথা নয়। এই কারণে তথ্য দিয়ে সাহায্য করার জন্য ওই কমিটির সহায়ক কর্মকর্তাদের মধ্যে ২৬ ক্যাডার প্রতিনিধি থাকা অত্যাবশ্যক ছিল। ২৬ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন অভিযোগ করেছে, সরকারকে অন্ধকারে রেখে, বিভ্রান্ত করে যে আমলারা এ পরিকল্পিত বৈষম্য সৃষ্টি করেছে, তাদেরই আবার এ বৈষম্য নিরসন কমিটির সহায়ক কর্মকর্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে মন্ত্রীরা কোন তথ্য চাইলে এ আমলারা আগের মতোই তাদের গোষ্ঠীস্বার্থের অনুকূলে তথ্য সরবরাহ করবেন আর অন্যদের স্বার্থের বিষয়টি চেপে যাবেন। এ কমিটিকে সহায়তা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব/সচিব, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের সিনিয়র সচিব/সচিব ভারপ্রাপ্ত সচিবেরা। উল্লেখ্য, উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত পদগুলোকে সুকৌশলে বাংলাদেশ সরকারের পদ বলা হলেও এইসব পদের ৯৯ শতাংশ বা তার বেশি কর্মকর্তা প্রশাসন ক্যাডারের। 'বাংলাদেশ সরকারের পদ' একটি বাহ্যিক মোড়ক মাত্র।টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করলে ২৬ ক্যাডারের কর্মকর্তাসহ লাখ লাখ নন-ক্যাডার শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন আর মর্যাদার দিক থেকে হবেন অবনমিত। কতিপয় আমলাকে খুশি করতে এই ব্যাপক সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রবল অসন্তোষের বোঝা সরকার কেন বহন করবে?
rahmanmm40@gmail.com

Published in: http://www.thedailysangbad.com/sub-editorial/2015/09/29/28062

Monday, September 21, 2015

"স্বতন্ত্র স্কেল চাই, অন্য কোন দাবি নাই!!"

২০০৯ঃ শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব নিয়েই তিনি জানিয়ে দিলেন "শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো হবে"
মনের কথা মুখে আনার আগেই এমন আশ্বাস বানী শুনে শিক্ষক সমাজ গদগদ
 আমাদের ত্রাণকর্তা এসে গেছেন, আমাদের আর কিচ্ছু চাইতে হবে নাকো।।

২০১০ঃ তিনি আবার বললেন "শিক্ষকদেরকে আমি মাথায় করে রাখতে চাই",

 শিক্ষানীতি হল
 বিচ্ছিন্ন শিক্ষক সমাজ আরামে ঘুম দিলো

আশ্বাস দাতা বলেই চললেন-----

২০১১ঃ ‘শিক্ষকদের জন্য আলাদা স্কেল হচ্ছে’
            বিচ্ছিন্ন শিক্ষক সমাজঃ কবে হচ্ছে? কবে হবে?
২০১২ঃ ‘শিক্ষকদের জন্য শিঘ্রই আলাদা স্কেল ’
           বিচ্ছিন্ন শিক্ষক সমাজঃ কবে হচ্ছে? কবে হবে?
২০১৩ ‘শিক্ষকদের জন্য আলাদা স্কেল চূড়ান্ত হচ্ছে’
           বিচ্ছিন্ন শিক্ষক সমাজঃ কবে হচ্ছে? কবে হবে?
২০১৪ঃ ‘শিক্ষকদের জন্য আলাদা স্কেলের কাজ চলছে’
          বিচ্ছিন্ন শিক্ষক সমাজঃ কবে হচ্ছে? কবে হবে?
২০১৫ ‘আর কয়েক মাসের মধ্যেই শিক্ষকদের জন্য আলাদা স্কেল’
          বিচ্ছিন্ন শিক্ষক সমাজঃ কোন মাসে হচ্ছে? কোন মাসে হবে?

এই পর্যায়ে শিক্ষক সমাজ কিছুটা হতাশ, কিন্তু জাতির বিবেক তো, তাই আরো ধৈর্য, ......আরো ধৈর্য.........আরো ধৈর্য......

দৃশ্যপটে আবির্ভাব ঘটলো পয়সাওয়ালা এক জ্ঞানী ব্যাক্তির

 "জ্ঞানহীন!!, করাপ্ট!!, এদের এত সম্মান কিসের?
 যা দিয়েছি ঢের!!"

এইবার বুঝি ঘা লাগলো আতে
তাইতো সবাই হলো একসাথে
স্বতন্ত্র স্কেল চাই
অন্য কোন দাবি নাই

দৃশ্যপটে আবার শিক্ষাদাতা
"আপনি যে কি করেন যা-তা
দেনতো দেখি আমার কাছে ছেড়ে
শান্তশিষ্ট হলেও এদের কাজ হবে না ঘা মেরে
শিক্ষা দেব কাজের মাঝে,  প্লান আছে মাথায়
মুখের কথা বলতে হবে, রাখতে হবে আশায়
ধৈর্য ধরে দেখেন শুধু, দেন একটু সময়
সকল দাবি সকল কিছু, পাঠিয়ে দেবো কোমায়"

কিন্তু, 
এবার উঠেছে জেগে
কথার যাদুতে পার পাবে না সে-যে
আন্দোলন থামবে যবে
কড়ায় গন্ডায় হিসাব বুঝিয়ে তবে।।
                               
                           == মহাকাব্যের অতি সংক্ষিপ্ত সংস্করন ==

আরো পড়ুনঃ

শিক্ষকদের জন্য আলাদা স্কেল হচ্ছে শিক্ষামন্ত্রী-2013
শিক্ষকদের পৃথক বেতন কাঠামোর পরিকল্পনা রয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী-2014
শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতনকাঠামো শিক্ষানীতিতেই আছে-2015

শিক্ষকদের পৃথক বেতন কাঠামো বিবেচনাধীন , প্রধানমন্ত্রী 2011
শিক্ষকদের নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বাজে মন্তব্য-2015

Wednesday, September 9, 2015

শিক্ষকদের নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বাজে মন্তব্য



আরো পড়ুনঃ "স্বতন্ত্র স্কেল চাই, অন্য কোন দাবি নাই!!"

তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিলো

তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিলো কারন তিনি ক্রীতদাস ছিলেন। তিনি কত ভাগ্যবান- তাঁর উত্তর পুরুষ তাঁর বেদনাকে অনুভব করেছেন, গভীর অনুভব থেকে তাঁর বেদনার কথা সবাইকে জানিয়েছেন।
আমার, আমাদের মনেও রক্তজবার মতো ক্ষত আছে......। আমরা শিক্ষক, মুক্তচিন্তার মানুষ। সারাবিশ্ব থেকে জ্ঞান আহরন করে কত মমতা দিয়ে আমরা আমাদের উত্তরপুরুষের হাতে জ্ঞান/আলোর দীপাবলী তুলে দিই। গভীর আনন্দে চোখ ঝাপসা হয়ে আসে যখন দেখি- আমাদের উত্তরপুরুষেরা সেই দীপাবলী হাতে নিয়ে আলোর মিছিলে হাঁটছেন......জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিল্প, সংস্কৃতিতে দেশকে উত্তরোত্তর সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে লাল-সবুজের পতাকাকে সম্মানের আসনে গেঁথে দিচ্ছেন। আমরা, শিক্ষকরা উত্তরপুরুষের এই সাফল্য-সমৃদ্ধিটুকু দেখেই খুশী। আমাদের, শিক্ষকদের মনের স্বর্গীয় এই অনুভবে ঈর্ষার কোন স্থান নেই; যেমন থাকে না বাবা-মায়েদের মনে-সন্তানের সাফল্য-সমৃদ্ধিতে । সেই শিক্ষকদের মনে রক্তজবার মতো এই যে একটি ক্ষত আছে, সেই ক্ষতের কথা আমাদের উত্তরপুরুষেরা কখনও কি কেউ অনুভব করেছেন? অনুভব করতেই হবে- এমন দাবী নেই। শিক্ষকদের মনের রক্তজবার মতো ক্ষতের কথা আমাদের উত্তরপুরুষেরা এখনও কেউ বলেননি......। বলতেই হবে- এমনও নয়। তবে শিক্ষকদের অধিকার নিশ্চয়ই আছে- নিজেদের আত্মমর্যাদার কথা বলবার, নিজেদের সম্মানের জন্য দু-দন্ড কোথাও দাঁড়াবার। নিজেদের আত্মমর্যাদা, নিজেদের সম্মানের কথা বলাটা নিশ্চয়ই অন্যায় কিছু নয়। শিক্ষকদের যথাযথ সম্মানটুকু অন্ততঃ দিতে না পারলেও তাঁদের অসম্মান করার, অমর্যাদা করার অধিকার কেউ কি রাখেন? যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষককে দেখি- নিজের সম্মানের কথা বলতে এসে রাজপথে মার খান, বুকটা ব্যথায় মুচরে উঠে......মনে পরে যায় আমার নিজের শিক্ষক খালেক স্যার এর কথা। রাজপথে অনশনরত স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের শীর্ণ মুখ দেখলে হৃদয়টা ভেঙে-চুড়ে যায়......মনে পড়ে যায় হরিপদ স্যার, সিরাজ স্যার, করিম স্যার, দেবনাথ স্যারদের কথা। আজ আমি, আমরা- রক্তজবার মতো ক্ষতকে বুকের ভেতরে আড়াল করে রেখে, বিষণ্ণ মন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমীক ভবনের বারান্দায়, বাইরে বসে থাকি......মাঝে মাঝে দলবেঁধে হাঁটি......নিজেদের সম্মানের জন্য, আত্মমর্যাদার জন্য...... আর এটুকু তো আমরা করতেই পারি......। নাকি তাও পারা যাবে না? আমার, আমাদের মনের এই রক্তজবার মতো ক্ষত কি কাউকেই স্পর্শ করে না, করবে না ????????

শিখা ফাতেমা হক
অধ্যাপক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

Tuesday, August 25, 2015

শিক্ষার ঋণে আনন্দভ্রমণ!

শরীফুল আলম সুমন 

এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবস্থারই তুলনা করা হয়। আর শিক্ষাব্যবস্থায় যেকোনো সংযোজন-বিয়োজন হলেও মডেল হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকেই ধরা হয়। এমনকি জাতীয় বাজেটেও শিক্ষা খাতে মিল থাকে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে। অথচ শিক্ষার মানোন্নয়নের কথা বলে সফর করা হয় ইউরোপ-আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়ার দেশে দেশে। সম্প্রতি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্পের (হেকেপ) অধীনে ৩৬ জন কর্মকর্তা যান ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও কানাডায়। একই প্রকল্পে শিগগিরই নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায়ও ট্যুর রয়েছে। আর সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি এনহান্সমেন্ট প্রজেক্টের (সেকায়েপ) অধীনে ১৫ জনের একটি টিমের ব্রাজিল সফরও নির্ধারিত হয়েছে। চলতি বছরই এ প্রকল্পের অধীনে আরো কয়েকটি ট্যুরে জার্মানি, ফিলিপাইন, মেক্সিকো, বেলজিয়াম যাওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। দুই প্রকল্প মিলে ইউরোপ-আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়ার দেশগুলোতে এ বছরই ঋণের টাকায় সফর করছেন ৯২ জন কর্মকর্তা।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, এই ধরনের ট্যুর মূলত এক প্রকার আনন্দভ্রমণ। একটি নতুন দেশে গিয়ে আট-দশ দিনে তেমন কিছুই জানা সম্ভব নয়। তা ছাড়া ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলো থেকে কিছু দেখে এলে তা আমাদের দেশে বাস্তবায়ন করাও সম্ভব নয়। তাই সফরগুলো আমাদের দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশেই হওয়া উচিত।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, হেকেপ প্রকল্প শেষ হবে ২০১৮ সালে। এই প্রকল্পের ব্যয় প্রায় দুই হাজার ৫৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২৬২ কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার। বাকি সবই বিশ্বব্যাংকের ঋণ। আর সেকায়েপ প্রকল্পের ব্যয় প্রায় তিন হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যা শেষ হবে ২০১৭ সালে। এর মধ্যে মাত্র ৩০৬ কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার, বাকি টাকা ঋণ হিসেবে নেওয়া হয়েছে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে। দুটি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই শিক্ষার মানের উন্নয়ন।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'শিক্ষার যেকোনো ট্যুরের ক্ষেত্রে যে দেশগুলো দ্রুত উন্নতির দিকে যাচ্ছে এবং শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেখানেই যাওয়া উচিত। বিশেষ করে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কার শিক্ষাব্যবস্থা দেখাটাই যুক্তিযুক্ত।

কারণ আজ থেকে ৩০-৪০ বছর আগেও তারা শিক্ষায় আমাদের নিচে ছিল, কিন্তু এখন ৫০ গুণ এগিয়ে গেছে। তাই কানাডা, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা দেখলে আমাদের খুব একটা লাভ নেই। আর যদি হয়, দেখলাম আর ঘুরে এলাম তাহলে তো কোনো ফলই হবে না। এসব ট্যুরে যাঁরা কারিকুলাম ও এডুকেশনের সঙ্গে জড়িত, তাঁদেরই রাখা উচিত।'

ইউজিসি সূত্র জানায়, হেকেপের একচেঞ্জ ও স্টাডি প্রোগ্রামের আওতায় মোট ছয়টি ট্যুর আছে। এর মধ্যে দুটি ট্যুর হয়েছিল ২০১২ সালে। বাকি চারটি ট্যুর হচ্ছে চলতি বছর। প্রতি দলে থাকছেন ১২ জন সদস্য। এর মধ্যে প্রথম গ্রুপ ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্র ট্যুর করে ২৩ জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত। দ্বিতীয় গ্রুপ যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র ট্যুর করে ১৫ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত। তৃতীয় গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ট্যুর করে ২০ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে এই প্রোগ্রামের শেষ ট্যুরটি হবে, যার আওতায় যাওয়া হবে সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।

জানা যায়, প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাব (আরডিপিপি) অনুযায়ী, পলিসি মেকাররাই এই সফরে যাবেন, যাতে কোনো কিছু পরিদর্শন করে তাঁরা তা বাস্তবায়ন করতে পারেন। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয় প্রতি সফরে একজন করে কর্মকর্তা মনোনয়ন দিতে পারে। কিন্তু প্রতিটি ট্যুরেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ছিলেন। প্রথম ট্যুরে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রীর সাবেক এপিএস মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈ। আর দ্বিতীয় ট্যুরে ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যানের পিএস মো. শাহীন সিরাজ। কিন্তু তাঁদের দ্বারা এই প্রকল্প কিভাবে উপকৃত হবে, এর ব্যাখ্যা দিতে পারেননি কেউ। এ ছাড়া শর্তানুযায়ী, উপসচিব পদমর্যাদার নিচে কেউ এই ট্যুর করতে পারবেন না। অথচ কয়েকজন সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা ইতিমধ্যে ট্যুর করে এসেছেন। এ ছাড়া সফরগুলোতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা রয়েছেন। অথচ শিক্ষকদের জন্যই মূলত এই প্রোগ্রাম। এ ছাড়া এই তিনটি ট্যুরে এমন দুজন কর্মকর্তা রয়েছেন, যাঁরা সফর শেষের কয়েক দিন পরই অবসরে চলে যাবেন। আর গত তিনটি ট্যুরে ইউজিসির ১২ জন কর্মকর্তা ছিলেন, যাঁদের অনেকেই দাপ্তরিক কাজ করেন; কখনোই এ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। আবার একটি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা সফর শেষেই অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলি হয়ে গেছেন।

নাম প্রকাশ না করে ট্যুর থেকে ফিরে আসা ইউজিসির একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'অনেকেরই চাকরিজীবনে আকাঙ্ক্ষা থাকে ইউরোপ-আমেরিকা যাবেন। এই প্রোগ্রামের আওতায় সেই সুযোগ মিলছে। বিদেশে অনেকেই যে কাজে গেছেন তার চেয়ে অন্য কাজেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। সফরের আগে অনেক ধরাধরি লাগলেও সফর শেষে একটি রিপোর্ট দিলেই দায়িত্ব শেষ। তারপর আর এ বিষয়ে কেউ কোনো খোঁজখবর নেয় না।'

এসব বিষয়ে হেকেপ প্রকল্প পরিচালক ড. গৌরাঙ্গ চন্দ্র মহান্ত কালের কণ্ঠকে বলেন, 'যারা নির্বাচিত হয় তারা সবাই এই প্রকল্পের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত। আর আরডিপিপি অনুযায়ী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাকেও সফরে নেওয়া হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ই ঠিক করে কে যাবে না যাবে।'

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সেকায়েপ প্রকল্পের অধীনে চলতি বছরে তিনটি ট্যুর আছে। এর মধ্যে ব্রাজিল ট্যুরের জন্য ১৫ জনের সরকারি আদেশও হয়ে গেছে। তাঁদের গত ৩ আগস্ট যাওয়ার কথা থাকলেও ভিসা জটিলতার কারণে এখনো যেতে পারেননি। এরপর বাকি দুটি ট্যুরে জার্মানি, ফিলিপাইন, মেক্সিকো ও বেলজিয়াম যাওয়ার কথা রয়েছে। উপবৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়েই এসব ট্যুর।

জানা যায়, ব্রাজিল ট্যুরে পরিকল্পনা, জনপ্রশাসন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, এলজিইডি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন করে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তা রয়েছেন; মাউশির দুজন, সেকায়েপ প্রকল্পের চারজন কর্মকর্তা রয়েছেন; আর দুটি কলেজের দুজন শিক্ষক রয়েছেন। মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের প্রভাষক রোকসানা আক্তার ও যশোর সরকারি সিটি কলেজের প্রভাষক সাহেদ শাহান কিভাবে ভূমিকা রাখবেন তা বুঝতে পারছেন না প্রকল্পেরও একাধিক কর্মকর্তা। তবে যাঁরা এই প্রোগ্রাম মাঠপর্যায়ে পরিচালনা করেন তাঁদের কেউ নেই। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক বা শিক্ষা কর্মকর্তাকে এই সফরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

মাউশি সূত্র জানায়, বাকি দুটি ট্যুরেও প্রায় একইভাবে কর্মকর্তাদের নির্বাচন করা হচ্ছে। তবে মাউশির উপপরিচালক পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা তিনটি ট্যুরেই নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করাতে পেরেছেন। তিনি আগেও সেকায়েপের অধিকাংশ সফরে গেছেন। আর আগে যাঁরা একাধিকবার সেকায়েপের ট্যুরে গেছেন, তাঁদের এবারও নির্বাচিত করা হয়েছে।

সেকায়েপের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বিশ্বব্যাংক এত কিছু দেখে না, ভাবেও না। তারা দেখে ঋণের টাকা খরচ করা হয়েছে কি না। এতেই তারা খুশি। আর শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের বাইরের লোক নিলেই তারা বেশি খুশি হয়। সেভাবেই আরডিপিপি করা হয়েছে। কিন্তু বাইরের লোক গিয়ে কিভাবে মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়ন ঘটাবে, তা আমরা নিজেরাই বুঝছি না। নেওয়ার দরকার ছিল মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের। অথচ তাঁরা একবারও সুযোগ পান না।'

গত বছর স্পেন, ইতালি ও যুক্তরাজ্যেও সেকায়েপ প্রকল্পের ট্যুর ছিল। ১২ জনের টিমে বেশির ভাগই ছিল প্রকল্পের বাইরের লোক। এর আগে কানাডায় ১৫ জনের একটি টিম যায়। সেখানেও ছিল একই অবস্থা।

এসব বিষয়ে সেকায়েপ প্রকল্প পরিচালক ড. মাহমুদ-উল-হকের কাছে জানতে চাইলে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, 'যারা ট্যুরে যায় তাদের সবারই এই প্রকল্পে ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে। কেউ যদি ট্যুর থেকে এসে বদলিও হয়ে যায়, তারা সেখান থেকেই ভূমিকা রাখবে। আর ট্যুরগুলো কোন দেশে হবে তা বিশ্বব্যাংক ঠিক করে দেয়। ওই সব দেশের মডেল দেখে এসে আমরা তা আমাদের দেশে কাজে লাগাই।'

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ঋণের শর্তের মধ্যেই ট্যুর আছে। তাই যাওয়াটা বাধ্যতামূলক। আমাদের দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এমন দেশ দেখার পাশাপাশি উন্নত দেশও দেখা উচিত। দুটোর সমন্বয় সাধন করেই যাওয়া উচিত। কারণ আমরা এখন আর গরিব দেশ নই। তবে সুযোগ বুঝে বেরিয়ে এলে হবে না। নানা কারণে আমি নিজে এসব ট্যুরে যাই না। তবে অবশ্যই ব্যাপারটা আরো ভাবতে হবে। পরবর্তী সময় চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেব।'

Published in:http://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2015/08/26/261022


আরো পড়ুনঃ
               

আরো পড়ুন:

বিভিন্ন সরকারী ট্রেনিং এ কারা যায়? কি করে?
'শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা' নিতে আমলারাও যাচ্ছেন বিদেশে - শিক্ষক-শিক্ষাবিদরা সুযোগ পান না
সংস্কারের বিকল্প নেই
ঔপনিবেশিক জনপ্রশাসন এবং ক্যাডার সার্ভিস সংস্কার
ক্যাডারের রাজা "প্রশাসন ক্যাডার"
প্রশাসন ক্যাডার দুর্নীতির শীর্ষে!
আমলাতন্ত্রের আমলনামা ও শিক্ষকদের অবমূল্যায়ন

Monday, August 24, 2015

বিভিন্ন সরকারী ট্রেনিং এ কারা যায়? কি করে?

 Rakib Ahmed

অফিসে ইন্দোনেশীয় পরিসংখ্যান দলের কিছু সদস্য এসেছে, প্রায়ই আসে। উদ্দেশ্য দেশে ফিরে গিয়ে অস্ট্রেলীয় অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো। অস্ট্রেলীয় সরকারের খরচে এমন সুযোগ কে না কাজে লাগাতে চাইবে। গত বছর বাংলাদেশী একটা দলও ঘুরে গেছে।
কথা হচ্ছিল আন্তর্জাতিক দলগুলোর দেখাশোনার দায়িত্বে নিয়োজিত আমাদের এক সহকর্মীর সাথে। কথাপ্রসঙ্গে জানতে পারলাম ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাপুয়ানিউগিনি সহ অপেক্ষাকৃত কম উন্নত দেশগুলোকে অস্ট্রেলীয় এইডের অংশ হিসাবে এখানে ট্রেনিং এ আনতে তাদের আগ্রহের কথা। বাংলাদেশের নামটা উহ্য থাকায় তাকে মনে করিয়ে দিতে চাইলাম। উত্তর পেলাম একেবারে অপ্রত্যাশিত - "Not any more." অপ্রস্তুত ভাবটা যতটা সম্ভব চাপা দিয়ে কারন জানতে চাইলাম। বল্লো,
- They've cancelled their trips six times.
- হয়ত বাজেট পাশ হয়নি?
- No, it's funded by the Australian Govt. 
- তাহলে?
- They couldn't simply decide who to send. Dealing with them is very time consuming. 
বুঝলাম, তাই আর কথা বাড়াতে চাইলাম না। কিন্তু ও বলেই চল্লো,
- Moreover, last time they sent mostly high level management people who had no technical interest or background. Since the first day of their week-long training they went out early for lunch break and only a few returned. The schedule wasn't followed and their interest was mainly in shopping.
- দুর্ভাগ্যজনক!
- It is unfortunate.
প্রস্থান করলাম।

রাকিব আহমেদ
পরিসংখ্যান ব্যুরো, অস্ট্রেলিয়া

Tuesday, August 18, 2015

"আজব রাষ্ট্রের শিক্ষা দর্শন"

(ড: মো: ফজলুল করিম, সহকারী অধ্যাপক, কুমামতো বিশ্ববিদ্যালয়, জাপান)

আজব রাষ্ট্র মাথা খারাপ শিক্ষক তাই মূল্যহীন,
উল্টা পাল্টা ভাবনায় আছে জাতি করতে গতিহীন।
বিশ্ব যখন শিক্ষাখাতকে অগ্রাধিকারে রাখে,
আমার দেশের প্রয়াস তখন অবনমনের বাঁকে!

প্রস্তাবিত সুপারিশে তাই শিক্ষক গেল নেমে,
চেষ্টায় আছে মূর্খ সভা কেমনে শিক্ষা থামে।
তারা ভাবে শিক্ষা দিয়ে কি আর এমন হবে?
টাকা হলে কত ডিগ্রী এমনি এমনি পাবে।

মেধা দিয়ে তো আর দেশ চলে না ওঁরা থাকুক পরে,
যাদের দরকার তাদের বাড়াও নিয়ে আসো ঘরে।
বাড়ি দাও গাড়ি দাও যত ইচ্ছে তত,
ওদের যে খুব প্রয়োজন সারাতে সকল ক্ষত!

শিক্ষক তাই হোক না শ্রীহীন আসে যায় না তাতে,
ওঁরা থাকুক কুড়ে ঘরে কোন মতে মুঠো ভাতে।
চিল্লা চিল্লি করবে ক'দিন থেমে যাবে কিছু পরে,
সুবিধাভোগী অনেকেই আছে যারা মোদের ঘরে।

হয়তো থামবে রয়ে যাবে বিশাল ক্ষত ছবি,
মেধাশূন্য দেশ টা হবে এটা সত্যি খুবই।
তবু ভাবি একদিন কেউ দেশের জন্য হবে,
সঠিক ধারায় ফিরবে দেশ অনেক গতি পাবে।

Link: http://newsoftheworld24.blogspot.kr/2015/08/blog-post_601.html